শিরোনাম

ভিসির বাংলোর পুকুরে মাছের খাবারে ৩ বছরে ব্যয় ৪ লাখ টাকা!

বেরোবি সংবাদদাতা
বেরোবি সংবাদদাতা
ভিসির বাংলোর পুকুরে মাছের খাবারে ৩ বছরে ব্যয় ৪ লাখ টাকা!
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্যের বাংলোর পুকুর

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্যের বাংলোর পুকুরের মাছের খাদ্য বাবদ ব্যয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের ব্যয় খাত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত তিন অর্থবছরে শুধু মাছের খাদ্য কিনতেই ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।

সম্প্রতি ‘বেরোবির ভিসির বাংলোর পুকুরের মাছের খাবারে ব্যয় দেড় লাখ টাকা, আগামী বছরে চাহিদা ৫ লাখ’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হলে এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গত কয়েক বছরের বাজেটের ব্যয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

বাজেটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে উপাচার্যের বাংলোর পুকুরের মাছের খাদ্য বাবদ ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। অর্থাৎ এই তিন অর্থবছরে মোট ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।

এ ছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে একই খাতে আরও ২৮ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাছের খাদ্য বাবদ কত টাকা ব্যয় হয়েছে, সে তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

এই খাতে ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা করে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১০ লাখ টাকা বরাদ্দের জন্য চাহিদা পাঠালেও ইউজিসি এ খাতে প্রতি বছর ৫০ হাজার টাকা করে আগামী দুই বছর ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট শাখার প্রধান উপপরিচালক খন্দকার আশরাফুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরের মাছের খাবারের ব্যয়ের হিসাব এখনো তৈরি করা হয়নি।’

তবে গত অর্থবছরের ব্যয়ের হিসাব তৈরি না করেই কীভাবে নতুন অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দ পাওয়া গেল, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে কৌশলে এড়িয়ে যান।

এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শীতকালে পুকুরটিতে বেশিরভাগ সময় পানি থাকে না। পানি কমে গেলে মাঝে মাঝে বৈদ্যুতিক মোটরের মাধ্যমে পুকুরে পানি দেওয়া হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে পুকুরটির তলায় অল্প পরিমাণ পানি রয়েছে।

মাছের খাদ্য বাবদ ব্যয় নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা পুকুরে মাছের অস্তিত্ব ও এত টাকা ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

আবদুল করিম রাজা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ওখানে কি মাছ আছে, নাকি রাক্ষস আছে?’

তানভীর আহমেদ নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পুকুরে তো পানিই নেই, আবার মাছ কোথা থেকে এলো?’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘এগুলো আগের বছরের। এ ভিসির না।’

২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাছের খাদ্য বাবদ ব্যয়ের হিসাব জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হিসাব আছে। তুমি অর্থ দপ্তর থেকে নাও।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ওই হিসাব এখনো প্রস্তুত করা হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একই দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা তো তিন মাস অন্তর বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব ইউজিসিকে পাঠাই। অডিটের সময় এসে সেই কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়।

/এমআর/