শিরোনাম

এক বাগানেই হরেক রকম ফল, বছরে আয় ২ কোটি টাকা

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা
এক বাগানেই হরেক রকম ফল, বছরে আয় ২ কোটি টাকা
বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে রামবুটান

দেশি জাতের ফলের পাশাপাশি প্রচুর বিদেশি ফলের চাষ হয় বাগানটিতে। এখান থেকে বছরের নির্দিষ্ট সময় নয়, ফল পাওয়া যায় ১২ মাস। বাগানটি গড়ে তুলেছেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের তরুণ সজল আহমেদ।

তবে শুরুতেই সাফল্য আসেনি তার। এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে। বছরের পর বছরের চেষ্টায় দেশি-বিদেশি প্রায় ৫৫০ প্রজাতির ফল নিয়ে গড়ে তুলেছেন বিশাল এক বাগান। ১৩৯ বিঘা জমিতে একের পর এক নতুন জাতের ফল গাছ যুক্ত করেছেন তিনি।

উদ্যোক্তা সজল আহমেদ বলেন, ‘প্রতিবছর প্রায় দুই কোটি টাকার মাল্টা, কমলা বিক্রি হয়। এছাড়া, পেয়ারা, বরই, সজনা, বারমাসি লাল তেঁতুল, রামবুটান, অ্যাভোকাডো, কাঁঠাল এগুলো বিক্রি করে আয় ছয় থেকে সাত কোটি টাকা। এর মধ্যে শ্রমিক ও জমি লিজ বাবদ খরচ হয় চার থেকে পাঁচ কোটি টাকা। এসব বাদ দিয়ে বছরে দুই কোটি টাকার মতন লাভ থাকে।’

বাগানে ঢুকলেই চোখে পড়ে গাছে গাছে ঝুলে থাকা নানা রং, আকার ও বৈচিত্রের ফল। কোথাও দেশি, কোথাও বিদেশি ফল। এক বাগানেই মিলছে হরেক রকম ফলের বিশাল সংগ্রহ।

এসএসসি পাস করা তরুণ সজল মাত্র সাত বিঘা জমিতে ফল চাষ শুরু করেন। নতুন কিছু করার আগ্রহ আর পরিশ্রমে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তার পরিধি। এক সময়ের সাত বিঘার সেই উদ্যোগে ছড়িয়ে পড়ে কয়েক একরের এক বিশাল বাগানে।

তিনি বলেন, ‘২০১০ সালের দিকে আমার এই এগ্রিকালচারের ওপর একটা নেশা ধরে যায়। প্রথমে শুরু করছিলাম পেয়ারা-বরই দিয়ে। পরে মাল্টার চাষ করেছি। আমার কাছে টোটাল ১৯৭টা মাল্টা-কমলার ভ্যারাইটি আছে, যেগুলো বাংলাদেশে সর্বপ্রথম আমি চাষ করেছি।’

অ্যাভোকাডো
অ্যাভোকাডো

শুধু নিজের বাগানেই ফল উৎপাদন নয়, নতুন নতুন জাত সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া ও ১২ মাস ফল উৎপাদনের লক্ষ্যেও কাজ করছেন সজল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘৫৫০ প্রকারের ফল নিয়ে কাজ করছি। আমাদের কাছে আমেরই ভ্যারাইটি আছে ১০৪টা। কাঁঠাল আছে চার প্রকারের, লাল কাঁঠাল, পিঙ্ক কাঁঠাল, বারমাসি ভিয়েতনামী কাঁঠাল ও সবুজ কাঁঠাল। এই কাঁঠালগুলো বাংলাদেশে আমাদের হাত ধরে এসেছে।’

রোগবালাই, আবহাওয়ার পরিবর্তন, বাজারদর, শ্রমিক সংকটসহ নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। কিন্তু সমস্যাকে মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে গেছেন এই উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, ‘চাষ করতে গেলে আপনার প্রতিবন্ধকতা তো থাকবেই। যখন সার দেওয়া লাগে তখন সার দেওয়া হয়, যখন স্প্রে করা লাগে তখন স্প্রে করা হয়। তারপর অনেক সময় দেখা যায় দুর্যোগে অনেক ফল পড়ে যায়, চাষ করতে গেলে এ রকম সমস্যা থাকবে।’

এই উদ্যোগে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নতুন নতুন জাতের ফল চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন তারা।

জীবননগর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এখানে ফসলের নিবিড়তা অনেক বেশি, এজন্য প্রচুর রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয়। রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈব সারও ব্যবহার করতে হয় জমিতে। জৈব সারকে আমরা বলি মাটির প্রাণ, জৈব সার কমে গেলে মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যায়। তখন কাঙ্ক্ষিত ফসল পাওয়া যাবে না। এজন্য আমাদের পরামর্শ জমিতে যথেষ্ট জৈব সার ব্যবহার করতে হবে।’

প্রায় ৫৫০ প্রজাতির ফল নিয়ে সজলের এই উদ্যোগ শুধু তার নিজের ভাগ্যই বদলায়নি, পথ দেখাচ্ছে দেশের মাটিতে নতুন ধরনের ফল চাষের সম্ভাবনাও।

/এসআর/