শিরোনাম

প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম ও তার ছেলের প্রতিষ্ঠানে ৭১ কোটি টাকার সরকারি কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম ও তার ছেলের প্রতিষ্ঠানে ৭১ কোটি টাকার সরকারি কাজ
মীর শাহে আলম ও মীর শাকরুল আলম সীমান্ত। কোলাজ: সিজেডএন গ্রাফিক্স

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও তার ছেলের প্রতিষ্ঠানের নামে ৭১ কোটিরও বেশি টাকার সরকারি কাজ পাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ক্ষমতায় থেকে এভাবে কাজ পাওয়াকে সচেতন মহল স্বার্থের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছেন। তবে প্রতিমন্ত্রী এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কোনো কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি প্রভাব খাটাননি।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেডকে ২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার একটি কাজের চুক্তি দেয়। ঘটনাটি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মীর শাহে আলম শপথ নেওয়ার মাস দুয়েক পরের।

ওই চুক্তির নথি অনুযায়ী, বগুড়াভিত্তিক কোম্পানিটির ১০০ শতাংশ শেয়ারের মালিক প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম এবং তার ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দরপত্রটি প্রকাশ করা হয়। খাবার লবণে আয়োডিন যুক্ত করতে পটাশিয়াম আয়োডেট কেনার জন্য ছিল এই দরপত্র।

শাহে আলম তখন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিসিকের পরিচালক ছিলেন। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দুই মাস পর ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর ব্যবসায়ী ও বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহে আলমকে বিসিকের পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার এটিকে স্বার্থের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছেন। তার মতে, কোনো মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা সরকারি কর্মকর্তার পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনদেরও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাজ থেকে দূরে থাকা উচিত।

একাধিক চুক্তির নথি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস এবং প্রতিমন্ত্রীর ছেলের মালিকানাধীন মীর সীমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিং বিসিক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (এলজিআরডি) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ৭১ কোটি টাকার বেশি মূল্যের অন্তত ১২টি কাজ পেয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শাহে আলম বিসিক পরিচালক থাকাকালীন প্রায় ৫৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার ছয়টি চুক্তি এবং এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর আরও ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার ছয়টি চুক্তি দেওয়া হয়। ১২টি চুক্তির মধ্যে দুটি দেওয়া হয়েছে রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলসকে এবং ১০টি মীর সীমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিংকে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দুটি সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন কাজের চুক্তি পেতে শাহে আলম তদবির করেছিলেন।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার এটিকে স্বার্থের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছেন। তার মতে, কোনো মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা সরকারি কর্মকর্তার পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনদেরও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাজ থেকে দূরে থাকা উচিত।

তবে শাহে আলম গণমাধ্যমকে বলেছেন, এসব চুক্তির কোনোটি পাওয়ার ক্ষেত্রেই স্বার্থের দ্বন্দ্ব নেই। নিজের পদ ব্যবহার করে কাজ দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে শিবগঞ্জ পৌরসভার উন্নয়নকাজের দরপত্র নিজের ছেলের প্রতিষ্ঠান পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহে আলম বলেন, সেটি আমি সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগের। আমি সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হওয়ার সময় নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড জারি এবং কার্যাদেশ দেওয়ার পর স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়াতে হলফনামার মাধ্যমে অন্য এক ঠিকাদারের কাছে কাজটি হস্তান্তর করা হয়। এটা বাতিল করে নতুন করে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করলে ওই এলাকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতো।

তিনি জানান, এরপর থেকে তার ছেলে পৌরসভা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের আহ্বান করা দরপত্রে অংশ নেননি এবং এখনো নিচ্ছেন না।

বিসিক পরিচালক থাকাকালে তার পরিবারের কোম্পানিগুলো চুক্তি পাওয়ার বিষয়ে শাহে আলম বলেন, আমি সেখানে বোর্ড সদস্য ছিলাম। বোর্ড সদস্যদের কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই। আমি কোনো ক্রয় কর্মকর্তা নই, দরপত্র আহ্বান করিনি, অনুমোদনও দিইনি, কিংবা অর্থ পরিশোধও করিনি।

/এফসি/