শিরোনাম

তিতুমীরের শিক্ষার্থীদের ঈদে বাড়ি ফেরার গল্প

তিতুমীর কলেজ সংবাদদাতা
তিতুমীরের শিক্ষার্থীদের ঈদে বাড়ি ফেরার গল্প
সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার, মহিবুল্লাহ সিফাত, আয়শা ইসলাম, নাফিস হাসান সাকি, তাহিয়া ইসলাম, মো. সোহেল ফরায়েজী, মো. জাহিদ হাছান খান, তাহমিনা আফরোজ রুপা ও নবীহা তাসনীম লাবণ্য। ছবি: সংগৃহীত

বছরে মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব দুইটি; ঈদুল আজহা অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই দিনটি মহান আল্লাহর প্রতি হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর আনুগত্য ও ত্যাগের স্মরণে পালিত হয়। আল্লাহর আদেশে প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কুরবানি করতে প্রস্তুত হলে, আল্লাহ তাঁর এই ত্যাগ কবুল করেন এবং পরিবর্তে একটি পশু কুরবানির ব্যবস্থা করেন। সেই স্মৃতিকে ধারণ করেই প্রতি বছর মুসলমানরা পশু কুরবানি করে ঈদুল আযহা উদ্যাপন করে।

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল ঈদুল আজহা সম্পর্কে তাদের অনুভূতি, শিক্ষা ও ঈদে বাড়ি ফেরার আনন্দ। তাদের কথা তুলে ধরেছেন সিটিজেন জার্নালের কলেজ সংবাদদাতা নাঈম তালুকদার

ত্যাগের মহিমায় ঈদ

পড়াশোনা, ক্লাস আর পরীক্ষার ব্যস্ততা একপাশে সরিয়ে রেখে আবার এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এই ঈদের আনন্দ আমার কাছে একটু অন্যরকম অনুভূতির। কোরবানির পশু কেনা থেকে শুরু করে ঈদের সকালের প্রতিটি মুহূর্ত আমাকে এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করে। তবে এই ঈদের আসল শিক্ষা কেবল আনন্দ-উৎসবে মেতে থাকা নয়, বরং ত্যাগের মহিমাকে মনে প্রাণে ধারণ করা।

ঈদের দিন যখন চারপাশের সবাই মিলে একসঙ্গে কোরবানি দিতে যায়, তখন মনের সব হিংসা-বিদ্বেষ বিসর্জন দেওয়ার এক নতুন চেতনা জেগে ওঠে। পড়ার টেবিলের একঘেয়েমি কাটিয়ে এই সময়টাতে পরিবারের সবাইকে কাছে পাওয়া আমার জন্য সবচেয়ে বড় উপহার। কোরবানি শেষে যখন আমরা বন্ধুরা মিলে দল বেঁধে পাড়ার গরিব-দুঃখীদের ঘরে ঘরে মাংস পৌঁছে দিই, সেই আনন্দের কোনো তুলনা হয় না। মানুষের মুখের ওই মলিন হাসিটুকু আমার হৃদয়ে এক গভীর মানসিক শান্তি এনে দেয়।

আমি বিশ্বাস করি, কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো নিজের ভেতরের সব অহংকার ও স্বার্থপরতাকে কোরবানি দেওয়া। আমাদের চারপাশের সুবিধাবঞ্চিত সহপাঠী বা মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই এই ঈদের আসল সার্থকতা লুকিয়ে আছে। উৎসবের দিনগুলো পার হয়ে গেলেও ত্যাগের এই সুন্দর শিক্ষা যেন সারা বছর আমার ছাত্রজীবন ও আচরণে প্রকাশ পায়। ঈদের এই পুণ্যলগ্নে আমার প্রার্থনা, পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জীবন সুন্দর, আনন্দময় ও ত্যাগের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠুক। সকলকে পবিত্র ঈদুল আজহার আন্তরিক শুভেচ্ছা।

