শিরোনাম

ঈদযাত্রা সামনে রেখে সদরঘাটে প্রস্তুত লঞ্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঈদযাত্রা সামনে রেখে সদরঘাটে প্রস্তুত লঞ্চ
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে সদরঘাটের লঞ্চগুলো পরিপাটি করে তোলা হয়েছে। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন নৌরুটে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছেন সদরঘাটের লঞ্চ মালিকরা। লঞ্চের ফিটনেস, নিরাপত্তা দেখে নেওয়ার পাশাপাশি করা হয়েছে সাজসজ্জার কাজ। এরইমধ্যে বেশির ভাগ লঞ্চকেই পরিপাটি করে তোলা হয়েছে।

২০২২ সালে পদ্মা সেতু চালুর পর নৌপথে যাত্রী হঠাৎকরেই কমে যায়। তবে ঈদ এলেই নদীপথে যাত্রীদের আবার চাপ বাড়তে শুরু করে।

প্রতি বছর ঈদের সময় ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াতের জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ নৌপথ বেছে নেন। বিশেষ করে পদ্মা ও মেঘনা নদীবেষ্টিত বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি ও চাঁদপুর অঞ্চলের মানুষের কাছে লঞ্চ এখনও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। ফলে ঈদের আগে থেকেই এসব রুটে যাত্রী বেড়ে যায়।

বুধবার (১১ মার্চ) সরেজমিনে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে প্রস্তুতির ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন লঞ্চে রঙ করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ছোটখাটো সংস্কারের কাজ চলছে। শ্রমিক ও কর্মচারীরা ডেক, কেবিন ও যাত্রী বসার স্থান গুছিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও কোথাও লঞ্চের ইঞ্জিন ও অন্যান্য যন্ত্রপাতিও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘাট এলাকায় যাত্রী ওঠানামার স্থানগুলোও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে রাজধানীর সদরঘাটে ব্যস্ততা বেড়েছে। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে রাজধানীর সদরঘাটে ব্যস্ততা বেড়েছে। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের সময় হঠাৎ করেই যাত্রীচাপ বাড়ে। তাই আগে থেকেই লঞ্চগুলো চলাচলের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। নিরাপত্তা সরঞ্জাম যেমন লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়া ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ঠিকঠাক আছে কি না, সেগুলোও পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি লঞ্চে দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের যাত্রী ব্যবস্থাপনা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে লঞ্চে তেল সরবরাহের সংকটের কথাও জানিয়েছেন অনেকে।

সদরঘাটে বরিশালগামী একটি লঞ্চের কর্তৃপক্ষ মো. নাসির উদ্দিন বলেন, সারা বছর লঞ্চে আগের মতো যাত্রী থাকে না। তবে ঈদের সময় ঘাটে মানুষের ঢল নামে। তখন আমাদের কাজের চাপও অনেক বেড়ে যায়। ঈদের আগে লঞ্চ পরিষ্কার করা, ডেক গুছিয়ে রাখা এবং কেবিন ঠিকঠাক করার কাজ করি, যাতে যাত্রীরা স্বস্তিতে ভ্রমণ করতে পারেন। তবে এবারের ঈদে ইরান যুদ্ধে তেল সংকট নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি।

ভোলা রুটে চলাচলকারী লঞ্চের শ্রমিক মো. কামাল হোসেন জানান, ঈদের সময় অনেক পরিবার একসঙ্গে গ্রামে যায়। তাই যাত্রী ওঠানামার সময় সবাইকে নিরাপদে ওঠানো-নামানোর দিকে বিশেষভাবে নজর রাখা হয়।

এদিকে নদীপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের টহল বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাতের যাত্রায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ঈদ উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। ঈদের কয়েক দিন আগে থেকেই এখানে হাজার হাজার মানুষ গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন। বিষয়টি মাথায় রেখে ঘাট ব্যবস্থাপনায়ও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যাত্রী ওঠানামা সহজ করা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারা জানান, ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), নৌপুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে লঞ্চ পরিচালনার বিষয়েও মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে।

নৌপথে যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ঈদের আগে ও পরে অতিরিক্ত ট্রিপ চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। এতে যাত্রীচাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে নদীপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের টহল বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাতের যাত্রায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহাগ রানা বলেন, ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। এরইমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় সভা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে, যাতে যাত্রীরা স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারেন।

/এফসি/