ঢাকার পানির সংকট কমাতে দিনে সরবরাহ হবে ৪৫ কোটি লিটার

ঢাকার পানির সংকট কমাতে দিনে সরবরাহ হবে ৪৫ কোটি লিটার
আয়নাল হোসেন

রাজধানীর বড় একটি অংশের পানির সংকট দূর করতে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প (ফেজ–৩) বাস্তবায়ন করছে সরকার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মেঘনা নদীর পানি পরিশোধন করে সরবরাহ করা হবে। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতাও অনেক কমবে।
ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ শেষ হলে রাজধানীর মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ৬০ লাখের বেশি মানুষ সরাসরি সুপেয় পানি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের খুঁটিনাটি
সরকার ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা।
প্রকল্পের আওতায় মেঘনা নদীর (নারায়ণগঞ্জের হাড়িয়া) পানি সংগ্রহের জন্য দৈনিক ৯৫ কোটি লিটার ক্ষমতার একটি ইনটেক পাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। সেই পানি প্রায় ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে সায়েদাবাদ শোধনাগারে আনা হবে। সায়েদাবাদে দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পানি শোধন ক্ষমতার একটি নতুন শোধনাগার এবং পূর্ববর্তী ফেজগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পের অর্থের উৎস
এই প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা অর্থায়ন করছে। এর মধ্যে প্যাকেজ-১ (ইনটেক ও ট্রান্সমিশন পাইপলাইন) অংশের অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি), জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক (কেএফডব্লিউ) এবং ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)।
প্যাকেজ-২-এ (পানি শোধনাগার ও স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার এবং ডেনিশ সাস্টেইনেবল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্সের (ডিএসআইএফ)।
প্যাকেজ-৩.১ ও ৩.২ (ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক) অংশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পানির লাইন স্থাপনের কাজে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা এবং জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক।
এই প্রকল্প কেন গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমানে ঢাকা শহরের অধিকাংশ পানি সরবরাহ করা হয় ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোই এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য।
যেসব এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি বড় অংশ এবং ঢাকা-নায়ায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণ অঞ্চলে কমলাপুর, আরামবাগ সার্কুলার রোড, শাহজাহানপুর, মতিঝিল ও গোপীবাগ এবং পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের খিলগাঁও, গোড়ান, বাসাবো, মাদারটেক, বনশ্রী, নন্দিপাড়া ও তিলপাপাড়া এবং যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা অঞ্চলের যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, দনিয়া, রায়েরবাগ, মাতুয়াইল, মৃধাবাড়ি, কোনাপাড়া, বাঁশেরপুল, সারুলিয়া ও ডগাইর এলাকা রয়েছে।
এ ছাড়া এই প্রকল্পের আওতায় কাকরাইল ভিআইপি রোড (কাকরাইল মসজিদ পর্যন্ত), শান্তিনগর, মগবাজার, বেইলি রোড, সাইনবোর্ড এবং পাগলা এবং ডিএনডি এলাকার আংশিক বা কোথাও সম্পূর্ণ অংশ রয়েছে।
কাজের অগ্রগতির চিত্র
এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার প্রকল্প পরিচালক আবদুল মজিদ সিটিজেন জার্নালকে বলেন, প্রকল্পের কাজ অনেক আগেই শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ ২০২৯ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নদী দূষণ নিয়ে আছে উদ্বেগ
নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবীব সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ঢাকার পানি ও পয়োনিষ্কাশনের দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর করতে ১৯৯৭ সালে একটি মাস্টারপ্ল্যান করা হয়েছিল। ঢাকার চারপাশের যে চারটি নদী রয়েছে সেগুলোর পানি পরিশোধন করে ব্যবহার করা যেতো। কিন্তু ঢাকার চারপাশের নদীর পাড়ে অনেক কলকারখানা গড়ে তেঅরা হয়েছে। এসব কল–কারখানা থেকে সৃষ্ট বর্জ্য পানি ও পরিবেশকে দূষিত করছে। ঢাকা ওয়াসা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে দেশের জন্মলগ্ন থেকে উন্নত করতে পারেনি। মাত্র ১৭ শতাংশ পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। এজন্য ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত রেখে বৃষ্টির যে পানি নদীতে জমা হবে তা পরিশোধন করে ব্যবহার করতে পারলে সুবিধা হবে। আর মেঘনার পানিও যে দূষিত না, সেটিও বলা যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে নদীর পানি সবার আগে দূষণমুক্ত করতে হবে। এরপর বৃষ্টির পানি ধরে রেখে সেই পানি পরিশোধন করে রাজধানীবাসীর চাহিদা মেটানো সম্ভব। তাই সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের মাধ্যমে শোধিত পানি সরবরাহের জন্য বিশাল এলাকাজুড়ে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। জুলাই ২০১৫ থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২৯ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ হবে।

