শিরোনাম

রাঙামাটি-বান্দরবানে ধর্ষণের ঘটনায় গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের ক্ষোভ

ঢাবি সংবাদদাতা
রাঙামাটি-বান্দরবানে ধর্ষণের ঘটনায় গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের ক্ষোভ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল। ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটিতে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও বান্দরবানে ৫ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মোর্চা ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট’। একইসঙ্গে, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সমাজের সর্বক্ষেত্রে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এসব ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২৫ মে) সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে জোটের নেতৃবৃন্দ এই দাবি জানান।

বিবৃতিতে রাঙামাটির ঘটনার বিবরণ দিয়ে নেতারা বলেন, গত ২৩ মে (শনিবার) রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ২ নং কেংড়াছড়ি ইউনিয়নের ক্যারংছড়ি এলাকায় আব্দুল গফুর শেখ নামের এক ব্যক্তি নবম শ্রেণির এক পাহাড়ি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ওই ছাত্রী বিকাল ৪টার দিকে প্রাইভেট পড়া শেষে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অভিযুক্তের কাছ থেকে কেবল একটি মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছেন, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। এর আগে, রাঙামাটি সদর উপজেলার ৫ নং বন্দুকভাঙা ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী এক চাকমা কিশোরী সাইফুল নামের এক মৎস্য ব্যবসায়ী কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হলেও এখনো সেই ঘটনার বিচার হয়নি।

বান্দরবানের ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলা হয়, রবিবার (২৪ মে) বান্দরবানে ৫ বছরের এক ত্রিপুরা শিশু বিজয় বড়ুয়া নামের এক ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, স্থানীয় পাহাড়ি জনতা এই ঘটনার বিচার চাইতে গেলে বিজিবি উল্টো তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং বাধা প্রদান করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন আচরণ মানুষের বিচার পাবার গণতান্ত্রিক অধিকার এবং গোটা বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেন নেতারা।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ বলেন, পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের দৃশ্যপট এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, সেখানে কোনো শিশু বা নারী ধর্ষণের শিকার হলে তা কৌশলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আটকে দেওয়া হয় ভুক্তভোগীর মেডিক্যাল রিপোর্ট। পাহাড়ে এ পর্যন্ত যতগুলো ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে, তার কোনোটিরই নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার হয়নি। রাষ্ট্র সব নাগরিকের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির কথা বললেও বাস্তবে জাতিগোষ্ঠীগুলোর ওপর দমন-পীড়ন ও বৈষম্য জিইয়ে রেখেছে।

এছাড়া, সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ছাত্রনেতারা বলেন, সম্প্রতি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ভালুকিয়া পাড়া এলাকায় নিজেদের কলা বাগানে কাজ করতে গিয়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসার পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে স্থানীয় তিন তঞ্চঙ্গ্যা গ্রামবাসী নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও দেশের ভেতরে বিদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠীর এমন কার্যক্রম কীভাবে সম্ভব হচ্ছে, তা গভীর চিন্তার উদ্রেক করে।

বিবৃতির শেষে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে নারী-শিশুর নিরাপত্তা জোরদার এবং রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক সব ধর্ষণ-হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি দিলীপ রায়, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি ছায়েদুল হক নিশান, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সমর চাকমা এবং বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সভাপতি তাওফিকা প্রিয়া।

/এমআর/