মহিবুল্লাহ সিফাত

ইসলামিক স্টাডিজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ।

ত্যাগের মহিমায় ঈদ হোক আত্মশুদ্ধির পুনর্জাগরণ

পবিত্র ঈদুল আযহা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আত্মত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও মানবতার এক মহিমান্বিত প্রতিচ্ছবি। ঈদ যেন এক অদ্ভুত শান্তির বার্তা নিয়ে আসে, যেখানে মানুষ নিজের ভেতরের অন্ধকারকে বিসর্জন দিয়ে আলোকে গ্রহণ করার প্রেরণা খুঁজে পায়।

পবিত্র ঈদুল আযহার এই পবিত্র উৎসব আমাদের শেখায়, জীবনের সবচেয়ে সুন্দর শিক্ষা হলো ত্যাগ করতে জানা। নিজের স্বার্থ, অহংকার, হিংসা আর নিষ্ঠুরতাকে বিসর্জন দিয়েই মানুষ প্রকৃত অর্থে বড় হয়ে ওঠে। ঈদের আনন্দ তাই শুধু নতুন পোশাক বা আয়োজনের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগিয়ে তোলার এক গভীর উপলব্ধি।

তাকবিরের ধ্বনি যখন বাতাসকে পবিত্র করে তোলে, তখন মনে হয় পৃথিবীর সমস্ত ক্লান্তি যেন ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে। ঈদের দিনে মোনাজাতে সিক্ত অগণিত হাত যখন সৃষ্টিকর্তার দরবারে উঠে যায়, তখন প্রতিটি হৃদয় যেন নতুন করে শান্তির স্বপ্ন দেখে। মানুষে মানুষে দূরত্ব কমে আসে, ক্ষমা আর ভালোবাসার ভাষা আরও গভীর হয়ে ওঠে। কুরবানির পশুর রক্ত শুধু মাটিকেই রাঙায় না, এটি মানুষকে নিজের ভেতরের অহংকার, হিংসা, লোভ ও অমানবিকতাকে বিসর্জন দেওয়ার শিক্ষা দেয়।

কিন্তু এই পবিত্র অনুভূতির মাঝেও দেশের বর্তমান বাস্তবতা আমাদের ব্যথিত করে। প্রতিনিয়ত ধর্ষণ, সহিংসতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের সংবাদ সমাজের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। একজন নারীর নিরাপত্তাহীনতা পুরো জাতির ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।

আজ মানুষ প্রযুক্তিতে এগিয়ে গেলেও মানবিকতায় ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। সুশৃঙ্খল জীবনযাপন, ভ্রাতৃত্ববোধের মন-মানসিকতা ও অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, মানবীয় ও কল্যাণকর গুণের শিক্ষা দেয় ঈদ। কুরবানির আসল সৌন্দর্য তখনই প্রকাশ পায়, যখন মানুষ নিজের ভেতরের পশুত্বকে হত্যা করতে পারে।

শিক্ষার্থী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, একটি সুন্দর সমাজ গঠনের দায়িত্ব আমাদের প্রজন্মের কাঁধেও রয়েছে। আমরা যদি ভালোবাসা, ন্যায়বোধ ও মানবিকতার চর্চা করি, তবে এই সমাজও একদিন বদলে যাবে। এমন এক বাংলাদেশ গড়ে উঠুক, যেখানে কোনো নারী ভয় নিয়ে বাঁচবে না, কোনো শিশুর চোখে আতঙ্ক থাকবে না, আর প্রতিটি মানুষ সম্মান ও নিরাপত্তা নিয়ে বাঁচতে পারবে।

পরিশেষে এই পবিত্র ঈদে মহান আল্লাহর কাছে পার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের অন্তরকে পবিত্র করেন, ত্যাগের প্রকৃত শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করার তাওফিক দান করেন এবং দেশ ও জাতিকে সব অশান্তি থেকে হেফাজত করেন। ঈদ হোক ভালোবাসা, ন্যায়বোধ ও মানবতার এক চিরন্তন প্রতীক।

