শিরোনাম

মায়ের প্রশ্ন, কোন অপরাধে ছেলেকে হত্যা করলো পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
মায়ের প্রশ্ন, কোন অপরাধে ছেলেকে হত্যা করলো পুলিশ
মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় ডিবি পুলিশের নির্যাতনে এক যুবকের মৃত্যুর হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২০ জুন) বিকাল ৫টার দিকে ওই যুবককে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাকে তার মায়ের সামনেই প্রহার করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।

ডিবির হেফাজতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকাল ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তবে ডিবি পুলিশের দাবি, ওই যুবককে নির্যাতন করা হয়নি। তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হয়েছে। এমন কী আজ ভোরে তাকে নাস্তাও করানো হয়েছে।

মারা যাওয়া ওই যুবকের নাম মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্ত। তিনি ফরিদপুরের মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া মহল্লার বাসিন্দা মৃত এসকেন হায়দারের ছেলে। দুই ভাইয়ের মধ্যে মির্জা ইশতিয়াক বড়। তিনি ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কান্না জড়িত কণ্ঠে ইশতিয়াকের মা খাদিজা বেগম বলেন, ছেলেকে আটকের সময় তার কাছে কোনো মাদক পায়নি ডিবি পুলিশ। এমন কী বাড়ির প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি করেও মাদক সামগ্রী উদ্ধার করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, কোন অপরাধে আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে ডিবি পুলিশ নির্যাতন করে মেরেছে, তা আমি জানতে চাই। আমি এ হত্যার বিচার চাই।

মির্জা ইশতিয়াকের মামা মো. সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, শনিবার বিকাল ৫টার দিকে ভাগিনা বাড়ির সামনে ছিল। এসময় একটি মাইক্রোবাসে করে ডিবি পুলিশের ১২ থেকে ১৩ জন সদস্য ইশতিয়াককে আটক করে প্রথমে মারপিট করে। তার মা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্ব্যবহার করে। পরে ডিবি পুলিশ বাড়ির মধ্যে ঢুকে যাবতীয় জিনিসপত্র তছনছ করে। এরপর ভাগিনাকে গাড়িতে উঠিয়ে অজ্ঞাত জায়গায় নিয়ে যায়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সারারাত পরিবারের সদস্যরা মধুখালী থানা, এসপিসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে ইশতিয়াকের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। পরে রবিবার সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল থেকে খবর আসে তার মৃত্যু হয়েছে।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্ত নামের একজন আসামিকে তার বাড়ি থেকে মাদকসহ জেলা গোয়েন্দা শাখা ধরে নিয়ে আসে। তাকে আমাদের কাস্টডিতে রাখা হয়। পরবর্তীতে কাস্টডিতে থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থতা বোধ করলে তাকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি আরও জানান, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। শরীরে কোনো জখম ছিল না। তাকে কোন ধরনের আঘাত করা হয়নি। আমরা তদন্ত করব।

/এসআর/