মূল্যস্ফীতি বাড়ায় অতিষ্ঠ জীবন

মূল্যস্ফীতি বাড়ায় অতিষ্ঠ জীবন
মরিয়ম সেঁজুতি

আমদানি ব্যয়, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধিসহ নানা কারণে দেশের অর্থনীতি এখন অনেকটা স্থবির। এর মধ্যেই ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এই মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে উঠে এসেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার আরও বেশি।
মূল্যস্ফীতির হার বাড়লেও কমছে মজুরির হার। এটি কমে এখন ৮ দশমিক ০৬ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে। খরচ বাড়ায় অনেক মানুষ চাল, ডাল, তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। এতে পুষ্টিহীনতার কারণে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন বেড়েছে তেমনি ভবিষৎও হয়ে পড়েছে অনিশ্চিত। সরকার অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ব্যয় কমানোর নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ কতটা ফল বয়ে আনবে তা নিয়ে চিন্তিত অর্থনীতিবিদেরা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বুরোর (বিবিএস) ৮ মার্চ প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আর ফেব্রুয়ারিতে মজুরি বৃদ্ধির হার কমে জানুয়ারির ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ০৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
বিবিএসের এই হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি বাড়লেও শ্রমিকদের মজুরি সেই অনুপাতে বাড়ছে না। এতে তাদের ক্রয়ক্ষমতা আরও কমে গেছে।
বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চালের দামের চাপ কিছুটা কমলেও মাছ, সবজি ও ফলের দাম বেড়েছে। এ কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ফলে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে রোজার প্রায় শেষ সময়েও কমেনি বেশিরভাগ সবজির দাম। ডিম, মুরগির দামও একই অবস্থা। কমেনি মাছ, মাংস ও ডালের দাম।
ভোজ্যতেল, খেজুরসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্য সিন্ডিকেটের কারণে বেশি দরে বিক্রি হওয়ায় ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। অথচ শ্রমিকদের মজুরি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে বাড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। আয় কমে যাওয়ায় অনেকেই এখন সঞ্চয় ভেঙে সংসার চালাচ্ছেন, কমিয়ে দিয়েছেন অতিপ্রয়োজনীয় খরচ।
সরকারি তথ্য বলছে, দেশে মূল্যস্ফীতির হার গত এক বছরে বেশ কিছুটা কমেছে। কিন্তু কমলাপুরের মুদি দোকানি সালাম জেনারেল স্টোরের মালিক মো. সালামের কথা কথায় উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। তিনি বলছেন, বেচাকেনা কমতির দিকে। এক বছরের ব্যবধানে তার দোকানে বিক্রি কমেছে ২০-২৫ শতাংশ। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মানুষের আয় আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। ফলে তারা নিত্যপণ্যও কম কিনছেন।
মুল্যস্ফীতির সরকারি তথ্য ও বাস্তবতা
সরকারের হিসাবে এক বছরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও বাজারে তার প্রভাব পড়েনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমেনি। দাম বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই কমার কোনো প্রভাব পড়েনি বা স্বস্তি অনুভূত হয়নি।
এই বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, যদি পণ্যের দাম কমে, তবেই স্বস্তি আসবে। আগে যা ১২ শতাংশ হারে বাড়ছিল, এখন তা ৮-৯ শতাংশ হারে বাড়ছে, কিন্তু বাড়ছে তো। প্রধান খাদ্যপণ্য চালের দাম এখনো বাড়তি। অন্যান্য পণ্যের দামও প্রতিবেশী দেশের তুলনায় বেশি।
সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে ড. জাহিদ বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উদ্যোগ থাকলেও তা এখনও সাধারণ মানুষের জীবনে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি।
শহরের চেয়ে গ্রামে মূল্যস্ফীতি বেশি
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামের মূল্যস্ফীতির হার শহরের চেয়ে বেশি। ফেব্রুয়ারিতে গ্রামীণ এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ২১ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। অন্যদিকে শহরে এই হার বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
গ্রাম ও শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি
গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার জানুয়ারির ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ফেব্রুয়ারিতে ৯ দশমিক ০৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এ ছাড়া খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ।
শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখন সবচেয়ে বেশি। ফেব্রুয়ারিতে এই হার ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশে পৌছেছে, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার সামান্য বেড়েছে। তবে তা ৯ শতাংশের নিচে রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশে পৌঁছলেও জানুয়ারিতে তা ছিল ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
মুল্যস্ফীতি বেড়েছে, কমেছে মজুরি
বিবিএসের তথ্য বলেছে, মূল্যস্ফীতি বাড়লেও সেই তুলনায় মজুরির হার বাড়েনি। ফেব্রুয়ারিতে এই হার কমে জানুয়ারির ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ০৬ শতাংশে নেমেছে। কৃষিতে এই হার কমে ৮ দশমিক ১০ শতাংশে, শিল্পে ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশে এবং সেবা খাতে কমে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ হয়েছে।
যেসব কারণে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি
অর্থনীতিবিদদের মতে পাঁচ কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এগুলো হচ্ছে আমদানি ব্যয় ও ডলারের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, সরবরাহ ও মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব, বৈশ্বিক বাজারের প্রভাব ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি।
১. আমদানি ব্যয় ও ডলারের দাম বৃদ্ধি
বাংলাদেশ অনেক নিত্যপণ্য ও কাঁচামাল আমদানি করে। ডলারের দাম বাড়লে আমদানির খরচ বেড়ে যায়। ফলে ভোজ্যতেল, ডাল, গম, জ্বালানিসহ অনেক পণ্যের দাম বেড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ে।
২. জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি
ডিজেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়লে পরিবহন খরচও বেড়ে যায়। এর প্রভাব সরাসরি পণ্যের দামের ওপর পড়ে। কৃষিপণ্য থেকে শুরু করে শিল্পপণ্য—সবকিছুর দাম বেড়ে যায়।
৩. সরবরাহ ব্যবস্থা ও মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব
উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছাতে অনেক মধ্যস্বত্বভোগী জড়িত থাকে। অনেক সময় কৃত্রিম সংকট, মজুদদারি বা বাজার কারসাজির কারণে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
৪. বৈশ্বিক বাজারের প্রভাব
বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্য, জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বাড়লে তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। বিশেষ করে যুদ্ধ, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট বা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলে দেশের মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।
৫. উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি
কৃষি ও শিল্পখাতে সার, জ্বালানি, শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচ বাড়লে উৎপাদন খরচও বাড়ে। এই বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ায়।
মূল্যস্ফীতি কমাতে যা করা উচিত
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে। এগুলো হচ্ছে বাজার তদারকি জোরদার করা, নিত্যপণ্যের সরবরাহ বাড়ানো. কৃষি উৎপাদনে সহায়তা, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো।
মূল্যস্ফীতির চাপ এখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু পরিসংখ্যানগতভাবে মূল্যস্ফীতির হার কমলেই মানুষ স্বস্তি পায় না—বাজারে পণ্যের দাম বাস্তবে কমতে হবে এবং আয় বাড়াতে হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, সরবরাহ বাড়ানো এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে মূল্যস্ফীতির চাপ ধীরে ধীরে কমানো সম্ভব। তা না হলে মূল্যস্ফীতির এই চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও দীর্ঘ সময় ধরে অস্থির করে রাখবে।

