শিরোনাম

‘হুন সেনের মতো ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা’

জবি প্রতিনিধি
জবি প্রতিনিধি
‘হুন সেনের মতো ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা’
আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের মতো ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করে পরিবারের মধ্যেই রাষ্ট্রক্ষমতা ধরে রাখতে চেষ্টা করেছিলেন শেখ হাসিনা।’ বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের আয়োজনে ‘মননে জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘জুলাই একদিনে সংঘটিত হয়নি, আবার আওয়ামী লীগের পতনও একদিনে হয়নি। আমরা যদি সিরিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেনের দিকে তাকাই, তাহলে দেখবো সরকার পতনের সঙ্গে গৃহযুদ্ধ সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও সরকার পতন হয়েছে, কোথাও দীর্ঘ সংঘাত চলেছে। আবার সব দেশে সরকার পতনও হয় না।’

তিনি কম্বোডিয়ার উদাহরণ টেনে বলেন, ‘কম্বোডিয়ায় হুন সেন দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকে ২০২৩ সালে তার ছেলে হুন মানেতের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছেন। শেখ হাসিনাও তার শাসনব্যবস্থা দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিলেন। তিনি ক্ষমতা ছাড়লে ছেলে, মেয়ে কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা নিজেদের মধ্যেই ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি, কারণ বাংলাদেশে বিএনপি নামে একটি রাজনৈতিক দল ছিল, যারা ধারাবাহিকভাবে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গেছে।’

জুলাই আন্দোলনের পটভূমি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে উপদেষ্টা ডা. জাহেদ বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ যেমন হঠাৎ করে হয়নি, তেমনি জুলাই আন্দোলনও কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিএনপি ধারাবাহিকভাবে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যার ধারাবাহিকতায় জুলাই আন্দোলন গড়ে উঠেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই জুলাই কোনো একজন ব্যক্তি বা একদিনের অবদানে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের আর্তনাদ, বৈষম্যের শিকার মানুষের ক্ষোভ, সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্পৃক্ততায় আন্দোলন পূর্ণতা পেয়েছে। জুলাইয়ের একটাই লক্ষ্য ছিল স্বৈরাচারী শাসনের অবসান।’

আন্দোলন-পরবর্তী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘জুলাই সফল হওয়ার পর নানা ধরনের মতামত ছিল। কেউ বাংলাদেশকে ইসলামিক রিপাবলিক করতে চেয়েছেন, কেউ সংবিধান স্থগিত রেখে বিপ্লবী সরকার গঠনের কথা বলেছেন, আবার কেউ নতুন সংবিধান প্রণয়নের দাবি তুলেছেন। কিন্তু আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই কাজ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছি আমরা। সরকারের ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে, তবে সেগুলো সংশোধন করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহ নিসতার জাহান কবীর।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন।

/এফআর/