মূল্যস্ফীতির গাণিতিক হ্রাস বনাম মধ্যবিত্তের পকেটের বাস্তবতা

মূল্যস্ফীতির গাণিতিক হ্রাস বনাম মধ্যবিত্তের পকেটের বাস্তবতা
মরিয়ম সেঁজুতি

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতির পারদ কিছুটা নিম্নমুখী। তবে সাধারণ মানুষের পকেটে তার সুফল পৌঁছাচ্ছে না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ শতাংশের ওপরে।
আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মার্চ মাসের মূল্যস্ফীতির চিত্র প্রকাশ করেছে। টানা চার মাস ধরে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির পর মূল্যস্ফীতি সামান্য কমেছে। কিন্তু এই নিম্নমুখী প্রবণতা ছাপিয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের আয়ের সীমাবদ্ধতা। সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমলেও বাড়েনি শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্তের মজুরি, ফলে জীবনযাত্রার চাপে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষ। গাণিতিক এই হ্রাসকে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ ভোক্তারা। কারণ, মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার অনেক কম হওয়ায় মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমেছে আশঙ্কাজনকভাবে।
এদিকে, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব শুধু জ্বালানি নয়, এর প্রভাব পড়ছে সব ধরনের পণ্য, খাদ্যদ্রব্য এবং পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর। ফলে আগামী দিনে দ্রব্যমূল্য বাড়বে; এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
পরিসংখ্যান বনাম বাজারের বৈপরীত্য
টানা চার মাস বাড়ার পর মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নেমে এলেও বাজার পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। বিবিএসের হিসাবে মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। বিশেষ করে ঈদ উৎসবের কারণে পোশাক-পরিচ্ছদ ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
তবে এই তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি উচ্চমূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি সঞ্চয় বিনিয়োগে ফেলে নেতিবাচক প্রভাব। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সীমিত আয়ের মানুষেরা।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেম-এর নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান মনে করেন, বিবিএসের হিসাবের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার ব্যাপক ফারাক রয়েছে। তার মতে, বাজারে পণ্যমূল্যের যে উচ্চগতি, তাতে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশের হিসাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রকৃত চিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারছে না।
সেলিম রায়হান বলেন, বাজারে প্রত্যেকটি পণ্যের দাম উর্ধ্বমুখী। ঈদ সামনে রেখে যে দাম বেড়েছিল, ঈদ পরবর্তী তা আরো বেড়েছে। তিনি বলেন, মার্চ মাসের যে মূল্যস্ফীতির তথ্য বিবিএস প্রকাশ করেছে, এর সঙ্গে বাস্তবতার কোন মিল নেই। মূল্যস্ফীতি গণনা পদ্ধতির পর্যালোচনা দরকার বলেও মনে করেন তিনি।
মজুরি যখন মূল্যস্ফীতির নিচে
প্রতিবেদনটির সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দিক হলো মজুরি বৃদ্ধির হার। মার্চ মাসে জাতীয় মজুরি হার ছিল ৮ দশমিক ০৯ শতাংশ। অর্থাৎ, দেশে গড় মূল্যস্ফীতি (৮ দশমিক ৭১%) যে হারে বাড়ছে, মানুষের গড় আয় বা মজুরি বাড়ছে তার চেয়ে অনেক ধীরগতিতে। যখন মূল্যস্ফীতির হার মজুরি বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে যায়, তখন মানুষের ‘প্রকৃত আয়’ কমে যায়।
এর সহজ অর্থ হলো, গত বছর একশ টাকা দিয়ে একজন মানুষ যে পরিমাণ পণ্য কিনতে পারতেন, এখন মজুরি বাড়ার পরও তিনি সেই একই পরিমাণ পণ্য কিনতে পারছেন না। আয়ের তুলনায় ব্যয়ের এই অসম দৌড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নির্দিষ্ট বেতনের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ।
জীবনযাত্রায় কাটছাঁট ও ঋণের বোঝা
মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়ার অর্থ জিনিসের দাম কমে যাওয়া নয়, বরং দাম বাড়ার গতি কিছুটা ধীর হওয়া। কিন্তু মজুরি না বাড়ায় সাধারণ মানুষকে টিকে থাকার জন্য দুটি পথ বেছে নিতে হচ্ছে: হয় দৈনন্দিন ভোগে কাটছাঁট করা, না হয় ধারদেনা করে সংসার চালানো। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত অনেক পরিবার এখন মাছ-মাংসের মতো আমিষ জাতীয় খাবার তালিকা থেকে কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক খাতেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে অনেককে।