নাফিস হাসান সাকি

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।

ঈদুল আজহা ত্যাগ, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য শিক্ষা

ঈদুল আজহা বাঙালি মুসলমানদের জন্য এক ঐতিহ্যবাহী ও তাৎপর্যপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এই দিনটি শুধু আনন্দের নয়, বরং ত্যাগ, মানবতা, সহমর্মিতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক মহান শিক্ষা বহন করে। সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির আশায় পশু কোরবানি করে থাকেন। কোরবানি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—নিজের প্রিয় বস্তু আল্লাহর পথে ত্যাগ করার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত ইমানের পরিচয়।

কোরবানির ইতিহাস জড়িয়ে আছে হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.)-এর অসীম ত্যাগ ও আনুগত্যের সঙ্গে। আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্য হজরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর সবচেয়ে প্রিয় জিনিসকেও কোরবানি করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। সেই মহান আদর্শ আজও মুসলিম উম্মাহকে ত্যাগ, ধৈর্য ও আল্লাহভীতির শিক্ষা দেয়।

ঈদুল আজহার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সমাজের অসহায় ও নিম্নবিত্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করার মাধ্যমে সমাজে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও ভালোবাসার বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। গরিব মানুষের ঘরেও ঈদের আনন্দ পৌঁছে যায়, যা আমাদের বাঙালি মুসলিম সমাজের এক সুন্দর ঐতিহ্য।

বর্তমান সময়ে ঈদুল আজহার প্রকৃত শিক্ষা আমাদের জীবনে আরও বেশি প্রয়োজন। শুধু পশু কোরবানি নয়, আমাদের ভেতরের অহংকার, হিংসা, লোভ ও অন্যায় প্রবৃত্তিকেও কোরবানি করতে হবে। তাহলেই ঈদুল আজহার প্রকৃত তাৎপর্য বাস্তবায়িত হবে।

আসুন, ঈদুল আজহার এই মহান শিক্ষাকে ধারণ করে আমরা মানবিক, সহনশীল ও পরস্পরের প্রতি সহমর্মী সমাজ গড়ে তুলি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবার কোরবানি কবুল করুন এবং ত্যাগের প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

মো. সোহেল ফরায়েজী

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।

ত্যাগ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির উৎসব ঈদ উল আযহা

ঈদুল আজহা যা সাধারণ মানুষের কাছে কোরবানির ঈদ নামেও পরিচিত। মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই দিনটি হিজরি জিলহজ মাসের ১০ তারিখে উদ্যাপিত হয়।

মহান আল্লাহর প্রতি হজরত ইব্রাহিম (আঃ) ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আঃ)-এর অবর্ণনীয় আনুগত্য ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেই এই উৎসবের সূচনা। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এই দিনে সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন।

ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা কেবল পশু জবাই করা নয়, বরং নিজের ভেতরের অহংকার, স্বার্থপরতা ও পঙ্কিলতাকে বিসর্জন দেওয়া। কোরবানির পশুর মাংসের তিন ভাগের দুই ভাগই আত্মীয়-স্বজন ও সমাজের গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সমতার এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত তৈরি হয়। ভোগে নয়, বরং ত্যাগ ও মানবতার মাঝেই যে প্রকৃত আনন্দ, ঈদুল আজহা আমাদের প্রতিবছর সেই বার্তাই দিয়ে যায়। ঈদ মোবারক

মো. জাহিদ হাছান খান

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।

মেলবন্ধনের আলোয় রঙিন ঈদের অনুভব

ঈদ আসলে কেবল একটি দিনের নাম নয়, এটি অনেক অনুভূতি, অপেক্ষা আর ভালোবাসার একসাথে ফিরে আসা। বছরের পর বছর মানুষ যতই ব্যস্ত হয়ে যাক না কেন, ঈদ এলেই সবাই আবার নিজের শিকড়ে ফিরতে চায়। দূরে থাকা মানুষগুলোর বাড়ি ফেরার আনন্দ, মায়ের চোখে সন্তানের জন্য অপেক্ষা, বাবার নীরব হাসি এসব ছোট ছোট দৃশ্যই ঈদকে এত গভীরভাবে সুন্দর করে তোলে।

