রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে ‘ভেরি ট্রান্সপারেন্ট মেথডে’: সিইসি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে ‘ভেরি ট্রান্সপারেন্ট মেথডে’: সিইসি
সিজেডএন ডেস্ক

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হবে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। নির্বাচনটি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তিনি বলেছেন, ভোট গণনার সময় সংসদ সদস্যরা সংসদে উপস্থিত থাকতে পারবেন। তাদের সামনেই ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজের দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন সিইসি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা নেই। ১৯৯১ সালে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। এরপর স্বাধীনতার পর আর এমন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ ধরনের নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা কিছুটা সীমিত।
তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। এরপর আমাদের দেশে আর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। ফলে আমাদের ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি কিছুটা শর্ট। আমাদের লোকজনও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে অভ্যস্ত নয়। সংসদ সচিবালয়ের যারা এই কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত, তারাও এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনায় অভ্যস্ত নন। কিছুটা ইনস্টিটিউশনাল মেমোরির ঘাটতি আছে। তারপরও যত ধরনের প্রস্তুতি ও অনুশীলন প্রয়োজন, আমরা করেছি।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার আইনি কাঠামো তুলে ধরে সিইসি বলেন, ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালার আলোকে পুরো কার্যক্রমকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। সংসদের অধিবেশন চলমান থাকলে এক ধরনের ব্যবস্থা এবং অধিবেশন না থাকলে অন্য ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এখন সংসদের অধিবেশন চলছে না। এ অবস্থায় শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য সংসদের একটি বৈঠক আহ্বান করলেই হয়। আইনেই এর সুযোগ রয়েছে। সাধারণত সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজন হলে সংসদের অধিবেশন না থাকায় নির্বাচনী কর্তা হিসেবে সিইসি বৈঠক আহ্বান করতে পারেন।’
সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদের বিশেষ বৈঠক আহ্বানের বিষয়ে গত ১১ আগস্ট গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী নির্বাচনের আগে ন্যূনতম সাত দিন সময় দেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও এর চেয়ে বেশি সময় রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা ও তফসিলের বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের ১ নম্বর দফা অনুযায়ী সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। তাদের নিয়ে ভোটার তালিকা তৈরি ও প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনসংক্রান্ত গেজেটও প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কোন দিন মনোনয়নপত্র দাখিল হবে, কবে যাচাই-বাছাই হবে, প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং কোন দিন নির্বাচন হবে সবকিছু নির্ধারণ করে আমরা ৬ আগস্ট তফসিল ঘোষণা করেছি।’
সিইসি জানান, নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। ওই দিন তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে দুটি জমা দেয় ১১ দলীয় ঐক্য এবং একটি দেয় বর্তমান সরকারি দল বিএনপি।
তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে প্রার্থী হয়েছেন অলি আহমদ বীর বিক্রম।
তিনি বলেন, ‘আমরা তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ পেয়েছি। ১১ দলীয় ঐক্যের দুটি এবং সরকারি দল বিএনপির একটি। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট)। ওই দিন কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।’
এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন জানিয়ে সিইসি বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা এবং জাতীয় সংসদের সব সদস্যই এ নির্বাচনের ভোটার। এ কারণে নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের একটি নির্বাচন।
ভোট গ্রহণ শেষে দ্রুতই গণনা শুরু করা হবে বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, ভোট শেষ হওয়ার পরপরই ভোট গণনা শুরু হবে এবং নির্বাচনী কর্তা হিসেবে তার ঘোষিত ফলই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