মতিঝিল এজিবি কলোনী কাচা বাজারে বাজার করেত আসা বেসরকারি চাকরিজীবি বাতেন খানের সঙ্গে কথা হয়। তার বাজারের তালিকা থেকে কী কী বাদ দেবেনÑ তা নিয়ে মহা দুশ্চিন্তায়। সিটিজেন জার্নালকে জানানÑ যা কিনবেন ভেবে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন, বাজারে এসে দ্রব্যমূল্য দেখে সেই ভাবনা নতুন করে ভাবতে হচ্ছে তাকে। বাতেন বলেন, শুধু খাদ্য নয়, বাসা ভাড়া, পরিবহণ খরচ, বিদ্যুৎ বিলÑ সব কিছুর চাপ একসঙ্গে বেড়েছে। এতে সঞ্চয় তো দূরের কথা, মাস শেষ করাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। তিনি বলেন, অমাাদের মাসের বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় মাসের বেতনও সর্ট পড়ে যায়। ফলে আগের জমানো টাকা থেকেও ভাঙতে হচ্ছে।
একই বাজারে রিকশা চালক মাসুদও একই দশার কথা জানালেন। তিনি বলেন, সারাদিন রিকশা চালিয়ে যা আয় করি তা দিয়ে দিনের বাজারের খরচও ওঠে না। তিনি বলেন, ৪ জনের সংসারে মাছ-মাংস কেনার কথা তো চিন্তাই করতে পারি না, এমনকি শুধু সবজি কিনতেও হিমশিম খেতে হয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির এই গাণিতিক হ্রাস ততক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য অর্থবহ হবে না, যতক্ষণ না মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতিকে ছাড়িয়ে যায়। বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি এবং সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় বৃদ্ধির পদক্ষেপ না নিলে মধ্যবিত্তের ওপর এই অর্থনৈতিক চাপ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসরুর রিয়াজ বলেন, যেহেতু মূল্যস্ফীতির কারণে বা অর্থনীতির স্লো ডাউনের ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে এবং চাহিদাও কমেছে। তিনি বলেন, এর ফলে অনেক ব্যবসায়ী, এমনকি উৎপাদনকারীরা বাজারজাতকরণও কমিয়ে দিয়েছে। সবমিলিয়ে মূল্যস্ফীতির এ উর্ধ্বগতি শুধূ সূচকেই নয়, সাধারণ মানুষের জীবন যাপনেও প্রভাব ফেলছে বলে জানান তিনি।
দ্রব্যমূল্য নিয়ে অর্থমন্ত্রীর দুঃসংবাদ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে অন্যান্য দেশের মতো আগামীতে বাংলাদেশেও পণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট মরার উপর খাড়ার ঘাঁয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। শুধু জ্বালানি নয়, এর প্রভাব পড়ছে সব ধরনের পণ্য, খাদ্যদ্রব্য এবং পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর। ফলে আগামী দিনে দ্রব্যমূল্য বাড়বে; এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
অর্থমন্ত্রী জানান, নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের ওপর চাপ কম রাখতে চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে একসময় এই চাপ বহন করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে। যদি সরকারি তহবিল এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে, তাহলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব জনগণের ওপরই পড়বে। তাই বিষয়টি বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতির পারদ কিছুটা নিম্নমুখী। তবে সাধারণ মানুষের পকেটে তার সুফল পৌঁছাচ্ছে না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ শতাংশের ওপরে।
আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মার্চ মাসের মূল্যস্ফীতির চিত্র প্রকাশ করেছে। টানা চার মাস ধরে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির পর মূল্যস্ফীতি সামান্য কমেছে। কিন্তু এই নিম্নমুখী প্রবণতা ছাপিয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের আয়ের সীমাবদ্ধতা। সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমলেও বাড়েনি শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্তের মজুরি, ফলে জীবনযাত্রার চাপে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষ। গাণিতিক এই হ্রাসকে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ ভোক্তারা। কারণ, মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার অনেক কম হওয়ায় মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমেছে আশঙ্কাজনকভাবে।
এদিকে, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব শুধু জ্বালানি নয়, এর প্রভাব পড়ছে সব ধরনের পণ্য, খাদ্যদ্রব্য এবং পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর। ফলে আগামী দিনে দ্রব্যমূল্য বাড়বে; এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
পরিসংখ্যান বনাম বাজারের বৈপরীত্য
