শিরোনাম

রসমালাইয়ে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্ত্রীকে হত্যা

কক্সবাজার প্রতিনিধি
রসমালাইয়ে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্ত্রীকে হত্যা
ছবি: সংগৃহীত

রসমালাইয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্ত্রী শাহিদা আক্তার ওরফে মুন্নিকে হত্যা করেছে স্বামী সাইফুল ইসলাম। ওষুধ মেশানো মিষ্টি খেয়ে শাহিদা অচেতন হয়ে পড়লে সাইফুল ছুরি দিয়ে গলা কাটে। তারপর মরদেহের পরিচয় গোপন করতে তিনি শাহিদার শরীর থেকে মাথা ও দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করেন।

গত মঙ্গলবার ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার বিকালে (১৫ এপ্রিল) কক্সবাজারে এনে সাইফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, হত্যার একদিন পর শাহিদার মাথা ও হাতবিহীন দেহাংশটি একটি ডোবায় ফেলে দেন সাইফুল ইসলাম। শরীর থেকে আলাদা করা মাথা ও হাতের কবজি ৭ কিলোমিটার দূরে নদীতে নিক্ষেপ করেন।

১১ এপ্রিল বিকালে কক্সবাজার শহরতলির জানারঘোনা এলাকার একটি ডোবা থেকে মাথা ও দুই হাতের কবজিবিহীন অবস্থায় শাহিদার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুরুতে পুলিশ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। তবে শাহিদার স্বজন ও এলাকাবাসী শরীরের কাপড় দেখে মরদেহ শনাক্ত করেন। ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর কক্সবাজারে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই হত্যার কথা স্বীকার করেন সাইফুল।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল ইসলাম বলেন, গত ২৬ মার্চ রাতে তিনি স্ত্রীকে হত্যা করেন। হত্যার একদিন পর শাহিদার মাথা ও হাতবিহীন দেহাংশটি ঝিলংজা এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেন। শরীর থেকে আলাদা করা মাথা ও হাতের কবজি ৭ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীতে নিক্ষেপ করেন। এরপর তিনি আত্মগোপন করতে ঢাকায় চলে যান।

সাইফুল ইসলাম মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটা ইউনিয়নের দাসিমাঝি পাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে। নিহত শাহিদা আক্তার মুন্নি একই উপজেলার চরপাড়ার আমান উল্লাহর মেয়ে। কয়েক বছর আগে দুই জনের বিয়ে হয়।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমিউদ্দিন বলেন, সাইফুলের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ বুধবার বিকাল থেকে বাঁকখালী নদীতে নিক্ষেপ করা মুন্নির মাথার সন্ধান করছে। এর আগে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, ঘুমের ওষুধ মেশানো রসমালাইয়ের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়। সাইফুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এসআর/