রাজধানীর বড় একটি অংশের পানির সংকট দূর করতে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প (ফেজ–৩) বাস্তবায়ন করছে সরকার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মেঘনা নদীর পানি পরিশোধন করে সরবরাহ করা হবে। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতাও অনেক কমবে।
ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ শেষ হলে রাজধানীর মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ৬০ লাখের বেশি মানুষ সরাসরি সুপেয় পানি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের খুঁটিনাটি
সরকার ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা।
প্রকল্পের আওতায় মেঘনা নদীর (নারায়ণগঞ্জের হাড়িয়া) পানি সংগ্রহের জন্য দৈনিক ৯৫ কোটি লিটার ক্ষমতার একটি ইনটেক পাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। সেই পানি প্রায় ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে সায়েদাবাদ শোধনাগারে আনা হবে। সায়েদাবাদে দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পানি শোধন ক্ষমতার একটি নতুন শোধনাগার এবং পূর্ববর্তী ফেজগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পের অর্থের উৎস
এই প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা অর্থায়ন করছে। এর মধ্যে প্যাকেজ-১ (ইনটেক ও ট্রান্সমিশন পাইপলাইন) অংশের অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি), জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক (কেএফডব্লিউ) এবং ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)।
প্যাকেজ-২-এ (পানি শোধনাগার ও স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার এবং ডেনিশ সাস্টেইনেবল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্সের (ডিএসআইএফ)।
প্যাকেজ-৩.১ ও ৩.২ (ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক) অংশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পানির লাইন স্থাপনের কাজে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা এবং জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক।
এই প্রকল্প কেন গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমানে ঢাকা শহরের অধিকাংশ পানি সরবরাহ করা হয় ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোই এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য।
যেসব এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি বড় অংশ এবং ঢাকা-নায়ায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণ অঞ্চলে কমলাপুর, আরামবাগ সার্কুলার রোড, শাহজাহানপুর, মতিঝিল ও গোপীবাগ এবং পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের খিলগাঁও, গোড়ান, বাসাবো, মাদারটেক, বনশ্রী, নন্দিপাড়া ও তিলপাপাড়া এবং যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা অঞ্চলের যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, দনিয়া, রায়েরবাগ, মাতুয়াইল, মৃধাবাড়ি, কোনাপাড়া, বাঁশেরপুল, সারুলিয়া ও ডগাইর এলাকা রয়েছে।
এ ছাড়া এই প্রকল্পের আওতায় কাকরাইল ভিআইপি রোড (কাকরাইল মসজিদ পর্যন্ত), শান্তিনগর, মগবাজার, বেইলি রোড, সাইনবোর্ড এবং পাগলা এবং ডিএনডি এলাকার আংশিক বা কোথাও সম্পূর্ণ অংশ রয়েছে।
কাজের অগ্রগতির চিত্র
এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার প্রকল্প পরিচালক আবদুল মজিদ সিটিজেন জার্নালকে বলেন, প্রকল্পের কাজ অনেক আগেই শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ ২০২৯ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নদী দূষণ নিয়ে আছে উদ্বেগ
নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবীব সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ঢাকার পানি ও পয়োনিষ্কাশনের দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর করতে ১৯৯৭ সালে একটি মাস্টারপ্ল্যান করা হয়েছিল। ঢাকার চারপাশের যে চারটি নদী রয়েছে সেগুলোর পানি পরিশোধন করে ব্যবহার করা যেতো। কিন্তু ঢাকার চারপাশের নদীর পাড়ে অনেক কলকারখানা গড়ে তেঅরা হয়েছে। এসব কল–কারখানা থেকে সৃষ্ট বর্জ্য পানি ও পরিবেশকে দূষিত করছে। ঢাকা ওয়াসা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে দেশের জন্মলগ্ন থেকে উন্নত করতে পারেনি। মাত্র ১৭ শতাংশ পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। এজন্য ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত রেখে বৃষ্টির যে পানি নদীতে জমা হবে তা পরিশোধন করে ব্যবহার করতে পারলে সুবিধা হবে। আর মেঘনার পানিও যে দূষিত না, সেটিও বলা যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে নদীর পানি সবার আগে দূষণমুক্ত করতে হবে। এরপর বৃষ্টির পানি ধরে রেখে সেই পানি পরিশোধন করে রাজধানীবাসীর চাহিদা মেটানো সম্ভব। তাই সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের মাধ্যমে শোধিত পানি সরবরাহের জন্য বিশাল এলাকাজুড়ে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। জুলাই ২০১৫ থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২৯ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ হবে।