টানা চার মাস বাড়ার পর মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নেমে এলেও বাজার পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। বিবিএসের হিসাবে মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। বিশেষ করে ঈদ উৎসবের কারণে পোশাক-পরিচ্ছদ ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
তবে এই তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি উচ্চমূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি সঞ্চয় বিনিয়োগে ফেলে নেতিবাচক প্রভাব। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সীমিত আয়ের মানুষেরা।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেম-এর নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান মনে করেন, বিবিএসের হিসাবের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার ব্যাপক ফারাক রয়েছে। তার মতে, বাজারে পণ্যমূল্যের যে উচ্চগতি, তাতে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশের হিসাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রকৃত চিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারছে না।
সেলিম রায়হান বলেন, বাজারে প্রত্যেকটি পণ্যের দাম উর্ধ্বমুখী। ঈদ সামনে রেখে যে দাম বেড়েছিল, ঈদ পরবর্তী তা আরো বেড়েছে। তিনি বলেন, মার্চ মাসের যে মূল্যস্ফীতির তথ্য বিবিএস প্রকাশ করেছে, এর সঙ্গে বাস্তবতার কোন মিল নেই। মূল্যস্ফীতি গণনা পদ্ধতির পর্যালোচনা দরকার বলেও মনে করেন তিনি।
মজুরি যখন মূল্যস্ফীতির নিচে
প্রতিবেদনটির সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দিক হলো মজুরি বৃদ্ধির হার। মার্চ মাসে জাতীয় মজুরি হার ছিল ৮ দশমিক ০৯ শতাংশ। অর্থাৎ, দেশে গড় মূল্যস্ফীতি (৮ দশমিক ৭১%) যে হারে বাড়ছে, মানুষের গড় আয় বা মজুরি বাড়ছে তার চেয়ে অনেক ধীরগতিতে। যখন মূল্যস্ফীতির হার মজুরি বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে যায়, তখন মানুষের ‘প্রকৃত আয়’ কমে যায়।
এর সহজ অর্থ হলো, গত বছর একশ টাকা দিয়ে একজন মানুষ যে পরিমাণ পণ্য কিনতে পারতেন, এখন মজুরি বাড়ার পরও তিনি সেই একই পরিমাণ পণ্য কিনতে পারছেন না। আয়ের তুলনায় ব্যয়ের এই অসম দৌড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নির্দিষ্ট বেতনের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ।
জীবনযাত্রায় কাটছাঁট ও ঋণের বোঝা
মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়ার অর্থ জিনিসের দাম কমে যাওয়া নয়, বরং দাম বাড়ার গতি কিছুটা ধীর হওয়া। কিন্তু মজুরি না বাড়ায় সাধারণ মানুষকে টিকে থাকার জন্য দুটি পথ বেছে নিতে হচ্ছে: হয় দৈনন্দিন ভোগে কাটছাঁট করা, না হয় ধারদেনা করে সংসার চালানো। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত অনেক পরিবার এখন মাছ-মাংসের মতো আমিষ জাতীয় খাবার তালিকা থেকে কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক খাতেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে অনেককে।
মতিঝিল এজিবি কলোনী কাচা বাজারে বাজার করেত আসা বেসরকারি চাকরিজীবি বাতেন খানের সঙ্গে কথা হয়। তার বাজারের তালিকা থেকে কী কী বাদ দেবেনÑ তা নিয়ে মহা দুশ্চিন্তায়। সিটিজেন জার্নালকে জানানÑ যা কিনবেন ভেবে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন, বাজারে এসে দ্রব্যমূল্য দেখে সেই ভাবনা নতুন করে ভাবতে হচ্ছে তাকে। বাতেন বলেন, শুধু খাদ্য নয়, বাসা ভাড়া, পরিবহণ খরচ, বিদ্যুৎ বিলÑ সব কিছুর চাপ একসঙ্গে বেড়েছে। এতে সঞ্চয় তো দূরের কথা, মাস শেষ করাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। তিনি বলেন, অমাাদের মাসের বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় মাসের বেতনও সর্ট পড়ে যায়। ফলে আগের জমানো টাকা থেকেও ভাঙতে হচ্ছে।
একই বাজারে রিকশা চালক মাসুদও একই দশার কথা জানালেন। তিনি বলেন, সারাদিন রিকশা চালিয়ে যা আয় করি তা দিয়ে দিনের বাজারের খরচও ওঠে না। তিনি বলেন, ৪ জনের সংসারে মাছ-মাংস কেনার কথা তো চিন্তাই করতে পারি না, এমনকি শুধু সবজি কিনতেও হিমশিম খেতে হয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির এই গাণিতিক হ্রাস ততক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য অর্থবহ হবে না, যতক্ষণ না মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতিকে ছাড়িয়ে যায়। বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি এবং সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় বৃদ্ধির পদক্ষেপ না নিলে মধ্যবিত্তের ওপর এই অর্থনৈতিক চাপ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসরুর রিয়াজ বলেন, যেহেতু মূল্যস্ফীতির কারণে বা অর্থনীতির স্লো ডাউনের ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে এবং চাহিদাও কমেছে। তিনি বলেন, এর ফলে অনেক ব্যবসায়ী, এমনকি উৎপাদনকারীরা বাজারজাতকরণও কমিয়ে দিয়েছে। সবমিলিয়ে মূল্যস্ফীতির এ উর্ধ্বগতি শুধূ সূচকেই নয়, সাধারণ মানুষের জীবন যাপনেও প্রভাব ফেলছে বলে জানান তিনি।