তিনি বলেন, ‘ভোট ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত হবে। ভোট শেষ হওয়ার পর আমরা সঙ্গে সঙ্গে গণনা শুরু করব। নির্বাচনী কর্তা হিসেবে আমি যে ফল ঘোষণা করব, সেটিই চূড়ান্ত। ভোট গণনা শেষে সবার সামনে ফল ঘোষণা করা হবে। এরপর সেদিনই নির্বাচন কমিশন থেকে গেজেট প্রকাশ করা হবে।’
নির্বাচন পরিচালনায় সংসদ সচিবালয়ের সহায়তা নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য ২০ জন সহায়ক কর্মকর্তার একটি তালিকা সংসদ সচিবালয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট ও গণনা সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন সিইসি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোট দেওয়ার দৃশ্য শুরুতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। পরে ভোট গ্রহণ চলাকালে তা বন্ধ রাখা হতে পারে। বিকেল ৫টায় ভোট গণনা শুরু হলে আবার সরাসরি সম্প্রচার চালু করা হবে।
সিইসি বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্পিকার ও লিডার অব দ্য অপজিশন ভোট দেওয়ার সময় প্রথম দিকে লাইভ টেলিকাস্ট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্পিকার মহোদয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্ভবত বিটিভির মাধ্যমে এটি সম্প্রচার করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভোট গ্রহণ চলার সময় হয়তো লাইভ টেলিকাস্ট বন্ধ থাকবে। পরে বিকেল ৫টায় যখন গণনা শুরু হবে, তখন আবার লাইভ টেলিকাস্ট চালু হবে। গণনার পুরো প্রক্রিয়া এভাবে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।’
ভোট গণনার সময় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকতে পারবেন জানিয়ে সিইসি বলেন, ভোট দেওয়ার পর তাদের সংসদ ভবন থেকে চলে যেতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তারা চাইলে ভোট গণনার সময়ও উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়া দেখতে পারবেন।
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সংসদ সদস্যরা যেহেতু ভোটার, তারা গণনার সময়ও উপস্থিত থাকতে পারবেন। ভোট দিয়ে তাদের চলে যেতে হবে, এমন নয়। তারা গণনার সময়ও থাকতে পারবেন। এটা খুবই স্বচ্ছ একটি পদ্ধতি। ভেরি ট্রান্সপারেন্ট মেথড। সুতরাং এখানে কারও কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।’
ফলাফল ঘোষণার সময় ভোটসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানান সিইসি। তিনি বলেন, নির্বাচনী কর্তা হিসেবে তিনি সবার সামনে ফলাফল ঘোষণা করবেন। একই সঙ্গে কতটি ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে, কতটি ব্যবহার করা হয়েছে, কতটি অব্যবহৃত বা অতিরিক্ত রয়েছে, কতটি বাতিল হয়েছে এবং কতটি নষ্ট হয়েছে এসব তথ্যও জানানো হবে।
তিনি বলেন, ব্যবহৃত ব্যালটের মধ্যে প্রতিটি প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন, সেটিও বিস্তারিতভাবে ঘোষণা করা হবে। যে প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাবেন, তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।
তবে কোন সংসদ সদস্য কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, সেই তথ্য আলাদাভাবে প্রকাশ করা হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন সিইসি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওটা আমি ঘোষণা করব না। আমাদের সাধারণ নির্বাচনে কি আপনারা দেখতে পারেন কে কাকে ভোট দিয়েছেন? এখানেও একই বিষয়। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি ওপেন। ব্যালটে ভোটারের পরিচয় এবং তিনি যাকে ভোট দিয়েছেন, সেই তথ্য থাকে। এর চেয়ে বেশি করে কোনো ভোটার অমুক প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন এভাবে আলাদাভাবে ঘোষণা করার প্রয়োজন নেই।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণার সুযোগ সীমিত থাকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ভোটের দিন সংসদ ভবনের ভেতরে কোনো প্রার্থী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। তবে সংসদ ভবনের বাইরে প্রচারণার ক্ষেত্রে নির্বাচন আইনে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
তিনি বলেন, ‘ভোটের দিন হাউসের মধ্যে প্রচার-প্রচারণা করা যাবে না। তবে বাইরে যদি তারা প্রচারণা করেন, সেটা আমার আইনের মধ্যে নিষেধ করা হয়নি।’
সবশেষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য সব ধরনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আমাদের এই ঐতিহাসিক নির্বাচন অত্যন্ত সুন্দর, সুচারু ও সুষ্ঠুভাবে করতে পারব। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। নির্বাচনের ক্ষেত্রে যত ধরনের সম্ভাব্য দিক থাকতে পারে, সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।’

