শিরোনাম

নিখোঁজ ব্যবসায়ীর লাশ পাটখেত থেকে উদ্ধার, মুক্তিপণ না দেওয়া হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর লাশ পাটখেত থেকে উদ্ধার, মুক্তিপণ না দেওয়া হত্যা
ইউসুফ ফকির

ফরিদপুর সদরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবার বলেছে, মুক্তিপণ না দেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের লোকমান খার ডাঙ্গী গ্রামের একটি পাটখেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের কাছে কয়েক দফায় ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চায় অপহরণকারীরা। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ এলাকা থেকে নিখোঁজ হন ওই ব্যবসায়ী।

হত্যাকাণ্ডের শিকার ওই ব্যবসায়ীর নাম ইউসুফ ফকির। তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের লোকমান খার ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা সেকেন ফকিরের ছেলে। ইউসুফ পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ী ছিলেন। চরমাধবদিয়া বাজারে দোকান ছিলো।

মৃতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকালে ইউসুফ ফকিরের শরীরটা কিছুটা খারাপ লাগছিল। তিনি তার স্ত্রীকে বলেন, মমিনখার হাট বাজারে গিয়ে একটা ফার্মেসি থেকে ডায়াবেটিস মাপাবেন। এই কথা বলে বাড়ি থেকে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। বাজারের কাজ শেষ করে সন্ধ্যার দিকে একটি ইজিবাইকে নিজের বাড়ির সামনে এসে নামেন। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি।

মৃতের শ্বশুর আজিজ খান বলেন, গতকাল শুক্রবার বিকালে প্রথমে আমার জামাতার মোবাইল নম্বর থেকে মেয়ের নম্বরে ফোন করে ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। এই টাকা দিলে জামাতাকে অক্ষত ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে অপহরণকারীরা। পরে তার নম্বরটি বন্ধ করে একটি আইপি নম্বর থেকে দুইবার কল দিয়ে একই টাকা দাবি করে। আমরা তার ঠিকানা জানতে চাইলে সেই ব্যক্তি ফোন কেটে দেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আলী মদ্দীন ফকির বলেন, আজ শনিবার ভোর ৬টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি পাট কাটতে বের হয়। পরে ইউসুফের বাড়ির আনুমানিক ৩০০ মিটার দূরে একটি পাটখেতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লাশটি পড়ে থাকতে দেখা যায়।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।

/এসআর/