শিরোনাম

জিয়ার শাহাদাত বার্ষিকীতে জবিতে নেই ছাত্রদলের কর্মসূচি

শেখ শাহরিয়ার হোসেন
জিয়ার শাহাদাত বার্ষিকীতে জবিতে নেই ছাত্রদলের কর্মসূচি

শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে সারাদেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলকে দেখা গেছে নীরব ভূমিকায়। দিবসটি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো দৃশ্যমান কর্মসূচি না থাকায় শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

গত শনিবার (৩০ মে) দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা ও মহানগরে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা, খাবার বিতরণ ও স্মরণসভাসহ নানা আয়োজন করা হলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচি পালন করা হয়নি বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির সঙ্গে বিএনপির একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ২০০৫ সালে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। ফলে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির রাজনৈতিক ও আবেগি সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি ছাত্রনেতাদের।

এমন প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে কর্মসূচিহীনতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো নির্দেশনা না থাকায় জবি ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী নয়ন হাসান বলেন, জিয়াউর রহমান শুধু বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা নন, জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতীক। অথচ তার শাহাদাত বার্ষিকীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো কর্মসূচি না থাকা হতাশাজনক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জবি ছাত্রদলের এক যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, যে বিশ্ববিদ্যালয় বিএনপি সরকারের সময় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ পেয়েছে, সেখানে প্রতিষ্ঠাতার শাহাদাত বার্ষিকীতে ন্যূনতম দোয়া মাহফিলও না হওয়া দুঃখজনক। এতে সংগঠনের সাংগঠনিক দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচব শামসুল আরেফিনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অধস্তন নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দিবসগুলোতে সংগঠনকে সক্রিয় রাখা এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেতৃত্বের ওপরই বর্তায়। কিন্তু এবারের শাহাদাত বার্ষিকীতে নেতৃত্বের নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতা কর্মীদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

সংগঠনের একটি অংশ মনে করছে, জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে কর্মসূচিহীনতা শুধু সাংগঠনিক দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আগামী দিনে এ বিষয়ে সংগঠনের ভেতরে আলোচনা ও জবাবদিহিতা বাড়তে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাবের প্রচার সম্পাদক তারেক বিন আতিক বলেন, যেহেতু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। সুতরাং শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠান সমীচীন। আমরা আলোচনা করছি, আশা করি খুব দ্রুতই দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করবো ইনশাআল্লাহ।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও বিভিন্ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী নেতাকর্মীরা এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন। তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ উপলক্ষে আলাদা কোনো কর্মসূচি বা ইভেন্টের আয়োজন করা হয়নি। আমাদের নেতাকর্মীরা ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিকভাবে বিভিন্ন স্থানের কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত।

/এমআর/