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হবে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। নির্বাচনটি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তিনি বলেছেন, ভোট গণনার সময় সংসদ সদস্যরা সংসদে উপস্থিত থাকতে পারবেন। তাদের সামনেই ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজের দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন সিইসি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা নেই। ১৯৯১ সালে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। এরপর স্বাধীনতার পর আর এমন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ ধরনের নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা কিছুটা সীমিত।
তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। এরপর আমাদের দেশে আর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। ফলে আমাদের ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি কিছুটা শর্ট। আমাদের লোকজনও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে অভ্যস্ত নয়। সংসদ সচিবালয়ের যারা এই কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত, তারাও এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনায় অভ্যস্ত নন। কিছুটা ইনস্টিটিউশনাল মেমোরির ঘাটতি আছে। তারপরও যত ধরনের প্রস্তুতি ও অনুশীলন প্রয়োজন, আমরা করেছি।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার আইনি কাঠামো তুলে ধরে সিইসি বলেন, ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালার আলোকে পুরো কার্যক্রমকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। সংসদের অধিবেশন চলমান থাকলে এক ধরনের ব্যবস্থা এবং অধিবেশন না থাকলে অন্য ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এখন সংসদের অধিবেশন চলছে না। এ অবস্থায় শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য সংসদের একটি বৈঠক আহ্বান করলেই হয়। আইনেই এর সুযোগ রয়েছে। সাধারণত সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজন হলে সংসদের অধিবেশন না থাকায় নির্বাচনী কর্তা হিসেবে সিইসি বৈঠক আহ্বান করতে পারেন।’
সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদের বিশেষ বৈঠক আহ্বানের বিষয়ে গত ১১ আগস্ট গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী নির্বাচনের আগে ন্যূনতম সাত দিন সময় দেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও এর চেয়ে বেশি সময় রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা ও তফসিলের বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের ১ নম্বর দফা অনুযায়ী সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। তাদের নিয়ে ভোটার তালিকা তৈরি ও প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনসংক্রান্ত গেজেটও প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কোন দিন মনোনয়নপত্র দাখিল হবে, কবে যাচাই-বাছাই হবে, প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং কোন দিন নির্বাচন হবে সবকিছু নির্ধারণ করে আমরা ৬ আগস্ট তফসিল ঘোষণা করেছি।’
সিইসি জানান, নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। ওই দিন তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে দুটি জমা দেয় ১১ দলীয় ঐক্য এবং একটি দেয় বর্তমান সরকারি দল বিএনপি।
তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে প্রার্থী হয়েছেন অলি আহমদ বীর বিক্রম।
তিনি বলেন, ‘আমরা তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ পেয়েছি। ১১ দলীয় ঐক্যের দুটি এবং সরকারি দল বিএনপির একটি। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট)। ওই দিন কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।’
এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন জানিয়ে সিইসি বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা এবং জাতীয় সংসদের সব সদস্যই এ নির্বাচনের ভোটার। এ কারণে নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের একটি নির্বাচন।
ভোট গ্রহণ শেষে দ্রুতই গণনা শুরু করা হবে বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, ভোট শেষ হওয়ার পরপরই ভোট গণনা শুরু হবে এবং নির্বাচনী কর্তা হিসেবে তার ঘোষিত ফলই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