ঢাকার পানির সংকট কমাতে দিনে সরবরাহ হবে ৪৫ কোটি লিটার
আয়নাল হোসেন

রাজধানীর বড় একটি অংশের পানির সংকট দূর করতে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প (ফেজ–৩) বাস্তবায়ন করছে সরকার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মেঘনা নদীর পানি পরিশোধন করে সরবরাহ করা হবে। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতাও অনেক কমবে।
ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ শেষ হলে রাজধানীর মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ৬০ লাখের বেশি মানুষ সরাসরি সুপেয় পানি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের খুঁটিনাটি
সরকার ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা।
প্রকল্পের আওতায় মেঘনা নদীর (নারায়ণগঞ্জের হাড়িয়া) পানি সংগ্রহের জন্য দৈনিক ৯৫ কোটি লিটার ক্ষমতার একটি ইনটেক পাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। সেই পানি প্রায় ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে সায়েদাবাদ শোধনাগারে আনা হবে। সায়েদাবাদে দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পানি শোধন ক্ষমতার একটি নতুন শোধনাগার এবং পূর্ববর্তী ফেজগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পের অর্থের উৎস
এই প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা অর্থায়ন করছে। এর মধ্যে প্যাকেজ-১ (ইনটেক ও ট্রান্সমিশন পাইপলাইন) অংশের অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি), জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক (কেএফডব্লিউ) এবং ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)।
প্যাকেজ-২-এ (পানি শোধনাগার ও স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার এবং ডেনিশ সাস্টেইনেবল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্সের (ডিএসআইএফ)।
প্যাকেজ-৩.১ ও ৩.২ (ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক) অংশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পানির লাইন স্থাপনের কাজে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা এবং জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক।
এই প্রকল্প কেন গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমানে ঢাকা শহরের অধিকাংশ পানি সরবরাহ করা হয় ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোই এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য।
যেসব এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি বড় অংশ এবং ঢাকা-নায়ায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণ অঞ্চলে কমলাপুর, আরামবাগ সার্কুলার রোড, শাহজাহানপুর, মতিঝিল ও গোপীবাগ এবং পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের খিলগাঁও, গোড়ান, বাসাবো, মাদারটেক, বনশ্রী, নন্দিপাড়া ও তিলপাপাড়া এবং যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা অঞ্চলের যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, দনিয়া, রায়েরবাগ, মাতুয়াইল, মৃধাবাড়ি, কোনাপাড়া, বাঁশেরপুল, সারুলিয়া ও ডগাইর এলাকা রয়েছে।
এ ছাড়া এই প্রকল্পের আওতায় কাকরাইল ভিআইপি রোড (কাকরাইল মসজিদ পর্যন্ত), শান্তিনগর, মগবাজার, বেইলি রোড, সাইনবোর্ড এবং পাগলা এবং ডিএনডি এলাকার আংশিক বা কোথাও সম্পূর্ণ অংশ রয়েছে।
কাজের অগ্রগতির চিত্র
এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার প্রকল্প পরিচালক আবদুল মজিদ সিটিজেন জার্নালকে বলেন, প্রকল্পের কাজ অনেক আগেই শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ ২০২৯ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নদী দূষণ নিয়ে আছে উদ্বেগ
নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবীব সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ঢাকার পানি ও পয়োনিষ্কাশনের দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর করতে ১৯৯৭ সালে একটি মাস্টারপ্ল্যান করা হয়েছিল। ঢাকার চারপাশের যে চারটি নদী রয়েছে সেগুলোর পানি পরিশোধন করে ব্যবহার করা যেতো। কিন্তু ঢাকার চারপাশের নদীর পাড়ে অনেক কলকারখানা গড়ে তেঅরা হয়েছে। এসব কল–কারখানা থেকে সৃষ্ট বর্জ্য পানি ও পরিবেশকে দূষিত করছে। ঢাকা ওয়াসা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে দেশের জন্মলগ্ন থেকে উন্নত করতে পারেনি। মাত্র ১৭ শতাংশ পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। এজন্য ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত রেখে বৃষ্টির যে পানি নদীতে জমা হবে তা পরিশোধন করে ব্যবহার করতে পারলে সুবিধা হবে। আর মেঘনার পানিও যে দূষিত না, সেটিও বলা যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে নদীর পানি সবার আগে দূষণমুক্ত করতে হবে। এরপর বৃষ্টির পানি ধরে রেখে সেই পানি পরিশোধন করে রাজধানীবাসীর চাহিদা মেটানো সম্ভব। তাই সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের মাধ্যমে শোধিত পানি সরবরাহের জন্য বিশাল এলাকাজুড়ে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। জুলাই ২০১৫ থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২৯ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ হবে।




