শিরোনাম

ঈদের দিন কি বৃষ্টি হবে, যা জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর

সিটিজেন ডেস্ক
ঈদের দিন কি বৃষ্টি হবে, যা জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর
১৩ মার্চ সন্ধ্যায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দেশে এখন বসন্তকাল। তবে ঢাকার আকাশে কয়েকদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে বর্ষার মতো মেঘলা আবহাওয়া। ঘন ধূসর মেঘে আকাশ ঢেকে যাচ্ছে বারবার, থেমে থেমে হচ্ছে বৃষ্টিও। এর মধ্যেই সামনে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ফলে ঈদযাত্রা ও কেনাকাটার সময় আবহাওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যেই তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আজ এবং আগামী কয়েকদিন থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে ঘরে ঘরে চলছে প্রস্তুতি। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত অনেকেই। আবার অনেকে ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় আছেন।

যারা চাকরি, পড়াশোনা বা ব্যবসার কারণে পরিবার থেকে দূরে থাকেন, তারা যেন নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে জন্য এবার বাড়তি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। শবে কদর (১৭ মার্চ) ও ঈদুল ফিতরের (১৮ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ) ছুটি মিলিয়ে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে টানা সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ফলে অনেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে এ সময় ঝড়বৃষ্টি হলে কেনাকাটা থেকে শুরু করে মানুষের ঈদযাত্রায়ও বিঘ্ন ঘটতে পারে। এমনকি ঈদের দিন খোলা মাঠে ঈদের জামাত আয়োজনেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।

কয়েকদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা

মাসের শুরুতে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মার্চ মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। বঙ্গোপসাগরে এ সময়ে কোনো ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

তবে মার্চের শেষদিকে দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এক থেকে দুটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। একই সময়ে দুই থেকে তিন দিন বজ্র ও শিলাবৃষ্টিসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং এক থেকে দুই দিন কালবৈশাখী ঝড়ের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, মার্চ, এপ্রিল ও মে মাস কালবৈশাখীর জন্য উপযোগী সময়। তবে এখনো দেশে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানেনি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে এমন ঝড় হতে পারে।

তিনি বলেন, তিন দিনের মধ্যে আবহাওয়ার পূর্বাভাস সবচেয়ে নির্ভুলভাবে দেওয়া যায়। সময় যত বাড়ে, পূর্বাভাসের নির্ভুলতা তত কমে।

ঈদের দিন কি বৃষ্টি হবে?

ঈদের এখনও প্রায় এক সপ্তাহ বাকি। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আবহাওয়াবিদেরা ধারণা করছেন, ঈদের দিন দেশের কিছু এলাকায় সাময়িক বৃষ্টি হতে পারে।

তবে বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি রয়েছে ১৬ ও ১৭ মার্চ। এ সময়ই অনেক মানুষ ঈদের ছুটিতে বাড়ির পথে থাকবেন।

নাজমুল হক বলেন, ১৬ ও ১৭ তারিখে বৃষ্টি হওয়ার পর বৃষ্টিপাতে সাময়িক বিরতি আসতে পারে। তবে পুরোপুরি বৃষ্টিহীন হবে এমনটা বলা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, মার্চ মাসে সাধারণত স্বল্প সময়ের বৃষ্টি হয়। কোথাও আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রপাত হতে পারে। তবে কোথায় হবে, তা আগেভাগে নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।

এ সময় বাতাসের গতি খুব বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তাপমাত্রা কেমন থাকবে

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদের সময় খুব বেশি গরম থাকার সম্ভাবনা নেই। তাপমাত্রা ২৮ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।

মার্চ মাসে বৃষ্টির কারণ সম্পর্কে আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক বলেন, বর্তমানে পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টি হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার অঞ্চলে তাপীয় লঘুচাপ তৈরি হয়। সেখানকার বাতাস সমুদ্রের দিক থেকে বাংলাদেশের দিকে প্রবাহিত হলে দুই ধরনের বায়ুর সংমিশ্রণে বৃষ্টি হয়।

তিনি জানান, বর্তমানে দক্ষিণ দিক থেকে আসা বাতাস ও তাপীয় লঘুচাপের প্রভাবেই এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি ১৭ মার্চ পর্যন্ত থাকতে পারে। এরপর বাতাসের ধরন পরিবর্তন হলে বৃষ্টিও কমে যেতে পারে।

বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। রোদের তেজ কম থাকায় আবহাওয়া তুলনামূলক ঠান্ডা অনুভূত হয়েছে।

সকাল ৯টায় দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ অবস্থান করছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, ১৩ মার্চ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু স্থানে এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই–এক জায়গায় দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

এ ছাড়া ১৪ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত দেশের প্রায় সব বিভাগেই কোথাও না কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বান্দরবানে, ৩৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে রাজশাহীর বদলগাছীতে, ৪৭ মিলিমিটার।

/এসএ/