তিনি বলেন, ‘ভোট ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত হবে। ভোট শেষ হওয়ার পর আমরা সঙ্গে সঙ্গে গণনা শুরু করব। নির্বাচনী কর্তা হিসেবে আমি যে ফল ঘোষণা করব, সেটিই চূড়ান্ত। ভোট গণনা শেষে সবার সামনে ফল ঘোষণা করা হবে। এরপর সেদিনই নির্বাচন কমিশন থেকে গেজেট প্রকাশ করা হবে।’
নির্বাচন পরিচালনায় সংসদ সচিবালয়ের সহায়তা নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য ২০ জন সহায়ক কর্মকর্তার একটি তালিকা সংসদ সচিবালয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট ও গণনা সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন সিইসি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোট দেওয়ার দৃশ্য শুরুতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। পরে ভোট গ্রহণ চলাকালে তা বন্ধ রাখা হতে পারে। বিকেল ৫টায় ভোট গণনা শুরু হলে আবার সরাসরি সম্প্রচার চালু করা হবে।
সিইসি বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্পিকার ও লিডার অব দ্য অপজিশন ভোট দেওয়ার সময় প্রথম দিকে লাইভ টেলিকাস্ট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্পিকার মহোদয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্ভবত বিটিভির মাধ্যমে এটি সম্প্রচার করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভোট গ্রহণ চলার সময় হয়তো লাইভ টেলিকাস্ট বন্ধ থাকবে। পরে বিকেল ৫টায় যখন গণনা শুরু হবে, তখন আবার লাইভ টেলিকাস্ট চালু হবে। গণনার পুরো প্রক্রিয়া এভাবে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।’
ভোট গণনার সময় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকতে পারবেন জানিয়ে সিইসি বলেন, ভোট দেওয়ার পর তাদের সংসদ ভবন থেকে চলে যেতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তারা চাইলে ভোট গণনার সময়ও উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়া দেখতে পারবেন।
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সংসদ সদস্যরা যেহেতু ভোটার, তারা গণনার সময়ও উপস্থিত থাকতে পারবেন। ভোট দিয়ে তাদের চলে যেতে হবে, এমন নয়। তারা গণনার সময়ও থাকতে পারবেন। এটা খুবই স্বচ্ছ একটি পদ্ধতি। ভেরি ট্রান্সপারেন্ট মেথড। সুতরাং এখানে কারও কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।’
ফলাফল ঘোষণার সময় ভোটসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানান সিইসি। তিনি বলেন, নির্বাচনী কর্তা হিসেবে তিনি সবার সামনে ফলাফল ঘোষণা করবেন। একই সঙ্গে কতটি ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে, কতটি ব্যবহার করা হয়েছে, কতটি অব্যবহৃত বা অতিরিক্ত রয়েছে, কতটি বাতিল হয়েছে এবং কতটি নষ্ট হয়েছে এসব তথ্যও জানানো হবে।
তিনি বলেন, ব্যবহৃত ব্যালটের মধ্যে প্রতিটি প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন, সেটিও বিস্তারিতভাবে ঘোষণা করা হবে। যে প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাবেন, তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।
তবে কোন সংসদ সদস্য কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, সেই তথ্য আলাদাভাবে প্রকাশ করা হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন সিইসি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওটা আমি ঘোষণা করব না। আমাদের সাধারণ নির্বাচনে কি আপনারা দেখতে পারেন কে কাকে ভোট দিয়েছেন? এখানেও একই বিষয়। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি ওপেন। ব্যালটে ভোটারের পরিচয় এবং তিনি যাকে ভোট দিয়েছেন, সেই তথ্য থাকে। এর চেয়ে বেশি করে কোনো ভোটার অমুক প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন এভাবে আলাদাভাবে ঘোষণা করার প্রয়োজন নেই।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণার সুযোগ সীমিত থাকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ভোটের দিন সংসদ ভবনের ভেতরে কোনো প্রার্থী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। তবে সংসদ ভবনের বাইরে প্রচারণার ক্ষেত্রে নির্বাচন আইনে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
তিনি বলেন, ‘ভোটের দিন হাউসের মধ্যে প্রচার-প্রচারণা করা যাবে না। তবে বাইরে যদি তারা প্রচারণা করেন, সেটা আমার আইনের মধ্যে নিষেধ করা হয়নি।’
সবশেষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য সব ধরনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আমাদের এই ঐতিহাসিক নির্বাচন অত্যন্ত সুন্দর, সুচারু ও সুষ্ঠুভাবে করতে পারব। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। নির্বাচনের ক্ষেত্রে যত ধরনের সম্ভাব্য দিক থাকতে পারে, সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে ‘ভেরি ট্রান্সপারেন্ট মেথডে’: সিইসি
