শিরোনাম

পরকীয়ার অভিযোগে নারীকে জুতাপেটা চেয়ারম্যানের

কুমিল্লা সংবাদদাতা
কুমিল্লা সংবাদদাতা
পরকীয়ার অভিযোগে নারীকে জুতাপেটা চেয়ারম্যানের
সালিশে নারীকে জুতাপেটা করেন মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন

পরকীয়ার অভিযোগ তুলে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় এক নারীকে সালিশে জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। ওই নারীকে শাস্তি দেওয়ার নামে জুতাপেটা করেন মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার মাধবপুর ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রামের একটি সালিশে উপস্থিত লোকজনের সামনে এক নারীকে মাটিতে বসিয়ে জুতাপেটা করছেন চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন। একপর্যায়ে তিনি ওই নারীর মাথা নিচের দিকে চেপে ধরে পেটে জুতা দিয়ে আঘাত করেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, চারিপাড়া গ্রামের বিল্লাল হোসেন নামে এক যুবকের সঙ্গে ওই নারীর পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সালিশের আয়োজন করা হয়। সেখানে ওই নারী ও যুবককে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে পুরুষের বিচারের কোনো ভিডিও প্রকাশ্যে আসেনি। নারীকে জুতাপেটার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা এখনো মনে হয় অন্ধকার জগতে আছি। সবার সামনে আমাদের একজন বোনকে জুতাপেটা করা হলো, অথচ কেউ কিছু বলতে পারলাম না।’

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ওই নারী পরকীয়ায় জড়িয়েছেন। সামাজিক বিচারে যে রায় হয়েছে, তিনি সেটিই কার্যকর করেছেন। কিছু লোক ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।

তবে গ্রাম্য সালিশের নামে এভাবে শাস্তি দেওয়ার আইনগত ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী খন্দকার মিজানুর রহমান বলেন, ‘একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কোনো অপরাধে একজন নারীকে প্রকাশ্যে এভাবে জুতাপেটা করতে পারেন না। এটি গুরুতর অপরাধ। ওই নারী অপরাধী হয়েও থাকলে তাকে আইনের আওতায় সোপর্দ করা উচিত ছিলো। এভাবে গ্রাম্য সালিশের রায় বাস্তবায়নের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।’

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। কী কারণে একজন নারীকে এভাবে হেনস্তা করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এসআর/