দ্রব্যমূল্য নিয়ে অর্থমন্ত্রীর দুঃসংবাদ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে অন্যান্য দেশের মতো আগামীতে বাংলাদেশেও পণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট মরার উপর খাড়ার ঘাঁয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। শুধু জ্বালানি নয়, এর প্রভাব পড়ছে সব ধরনের পণ্য, খাদ্যদ্রব্য এবং পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর। ফলে আগামী দিনে দ্রব্যমূল্য বাড়বে; এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
অর্থমন্ত্রী জানান, নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের ওপর চাপ কম রাখতে চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে একসময় এই চাপ বহন করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে। যদি সরকারি তহবিল এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে, তাহলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব জনগণের ওপরই পড়বে। তাই বিষয়টি বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

মূল্যস্ফীতির গাণিতিক হ্রাস বনাম মধ্যবিত্তের পকেটের বাস্তবতা
মরিয়ম সেঁজুতি

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতির পারদ কিছুটা নিম্নমুখী। তবে সাধারণ মানুষের পকেটে তার সুফল পৌঁছাচ্ছে না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ শতাংশের ওপরে।
আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মার্চ মাসের মূল্যস্ফীতির চিত্র প্রকাশ করেছে। টানা চার মাস ধরে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির পর মূল্যস্ফীতি সামান্য কমেছে। কিন্তু এই নিম্নমুখী প্রবণতা ছাপিয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের আয়ের সীমাবদ্ধতা। সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমলেও বাড়েনি শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্তের মজুরি, ফলে জীবনযাত্রার চাপে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষ। গাণিতিক এই হ্রাসকে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ ভোক্তারা। কারণ, মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার অনেক কম হওয়ায় মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমেছে আশঙ্কাজনকভাবে।
এদিকে, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব শুধু জ্বালানি নয়, এর প্রভাব পড়ছে সব ধরনের পণ্য, খাদ্যদ্রব্য এবং পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর। ফলে আগামী দিনে দ্রব্যমূল্য বাড়বে; এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
পরিসংখ্যান বনাম বাজারের বৈপরীত্য
টানা চার মাস বাড়ার পর মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নেমে এলেও বাজার পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। বিবিএসের হিসাবে মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। বিশেষ করে ঈদ উৎসবের কারণে পোশাক-পরিচ্ছদ ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
তবে এই তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি উচ্চমূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি সঞ্চয় বিনিয়োগে ফেলে নেতিবাচক প্রভাব। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সীমিত আয়ের মানুষেরা।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেম-এর নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান মনে করেন, বিবিএসের হিসাবের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার ব্যাপক ফারাক রয়েছে। তার মতে, বাজারে পণ্যমূল্যের যে উচ্চগতি, তাতে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশের হিসাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রকৃত চিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারছে না।
সেলিম রায়হান বলেন, বাজারে প্রত্যেকটি পণ্যের দাম উর্ধ্বমুখী। ঈদ সামনে রেখে যে দাম বেড়েছিল, ঈদ পরবর্তী তা আরো বেড়েছে। তিনি বলেন, মার্চ মাসের যে মূল্যস্ফীতির তথ্য বিবিএস প্রকাশ করেছে, এর সঙ্গে বাস্তবতার কোন মিল নেই। মূল্যস্ফীতি গণনা পদ্ধতির পর্যালোচনা দরকার বলেও মনে করেন তিনি।
