শিরোনাম

ছাত্রদলের কমিটিতে ‘ছাত্রলীগের’ সাবেক দুই নেতা

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা
ছাত্রদলের কমিটিতে ‘ছাত্রলীগের’ সাবেক দুই নেতা
তোফায়েল আহমেদ এবং এ. এস. এম. সানোয়ার রাব্বী প্রমিস।

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কমিটির দুই যুগ্ম আহ্বায়ক তোফায়েল আহমেদ ও এ. এস. এম. সানোয়ার রাব্বী প্রমিসের বিরুদ্ধে অতীতে ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে শাখা ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, গত ৭ জুলাই কেন্দ্রীয় ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ৬৮ সদস্যবিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয়। কমিটিতে স্থান পান ২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ঘোষিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইন অনুষদ পূর্ণাঙ্গ কমিটির সহসভাপতি তোফায়েল আহমেদ ও উপ-ক্রীড়া সম্পাদক এ. এস. এম. সানোয়ার রাব্বী প্রমিস।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তোফায়েল আহমেদ বলেন, তৎকালীন ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও নানা চাপের কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে কৌশলগতভাবে ছাত্রলীগের কিছু কর্মসূচিতে থাকতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থী হিসেবে ছাত্রত্ব রক্ষা এবং বিভিন্ন ধরনের চাপ এড়ানোর জন্য এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় জোরপূর্বক বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়ে যাওয়া হতো, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও জানেন। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ্যে ছাত্রদলের রাজনীতি করে আসছেন এবং দলের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট, ভিডিও বার্তা ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

তবে ছাত্রলীগের সঙ্গে সক্রিয় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন এ. এস. এম. সানোয়ার রাব্বী প্রমিস। তিনি দাবি করে বলেন, ২০২২ সালের ওই কমিটিতে আইন অনুষদের অনেকের নামই তাদের অজান্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তিনি কখনো ছাত্রলীগের রাজনীতি করেননি এবং ছাত্রলীগের কোনো কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার প্রমাণও কেউ দেখাতে পারবে না।

তিনি আরও দাবি করেন, নিজের নাম অননুমোদিতভাবে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি তিনি বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে জুলাই আন্দোলনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাস করেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন।

এসব বিষয়ে সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সঙ্গে। তিনি বলেন, দায়িত্ব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। তাদের জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি অতীতে ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, অতীতের রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক শিক্ষার্থী অনিচ্ছাকৃতভাবে বা না জেনেই ছাত্রলীগের বিভিন্ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই কেন্দ্রীয় নেতারা তাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে, ভবিষ্যতে ছাত্রলীগের সঙ্গে তাদের সক্রিয় সম্পৃক্ততার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযোগ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এফআর/