শিরোনাম

গাবতলী মাঠ দখলমুক্ত করার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
গাবতলী মাঠ দখলমুক্ত করার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
গাবতলী মাঠ পরিদর্শনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

রাজধানীর মিরপুর মাজার রোড সংলগ্ন ঐতিহাসিক গাবতলী খেলার মাঠের অবৈধ দখল উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। রোববার (১৯) ১০৭ বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী মাঠটি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মাঠ পরিদর্শন শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, এই মাঠে কাজী সালাউদ্দীন থেকে শুরু করে আমি নিজেও ফুটবল খেলেছি। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারা দেশের গ্রামীণ জনপদসহ ঢাকা মহানগরের যেখানেই খেলার মাঠ দখলদারদের কবলে আছে, তা উদ্ধার করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রতিটি মাঠকে খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।

গাবতলী মাঠের আইনি জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে আদালতের একটি রায় রয়েছে। আমরা আদালতের প্রতি সম্মান রেখেই আইনি প্রক্রিয়া মোকাবিলা করে মাঠের বৃহৎ অংশটি দখলমুক্ত করব। এখানে কোনোভাবেই অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না। এটি এলাকাবাসী ও স্কুলের শিশুদের খেলার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এসময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমরা সরেজমিনে দেখেছি–মাঠের চার ভাগের দুই ভাগের বেশি অংশে অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। আইন ও আদালত জনগণের কল্যাণের জন্য। সিটি কর্পোরেশনের আওতায় যত অবৈধ স্থাপনা আছে, তার সব উচ্ছেদ করা হবে।

গাবতলী মাঠ পরিদর্শনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ও ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খানসহ অন্যরা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
গাবতলী মাঠ পরিদর্শনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ও ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খানসহ অন্যরা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

তিনি আরও বলেন, আমরা স্থানীয় সুধীজনদের সাথে কথা বলে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেব, এর মধ্যে দখল না ছাড়লে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মাঠ শুধু খেলাধুলা নয়, এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সমাবেশের জন্যও উন্মুক্ত রাখা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১০৭ বছর আগে মরহুম মুন্সি লাল মিয়া মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুলের নামে ১.৭ একর আয়তনের এই মাঠটি ওয়াক্ফ করে গিয়েছিলেন। এটি ঢাকা-১৪ আসনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের একমাত্র খেলার মাঠ।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক মদদে মাঠের তত্ত্বাবধায়ক বাবলা নামের এক ব্যক্তি করোনা মহামারির সময় রাতের আঁধারে মাঠের জায়গা দখল করে অবৈধ ভবন ও দোকানপাট নির্মাণ করেন। তৎকালীন সংসদ সদস্য আসলামের ছত্রছায়ায় মাঠের জমি বিভিন্ন জনের কাছে ইজারা দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়।

বর্তমানে মাঠটি সংকুচিত হয়ে পড়ায় আশপাশের ১০টিরও বেশি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে গেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে মাঠটি তার পুরনো রূপে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। মাঠটি রক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

/এফআর/