সিজেডএন ডেস্ক

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হবে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। নির্বাচনটি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তিনি বলেছেন, ভোট গণনার সময় সংসদ সদস্যরা সংসদে উপস্থিত থাকতে পারবেন। তাদের সামনেই ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজের দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন সিইসি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা নেই। ১৯৯১ সালে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। এরপর স্বাধীনতার পর আর এমন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ ধরনের নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা কিছুটা সীমিত।
তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। এরপর আমাদের দেশে আর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। ফলে আমাদের ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি কিছুটা শর্ট। আমাদের লোকজনও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে অভ্যস্ত নয়। সংসদ সচিবালয়ের যারা এই কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত, তারাও এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনায় অভ্যস্ত নন। কিছুটা ইনস্টিটিউশনাল মেমোরির ঘাটতি আছে। তারপরও যত ধরনের প্রস্তুতি ও অনুশীলন প্রয়োজন, আমরা করেছি।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার আইনি কাঠামো তুলে ধরে সিইসি বলেন, ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালার আলোকে পুরো কার্যক্রমকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। সংসদের অধিবেশন চলমান থাকলে এক ধরনের ব্যবস্থা এবং অধিবেশন না থাকলে অন্য ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এখন সংসদের অধিবেশন চলছে না। এ অবস্থায় শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য সংসদের একটি বৈঠক আহ্বান করলেই হয়। আইনেই এর সুযোগ রয়েছে। সাধারণত সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজন হলে সংসদের অধিবেশন না থাকায় নির্বাচনী কর্তা হিসেবে সিইসি বৈঠক আহ্বান করতে পারেন।’
সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদের বিশেষ বৈঠক আহ্বানের বিষয়ে গত ১১ আগস্ট গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী নির্বাচনের আগে ন্যূনতম সাত দিন সময় দেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও এর চেয়ে বেশি সময় রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা ও তফসিলের বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের ১ নম্বর দফা অনুযায়ী সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। তাদের নিয়ে ভোটার তালিকা তৈরি ও প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনসংক্রান্ত গেজেটও প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কোন দিন মনোনয়নপত্র দাখিল হবে, কবে যাচাই-বাছাই হবে, প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং কোন দিন নির্বাচন হবে সবকিছু নির্ধারণ করে আমরা ৬ আগস্ট তফসিল ঘোষণা করেছি।’
সিইসি জানান, নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। ওই দিন তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে দুটি জমা দেয় ১১ দলীয় ঐক্য এবং একটি দেয় বর্তমান সরকারি দল বিএনপি।
তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে প্রার্থী হয়েছেন অলি আহমদ বীর বিক্রম।
তিনি বলেন, ‘আমরা তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ পেয়েছি। ১১ দলীয় ঐক্যের দুটি এবং সরকারি দল বিএনপির একটি। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট)। ওই দিন কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।’
এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন জানিয়ে সিইসি বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা এবং জাতীয় সংসদের সব সদস্যই এ নির্বাচনের ভোটার। এ কারণে নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের একটি নির্বাচন।
ভোট গ্রহণ শেষে দ্রুতই গণনা শুরু করা হবে বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, ভোট শেষ হওয়ার পরপরই ভোট গণনা শুরু হবে এবং নির্বাচনী কর্তা হিসেবে তার ঘোষিত ফলই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
