শিরোনাম

ভিপির আবাসন সুবিধায় জাকসুর নেতাদের অনাস্থা: প্রশাসনের উপেক্ষা

জাবি প্রতিনিধি
জাবি প্রতিনিধি
ভিপির আবাসন সুবিধায় জাকসুর নেতাদের অনাস্থা: প্রশাসনের উপেক্ষা
ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতুর পদ ও হলে অবস্থান নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের মধ্যেই বিশেষ আবাসন সুবিধা দিয়ে নতুন অফিস আদেশ জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিকে জাকসুর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এ আদেশকে সর্বসম্মতিক্রমে 'নিয়মবহির্ভূত' আখ্যা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান ও অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানোর পরও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

গত ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, জাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের পদের মেয়াদ বহাল থাকা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বরাদ্দকৃত আবাসিক হলে অবস্থান করতে পারবেন। এর আগে জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে নির্বাচিত প্রতিনিধি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও প্রশাসনিকভাবে হলে থাকার সুনির্দিষ্ট নীতির দাবি জানিয়েছিলেন।

প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাকসুর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যেও তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

জাকসুর নেতৃবৃন্দের অনাস্থা প্রকাশের পরও প্রশাসন থেকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, আমরা এটা নিয়ে আজকেও প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের মধ্যে কোনো সদিচ্ছা দেখিনি। ওনারা যদি এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ না নেন আমরা কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হবো।

জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, এটা নিয়ে আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি, নতুন করে আর কিছু বলার নেই।

শাখা শিবিরের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জিতুকে অবৈধভাবে সুবিধা দেয়ার জন্যই প্রশাসন এই উদ্যোগ নিয়েছে। এটা সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনের একগুঁয়েমি সিদ্ধান্ত। আমরা সরাসরি এ ব্যাপারে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবো।

ছাত্রশক্তি জাবি শাখার সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, ইতোমধ্যে জাকসুর জিএস হল ছেড়েছেন। কিন্তু ড্রপ আউট হওয়ার পরও ভিপি এখনো হল ছাড়েননি। প্রশাসনের অবৈধ সিদ্ধান্তের পর আমরা সবাই প্রতিবাদ জানিয়েছি। কিন্তু প্রশাসন এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা আবারও প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে।

জাকসুর নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাহার করার পরও প্রশাসন থেকে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ার কারণ জানতে চাই উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, আমাদের প্রশাসনিক সভায় একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এমন যে, যদি শিক্ষার্থীদের সার্ভিস দিতে হয় তাহলে তো হলে অবস্থান করতে হবে। তবে আমরা এটি সিরিয়াসলি নেইনি। কিন্তু পরে আমাদের মনে হলো যে, জাকসুর অনেকেই মনে করছেন এটা ঠিক না এবং এটার প্রয়োজন নেই। তারপর আমরা আর প্রশাসনিক মিটিং করিনি। আমরা পরবর্তী মিটিংয়ে এ নিয়ে আলোচনা করবো।

/এসআর/