ভোরবেলা ঘুম ভাঙতেই রান্নাঘর থেকে ভেসে আসা মায়ের হাতের রান্নার ঘ্রাণ, নতুন কাপড়ের চেয়ে অনেক বেশি শান্তি দেয়। একসাথে বসে খাবার খাওয়া, পুরোনো গল্পে হেসে ওঠা, ছোটোদের দুষ্টুমি আর পরিবারের সবার উপস্থিতিতে ঘরটা যেন আবার জীবন্ত হয়ে ওঠে। তখন মনে হয়, সুখ আসলে খুব ছোট ছোট মুহূর্তের মাঝেই লুকিয়ে থাকে।

ঈদ আমাদের শেখায় মানুষকে কাছে টানতে, অভিমান ভুলে যেতে এবং ভালোবাসাকে আরও একটু গভীরভাবে অনুভব করতে এই দিনে ধনী-গরিবের পার্থক্য মুছে গিয়ে সবাই শুধু মানুষ হয়ে ওঠে। কারো মুখে একটুখানি হাসি ফোটাতে পারার মধ্যেও যে এত শান্তি আছে, ঈদ সেটাই মনে করিয়ে দেয়।

হয়ত এ কারণেই ঈদ শেষ হয়ে গেলেও এর অনুভূতি অনেকদিন হৃদয়ে থেকে যায়। কারণ ঈদ মানে শুধু আনন্দ নয়, ঈদ মানে পরিবার, মায়া, ভালোবাসা আর হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কগুলোকে আবার নতুন করে খুঁজে পাওয়ার গল্প।

তানজিলা আক্তার

প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।

কোরবানির ঈদে আনন্দ ও ত্যাগের শিক্ষা

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা আমাদের জীবনে ত্যাগ, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক মহিমান্বিত বার্তা নিয়ে আসে। এই ঈদ আমাদের শিখায় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় জিনিস ত্যাগ করার মানসিকতা। পরিবারের সবাই একসাথে কাজের মাধ্যমে ব্যস্ত সময় কাটানো, কোরবানির প্রস্তুতি নেওয়া এবং আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা হওয়া সত্যিই বিশেষ অনুভূতি।

ঈদের সকালটা শুরু হয়, নতুন পোশাক পরে বাড়ির পুরুষদের নামাজ পড়ার মধ্য দিয়ে।

এরপর কোরবানির মাধ্যমে আমরা ত্যাগের এক মহান শিক্ষা লাভ করি। গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ করার আনন্দও অনেক বড়। আমার মনে হয় এই আনন্দের গভীরতা অনেক। এই ঈদ আমাদের মধ্যে সহানুভূতি ও মানবিকতা বৃদ্ধি করে। সমাজের সবাই যেন একসাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে, সেটাই এই ঈদের সৌন্দর্য। ঈদ-উল-আযহা শুধু আনন্দের নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও আত্মত্যাগেরও শিক্ষা দেয়। আমি মনে করি, এই ঈদের মূল শিক্ষা আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করা উচিত।

সবশেষে কোরবানি ঈদের মিষ্টি-যন্ত্রণার মধ্যে একটি হচ্ছে, ঈদের দিন থেকে শুরু করে গন্তব্য স্থলে আসার আগের দিন পর্যন্ত কোরবানির গোশ্ত খাওয়া।

সবাইকে ঈদ মোবারক। আল্লাহ আমাদের সবার কোরবানি কবুল করুন এবং সুখ, শান্তি ও বরকত দান করুন।

আয়শা ইসলাম

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।

আনন্দ-ত্যাগ-ভালোবাসার অনুভূতি

ঈদ মানেই শুধু নতুন পোশাক বা আনন্দ নয়, ঈদ মানে হৃদয়ের শান্তি, প্রিয়জনদের কাছে পাওয়া, আর ভালোবাসা ভাগাভাগি করার এক সুন্দর উপলক্ষ। ব্যস্ত জীবনের মাঝেও ঈদ আমাদের শেখায় কিছু সময় পরিবারকে দিতে, পুরোনো অভিমান ভুলতে এবং সম্পর্কগুলোকে আরও গভীর করতে।