তিনি বলেন, ‘ভোট ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত হবে। ভোট শেষ হওয়ার পর আমরা সঙ্গে সঙ্গে গণনা শুরু করব। নির্বাচনী কর্তা হিসেবে আমি যে ফল ঘোষণা করব, সেটিই চূড়ান্ত। ভোট গণনা শেষে সবার সামনে ফল ঘোষণা করা হবে। এরপর সেদিনই নির্বাচন কমিশন থেকে গেজেট প্রকাশ করা হবে।’
নির্বাচন পরিচালনায় সংসদ সচিবালয়ের সহায়তা নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য ২০ জন সহায়ক কর্মকর্তার একটি তালিকা সংসদ সচিবালয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট ও গণনা সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন সিইসি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোট দেওয়ার দৃশ্য শুরুতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। পরে ভোট গ্রহণ চলাকালে তা বন্ধ রাখা হতে পারে। বিকেল ৫টায় ভোট গণনা শুরু হলে আবার সরাসরি সম্প্রচার চালু করা হবে।
সিইসি বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্পিকার ও লিডার অব দ্য অপজিশন ভোট দেওয়ার সময় প্রথম দিকে লাইভ টেলিকাস্ট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্পিকার মহোদয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্ভবত বিটিভির মাধ্যমে এটি সম্প্রচার করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভোট গ্রহণ চলার সময় হয়তো লাইভ টেলিকাস্ট বন্ধ থাকবে। পরে বিকেল ৫টায় যখন গণনা শুরু হবে, তখন আবার লাইভ টেলিকাস্ট চালু হবে। গণনার পুরো প্রক্রিয়া এভাবে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।’
ভোট গণনার সময় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকতে পারবেন জানিয়ে সিইসি বলেন, ভোট দেওয়ার পর তাদের সংসদ ভবন থেকে চলে যেতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তারা চাইলে ভোট গণনার সময়ও উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়া দেখতে পারবেন।
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সংসদ সদস্যরা যেহেতু ভোটার, তারা গণনার সময়ও উপস্থিত থাকতে পারবেন। ভোট দিয়ে তাদের চলে যেতে হবে, এমন নয়। তারা গণনার সময়ও থাকতে পারবেন। এটা খুবই স্বচ্ছ একটি পদ্ধতি। ভেরি ট্রান্সপারেন্ট মেথড। সুতরাং এখানে কারও কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।’
ফলাফল ঘোষণার সময় ভোটসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানান সিইসি। তিনি বলেন, নির্বাচনী কর্তা হিসেবে তিনি সবার সামনে ফলাফল ঘোষণা করবেন। একই সঙ্গে কতটি ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে, কতটি ব্যবহার করা হয়েছে, কতটি অব্যবহৃত বা অতিরিক্ত রয়েছে, কতটি বাতিল হয়েছে এবং কতটি নষ্ট হয়েছে এসব তথ্যও জানানো হবে।
তিনি বলেন, ব্যবহৃত ব্যালটের মধ্যে প্রতিটি প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন, সেটিও বিস্তারিতভাবে ঘোষণা করা হবে। যে প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাবেন, তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।
তবে কোন সংসদ সদস্য কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, সেই তথ্য আলাদাভাবে প্রকাশ করা হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন সিইসি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওটা আমি ঘোষণা করব না। আমাদের সাধারণ নির্বাচনে কি আপনারা দেখতে পারেন কে কাকে ভোট দিয়েছেন? এখানেও একই বিষয়। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি ওপেন। ব্যালটে ভোটারের পরিচয় এবং তিনি যাকে ভোট দিয়েছেন, সেই তথ্য থাকে। এর চেয়ে বেশি করে কোনো ভোটার অমুক প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন এভাবে আলাদাভাবে ঘোষণা করার প্রয়োজন নেই।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণার সুযোগ সীমিত থাকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ভোটের দিন সংসদ ভবনের ভেতরে কোনো প্রার্থী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। তবে সংসদ ভবনের বাইরে প্রচারণার ক্ষেত্রে নির্বাচন আইনে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
তিনি বলেন, ‘ভোটের দিন হাউসের মধ্যে প্রচার-প্রচারণা করা যাবে না। তবে বাইরে যদি তারা প্রচারণা করেন, সেটা আমার আইনের মধ্যে নিষেধ করা হয়নি।’
সবশেষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য সব ধরনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আমাদের এই ঐতিহাসিক নির্বাচন অত্যন্ত সুন্দর, সুচারু ও সুষ্ঠুভাবে করতে পারব। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। নির্বাচনের ক্ষেত্রে যত ধরনের সম্ভাব্য দিক থাকতে পারে, সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।’









