দুঃসংবাদ দিলো আইএমএফ
দুঃসংবাদ দিলো আইএমএফ
বাংলাদেশে রাজনৈতিক সরকার আসায় বিগত সরকারের আমলে করা ঋণ সমঝোতা নিয়ে আর সামনে এগোনোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।


উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ হিসেবে লজিস্টিক ব্যয়ের উচ্চহার, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারব্যবস্থার বিভিন্ন অসঙ্গতিকে চিহ্নিত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

আইএমএফের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখনও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতিজনিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় শিল্পের জন্য নীতি সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

অর্থনীতির বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যেই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট দিতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। এই বাজেট শুধু নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক পরিকল্পনাই নয়, নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেরও প্রথম বড় পরীক্ষা।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক সরকার আসায় বিগত সরকারের আমলে করা ঋণ সমঝোতা নিয়ে আর সামনে এগোনোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

আবারও ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে গেল মূল্যস্ফীতি। সর্বশেষ এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ফলে জনসাধারণের ওপর চাপ আরেক দফা বাড়ল।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস। আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে অনেক অব্যবস্থাপনা ও অরাজকতা লাভ করেছি।’

বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে রপ্তানি আয় কমে গেছে। বেড়েছে আমদানি ব্যয়। যার ফলে বহির্বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে রাজস্ব ও আর্থিক খাতে সংস্কার থমকে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্যে তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতির পারদ কিছুটা নিম্নমুখী। তবে সাধারণ মানুষের পকেটে তার সুফল পৌঁছাচ্ছে না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ শতাংশের ওপরে।

বাজারে মাছ, সবজি ও ফলের দাম অনেক বেড়েছে। এ কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ফলে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।

বারবার মূল্যস্ফীতি কমানোর আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের শেষ সময়ে এসে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়েছে। টানা তিন মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী এই প্রবণতায় নিম্নআয়ের ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে গত ১০ দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৬০ জন। নিহতদের মধ্যে চারজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। এ ছাড়া সংঘাত ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে ২ হাজার ৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিদায়ী বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরেও বেড়েছে মূল্যস্ফীতি। নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, ডিসেম্বরে তা বেড়েছে হয়েছে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। দ্রব্যমূল্যের এ অস্বস্তি নিয়েই শেষ হলো ২০২৫ সাল।

২০২৫ সাল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিরল, ঘটনাবহুল বছর হিসেবে চিহ্নিত হলো। সামনে ২০২৬ সাল নতুন প্রত্যাশা নিয়ে এসেছে, তবে সঙ্গে আছে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাহাড়। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করেন, নতুন বছরে অর্থনীতিতে মোটা দাগে ৬ টি বড় চ্যালেঞ্জ লক্ষণীয়।
