শিরোনাম

‘গণরুম’ সংস্কৃতির কলঙ্ক থেকে মুক্ত হবে জাবি: নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য

জাবি প্রতিনিধি
‘গণরুম’ সংস্কৃতির কলঙ্ক থেকে মুক্ত হবে জাবি: নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য
(বাম পাশ থেকে) জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের উপস্থিতিতে নিজ নিজ পদে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন নবনিযুক্ত দুই উপ-উপাচার্য।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে (জাবি) ‘গণরুম’ সংস্কৃতির কলঙ্ক থেকে মুক্ত করতে বর্তমান প্রশাসন কাজ করবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম। তিনি বলেন, আগামী ১৭ জুন থেকে প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরুর যে পরিকল্পনা রয়েছে, তার সঙ্গে সমন্বয় রেখে নতুন শিক্ষার্থীদের প্রথম দিন থেকেই আবাসিক হলে থাকার সুযোগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

সোমবার (৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এর আগে, গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের উপস্থিতিতে নবনিযুক্ত দুই উপ-উপাচার্য নিজ নিজ পদে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।

যোগদান অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম বলেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। প্রশাসনে প্রতিহিংসা বা বিদ্বেষের কোনো স্থান থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘গণরুম’ সংস্কৃতির কলঙ্ক থেকে মুক্ত করতে প্রশাসন কাজ করবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার ব্যাপারেও প্রশাসন অঙ্গীকারবদ্ধ।

দায়িত্ব পালনে সততা ও স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যহীন রাজনৈতিক পরিবেশ এবং সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করা হবে। সুস্থ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে পারস্পরিক সহনশীলতা ও সহাবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আবাসন সংকটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বড় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে অনেক শিক্ষার্থী আবাসনের অভাবে দুর্ভোগ পোহাতে বাধ্য হয়েছেন। তাই গণরুম প্রথা বিলুপ্ত করে ধাপে ধাপে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে। একটি সুন্দর আবাসিক ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই দেশের সেরা মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আদর্শ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নবনিযুক্ত দুই উপ-উপাচার্যের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ছাত্রবান্ধব ভাবমূর্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপাচার্য আরও বলেন, প্রশাসন দুর্নীতিমুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পদোন্নতি কিংবা ন্যায্য অধিকারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সহাবস্থানের সংস্কৃতি বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা হবে।

/এফআর/