শিরোনাম

জবিতে একই খাতে দুই নামে ফি আদায়

জবি প্রতিনিধি
জবিতে একই খাতে দুই নামে ফি আদায়
ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একই খাতে ভিন্ন নামে ফি আদায়ের অভিযোগে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ‘ইউনিয়ন ফি’ ও ‘কেন্দ্রীয় সংসদ ফি’– এই দুই নামে বছরের পর বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হলেও এর কোনো স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ না করার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একই খাতে দ্বৈত ফি আদায়ের মাধ্যমে এক ধরনের অস্বচ্ছ আর্থিক প্রক্রিয়া চালু রাখা হয়েছে, যা অনৈতিক এবং সরাসরি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৫ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল সংসদ আইন পাস হওয়ার পর প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০০ টাকা হারে ‘কেন্দ্রীয় সংসদ ফি’ নির্ধারণ করা হয়। তবে আগে থেকেই ‘ইউনিয়ন ফি’ নামে বছরে ৫০ টাকা করে আদায় চলছিল, যা এখনো বন্ধ হয়নি। ফলে একই উদ্দেশ্যে দুই নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী থাকায় শুধু ‘ইউনিয়ন ফি’ থেকেই বছরে প্রায় ৬ লাখ টাকা আদায় হচ্ছে। ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই ফি নেওয়া হয়ে থাকলে এখন পর্যন্ত এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার মতো। তবে এই অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিতভাবে দ্বৈত অর্থ আদায়ের একটি কৌশল, যা তাদের ওপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। তারা বলছেন, একই খাতে পৃথক নামে ফি আদায় এবং এর কোনো জবাবদিহি না থাকা উদ্বেগজনক।

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, একই খাতে দুই নামে ফি নেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। আগে ইউনিয়ন ফি ছিল, এখন আবার সংসদ ফি। তাহলে এই অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কারণ কী? ইউনিয়ন ফি বলতে তো আমরা শিক্ষার্থী সংসদের ফি-এর টাকাকেই বুঝি।

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী গৌরাঙ্গ দাস বলেন, আমরা নিয়মিত বিভিন্ন খাতে ফি দিচ্ছি, কিন্তু এই অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে তা জানার কোনো সুযোগ নেই। প্রশাসনের উচিত দ্রুত বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করা। ছাত্র সংসদ ফি চালুর পর আলাদা করে ইউনিয়ন ফি নেওয়ার যৌক্তিকতা দেখি না। এটি বন্ধ করে আগের টাকার হিসাব প্রকাশ করা দরকার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ডেপুটি রেজিস্ট্রার জানান, ইউনিয়ন ফি কোন খাতে ব্যয় হয় সে বিষয়ে তারও স্পষ্ট ধারণা নেই। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত হলেও এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম সিটিজেন জার্নালকে বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে কোষাধ্যক্ষ ম্যামের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন যে এই টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক সংগঠনের জন্য ব্যয় করা হয়। তবে সরকার থেকে কত টাকা আসে এবং এই টাকা আদৌ এসব সংগঠনে পায় কিনা সেটার জবাবদিহিতা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও উপাচার্যের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের মতামত জানা সম্ভব হয়নি।

/এফসি/