শিরোনাম

চুরির অভিযোগে দুই যুবককে ইলেকট্রিক শক দিয়ে নির্যাতন

কুমিল্লা সংবাদদাতা
চুরির অভিযোগে দুই যুবককে ইলেকট্রিক শক দিয়ে নির্যাতন
ছবি: সংগৃহীত

চুরির অভিযোগে দুই যুবককে রশি দিয়ে বেঁধে ইলেকট্রিক শক দিয়ে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। গত শনিবার (২৮ মার্চ) এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। তবে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ওই দুই যুবক পেশাদার ‘চোর’।

গত শুক্রবার সকালে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের মনশাসন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন ওই দুই যুবক মসজিদের ব্যাটারি চুরি করতে গেলে বিষয়টি টের পান স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর দুইজনকে আটক করে মারধর ও ইলেকট্রিক শক দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

নির্যাতনের শিকার মো. নাঈম মনশাসন গ্রামের বাসিন্দা। অপর যুবক নাঈমের সহযোগী। তিনি কুমিল্লা শহরের বাসিন্দা। তবে ওই যুবকের বিস্তারিত নাম-পরিচয় জানতে পারেনি পুলিশ।

যুবক

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রশি দিয়ে দুই যুবককে বেঁধে মারধর করাসহ ইলেকট্রিক শক দিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। দুই যুবকের মধ্যে একজনকে বাধা হয় খুঁটির সঙ্গে। একাধিক ব্যক্তি তাদের নির্যাতন করছেন। পাশে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে ঘটনাটি দেখছেন, কিন্তু কেউ কিছু বলছেন না। ইলেকট্রিক শক দেওয়া মাত্রই দুই যুবক চিৎকার করে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন। তাদের একজন চিৎকার করতে করতে কানে ধরে ক্ষমা চাইলেও কেউ তাদের বাঁচাতে আসেননি।

মনশাসন গ্রামের বাসিন্দা কবিরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার ভোরে মনশাসন জামে মসজিদ থেকে মাইকের ব্যাটারি চুরির সময় নাঈম ও তার সহযোগীকে আটক করেন এলাকার লোকজন। কিছুক্ষণ তাদের শক ও মারধরের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা এলাকা থেকে পালিয়ে গেছেন। নাঈম এলাকায় পেশাদার চোর হিসেবে পরিচিত। তার যন্ত্রণায় মানুষ অতিষ্ঠ।

কুমিল্লার কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল আনোয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে শুক্রবার জুমার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ওই দুই যুবককে এলাকায় খোঁজে পাওয়া যায়নি। যেসব জিনিস দিয়ে শক দেওয়া হয়েছে, এগুলো গুরুতর কোনো শকার নয়। প্রাথমিকভাবে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ওই যুবকরা এলাকায় নিয়মিত চুরি করতেন। সর্বশেষ মসজিদের ব্যাটারি চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েন। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

/এসআর/