শিরোনাম

অনলাইন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগ সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অনলাইন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগ সরকারের
সংসদে কথা বলছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

অনলাইন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির জন্য ই-কমার্স কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে সরকার জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে শেরপুর-১ আসনের বিরোধীদলীয় সদস্য এম রাশেদুল ইসলাম রাশেদের কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ই-কমার্স ব্যবসা একটি চলমান প্রক্রিয়া। ই-কমার্স কর্তৃপক্ষ গঠনের মাধ্যমে নিবন্ধিত মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, দেশে কোভিড-১৯ মহামারির আগে ও পরে অনলাইন ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। এসব এমএলএম কোম্পানিকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতি, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকাসহ বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।

আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ই-ভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউ-কম, ধামাকা শপিং ও আলিশা মার্টসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভোক্তারা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে মোট ৫৮ হাজার ৭২০টি আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ করেছেন। এসব অভিযোগের বিপরীতে আর্থিক দাবির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশে অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদারকি ও নিবন্ধনের জন্য কোনো আইনগত কর্তৃপক্ষ ছিল না। পরবর্তীতে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকা জারি করে এবং এসব প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন দেওয়ার দায়িত্ব যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরকে (আরজেএসসি) দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত আরজেএসসি প্রায় ১ হাজার ৯০২টি অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল নিবন্ধন দিয়েছে।

তিনি বলেন, অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ দায়েরের পর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫৩১ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে। উদ্ধার করা অর্থের মধ্যে ৪৭২ কোটি টাকা ইতোমধ্যে প্রকৃত ভোক্তাদের হিসাবে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি অর্থ প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত ভোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

/এসবি/