মজুরি যখন মূল্যস্ফীতির নিচে
প্রতিবেদনটির সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দিক হলো মজুরি বৃদ্ধির হার। মার্চ মাসে জাতীয় মজুরি হার ছিল ৮ দশমিক ০৯ শতাংশ। অর্থাৎ, দেশে গড় মূল্যস্ফীতি (৮ দশমিক ৭১%) যে হারে বাড়ছে, মানুষের গড় আয় বা মজুরি বাড়ছে তার চেয়ে অনেক ধীরগতিতে। যখন মূল্যস্ফীতির হার মজুরি বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে যায়, তখন মানুষের ‘প্রকৃত আয়’ কমে যায়।
এর সহজ অর্থ হলো, গত বছর একশ টাকা দিয়ে একজন মানুষ যে পরিমাণ পণ্য কিনতে পারতেন, এখন মজুরি বাড়ার পরও তিনি সেই একই পরিমাণ পণ্য কিনতে পারছেন না। আয়ের তুলনায় ব্যয়ের এই অসম দৌড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নির্দিষ্ট বেতনের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ।
জীবনযাত্রায় কাটছাঁট ও ঋণের বোঝা
মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়ার অর্থ জিনিসের দাম কমে যাওয়া নয়, বরং দাম বাড়ার গতি কিছুটা ধীর হওয়া। কিন্তু মজুরি না বাড়ায় সাধারণ মানুষকে টিকে থাকার জন্য দুটি পথ বেছে নিতে হচ্ছে: হয় দৈনন্দিন ভোগে কাটছাঁট করা, না হয় ধারদেনা করে সংসার চালানো। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত অনেক পরিবার এখন মাছ-মাংসের মতো আমিষ জাতীয় খাবার তালিকা থেকে কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক খাতেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে অনেককে।
মতিঝিল এজিবি কলোনী কাচা বাজারে বাজার করেত আসা বেসরকারি চাকরিজীবি বাতেন খানের সঙ্গে কথা হয়। তার বাজারের তালিকা থেকে কী কী বাদ দেবেনÑ তা নিয়ে মহা দুশ্চিন্তায়। সিটিজেন জার্নালকে জানানÑ যা কিনবেন ভেবে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন, বাজারে এসে দ্রব্যমূল্য দেখে সেই ভাবনা নতুন করে ভাবতে হচ্ছে তাকে। বাতেন বলেন, শুধু খাদ্য নয়, বাসা ভাড়া, পরিবহণ খরচ, বিদ্যুৎ বিলÑ সব কিছুর চাপ একসঙ্গে বেড়েছে। এতে সঞ্চয় তো দূরের কথা, মাস শেষ করাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। তিনি বলেন, অমাাদের মাসের বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় মাসের বেতনও সর্ট পড়ে যায়। ফলে আগের জমানো টাকা থেকেও ভাঙতে হচ্ছে।
একই বাজারে রিকশা চালক মাসুদও একই দশার কথা জানালেন। তিনি বলেন, সারাদিন রিকশা চালিয়ে যা আয় করি তা দিয়ে দিনের বাজারের খরচও ওঠে না। তিনি বলেন, ৪ জনের সংসারে মাছ-মাংস কেনার কথা তো চিন্তাই করতে পারি না, এমনকি শুধু সবজি কিনতেও হিমশিম খেতে হয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির এই গাণিতিক হ্রাস ততক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য অর্থবহ হবে না, যতক্ষণ না মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতিকে ছাড়িয়ে যায়। বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি এবং সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় বৃদ্ধির পদক্ষেপ না নিলে মধ্যবিত্তের ওপর এই অর্থনৈতিক চাপ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসরুর রিয়াজ বলেন, যেহেতু মূল্যস্ফীতির কারণে বা অর্থনীতির স্লো ডাউনের ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে এবং চাহিদাও কমেছে। তিনি বলেন, এর ফলে অনেক ব্যবসায়ী, এমনকি উৎপাদনকারীরা বাজারজাতকরণও কমিয়ে দিয়েছে। সবমিলিয়ে মূল্যস্ফীতির এ উর্ধ্বগতি শুধূ সূচকেই নয়, সাধারণ মানুষের জীবন যাপনেও প্রভাব ফেলছে বলে জানান তিনি।
দ্রব্যমূল্য নিয়ে অর্থমন্ত্রীর দুঃসংবাদ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে অন্যান্য দেশের মতো আগামীতে বাংলাদেশেও পণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট মরার উপর খাড়ার ঘাঁয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। শুধু জ্বালানি নয়, এর প্রভাব পড়ছে সব ধরনের পণ্য, খাদ্যদ্রব্য এবং পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর। ফলে আগামী দিনে দ্রব্যমূল্য বাড়বে; এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
অর্থমন্ত্রী জানান, নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের ওপর চাপ কম রাখতে চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে একসময় এই চাপ বহন করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে। যদি সরকারি তহবিল এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে, তাহলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব জনগণের ওপরই পড়বে। তাই বিষয়টি বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।