আমার কাছে ঈদ হলো এক টুকরো প্রশান্তি। ছোটোবেলার সেই ঈদের সকাল, নতুন কাপড়ের গন্ধ, সেমাইয়ের মিষ্টি স্বাদ আর সবার হাসিমুখ আজও মনে এক অন্যরকম অনুভূতি জাগায়। সময় বদলেছে, মানুষ বড় হয়েছে, কিন্তু ঈদের অনুভূতি আজও একই রকম উষ্ণ।

ঈদ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সুখ তখনই পূর্ণতা পায় যখন তা সবার সাথে ভাগ করে নেওয়া যায়। তাই ঈদের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে ক্ষমা, ভালোবাসা আর একে অপরের পাশে থাকার মধ্যে।

তাহমিনা আফরোজ রুপা

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।

ঈদুল আযহা ‘ত্যাগে ফিরে পাওয়া শান্তি’

ঈদুল আযহা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ত্যাগ, ভালোবাসা আর আত্মশুদ্ধির এক গভীর অনুভূতির নাম। এই ঈদ আমাদের শেখায় নিজের ইচ্ছার চেয়ে প্রিয়জনের হাসি কত বেশি মূল্যবান। বছরের পর বছর ব্যস্ততা, ক্লান্তি আর দূরত্বের মাঝে মানুষ এই ঈদের অপেক্ষা করে শুধুমাত্র একটু আপন হয়ে বাঁচার জন্য। বাড়ি ফেরার পথ, মায়ের হাতের রান্নার গন্ধ, বাবার মুখের হাসি সবকিছু মিলিয়ে ঈদ যেন হৃদয়ের ভেতর জমে থাকা ক্লান্তি ধুয়ে দেয়।

কোরবানির আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে ত্যাগের মানসিকতায়। এই ঈদ আমাদের শেখায় ভাগাভাগি করে নিতে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং সম্পর্কগুলোর মূল্য বুঝতে। ঈদের দিনটিতে চারপাশে যেন এক অন্যরকম শান্তি ছড়িয়ে পড়ে, আর মনে হয় প্রিয় মানুষগুলোর কাছেই জীবনের সবচেয়ে বড় সুখ লুকিয়ে আছে।

নবীহা তাসনীম লাবণ্য

ইংরেজি বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।

কোরবানির ঈদে ত্যাগের শিক্ষাই হোক জীবনের পথচলা

কোরবানির ঈদ শুধু আনন্দের উৎসব নয়, এটি ত্যাগ, ধৈর্য ও আত্মত্যাগের এক মহৎ শিক্ষা। এই ঈদ আমাদের শেখায় নিজের স্বার্থের চেয়ে মানবতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টিকে বেশি গুরুত্ব দিতে। বর্তমান সময়ে মানুষ বাহ্যিক আনন্দে বেশি মগ্ন হলেও কোরবানির আসল শিক্ষা হলো হৃদয়ের অহংকার, হিংসা ও স্বার্থপরতাকে ত্যাগ করা। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও অসহায় মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার মধ্যেই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।

কোরবানির এই পবিত্র বার্তা আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা দেয়। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা সমাজকে আরও সুন্দর ও মানবিক করে তোলে। আজকের তরুণ প্রজন্ম যদি কোরবানির প্রকৃত তাৎপর্য হৃদয়ে ধারণ করতে পারে, তবে হিংসা-বিদ্বেষমুক্ত একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। ত্যাগের মধ্যেই যে প্রকৃত শান্তি ও আত্মতৃপ্তি লুকিয়ে আছে, কোরবানির ঈদ সেই উপলব্ধিই আমাদের সামনে তুলে ধরে।

একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, কোরবানির ঈদ আমাদের মানবিকতা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার অন্যতম মাধ্যম। সবার জীবনে শান্তি, সুখ ও কল্যাণ বয়ে আনুক পবিত্র ঈদুল আযহা।

তাহিয়া ইসলাম

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ।

/এমআর/