আমদানি ব্যয়, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধিসহ নানা কারণে দেশের অর্থনীতি এখন অনেকটা স্থবির। এর মধ্যেই ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এই মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে উঠে এসেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার আরও বেশি।
মূল্যস্ফীতির হার বাড়লেও কমছে মজুরির হার। এটি কমে এখন ৮ দশমিক ০৬ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে। খরচ বাড়ায় অনেক মানুষ চাল, ডাল, তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। এতে পুষ্টিহীনতার কারণে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন বেড়েছে তেমনি ভবিষৎও হয়ে পড়েছে অনিশ্চিত। সরকার অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ব্যয় কমানোর নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ কতটা ফল বয়ে আনবে তা নিয়ে চিন্তিত অর্থনীতিবিদেরা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বুরোর (বিবিএস) ৮ মার্চ প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আর ফেব্রুয়ারিতে মজুরি বৃদ্ধির হার কমে জানুয়ারির ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ০৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
বিবিএসের এই হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি বাড়লেও শ্রমিকদের মজুরি সেই অনুপাতে বাড়ছে না। এতে তাদের ক্রয়ক্ষমতা আরও কমে গেছে।
বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চালের দামের চাপ কিছুটা কমলেও মাছ, সবজি ও ফলের দাম বেড়েছে। এ কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ফলে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে রোজার প্রায় শেষ সময়েও কমেনি বেশিরভাগ সবজির দাম। ডিম, মুরগির দামও একই অবস্থা। কমেনি মাছ, মাংস ও ডালের দাম।
ভোজ্যতেল, খেজুরসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্য সিন্ডিকেটের কারণে বেশি দরে বিক্রি হওয়ায় ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। অথচ শ্রমিকদের মজুরি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে বাড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। আয় কমে যাওয়ায় অনেকেই এখন সঞ্চয় ভেঙে সংসার চালাচ্ছেন, কমিয়ে দিয়েছেন অতিপ্রয়োজনীয় খরচ।
সরকারি তথ্য বলছে, দেশে মূল্যস্ফীতির হার গত এক বছরে বেশ কিছুটা কমেছে। কিন্তু কমলাপুরের মুদি দোকানি সালাম জেনারেল স্টোরের মালিক মো. সালামের কথা কথায় উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। তিনি বলছেন, বেচাকেনা কমতির দিকে। এক বছরের ব্যবধানে তার দোকানে বিক্রি কমেছে ২০-২৫ শতাংশ। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মানুষের আয় আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। ফলে তারা নিত্যপণ্যও কম কিনছেন।
মুল্যস্ফীতির সরকারি তথ্য ও বাস্তবতা
সরকারের হিসাবে এক বছরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও বাজারে তার প্রভাব পড়েনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমেনি। দাম বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই কমার কোনো প্রভাব পড়েনি বা স্বস্তি অনুভূত হয়নি।
এই বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, যদি পণ্যের দাম কমে, তবেই স্বস্তি আসবে। আগে যা ১২ শতাংশ হারে বাড়ছিল, এখন তা ৮-৯ শতাংশ হারে বাড়ছে, কিন্তু বাড়ছে তো। প্রধান খাদ্যপণ্য চালের দাম এখনো বাড়তি। অন্যান্য পণ্যের দামও প্রতিবেশী দেশের তুলনায় বেশি।
সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে ড. জাহিদ বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উদ্যোগ থাকলেও তা এখনও সাধারণ মানুষের জীবনে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি।
শহরের চেয়ে গ্রামে মূল্যস্ফীতি বেশি
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামের মূল্যস্ফীতির হার শহরের চেয়ে বেশি। ফেব্রুয়ারিতে গ্রামীণ এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ২১ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। অন্যদিকে শহরে এই হার বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
গ্রাম ও শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি
গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার জানুয়ারির ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ফেব্রুয়ারিতে ৯ দশমিক ০৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এ ছাড়া খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ।
শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখন সবচেয়ে বেশি। ফেব্রুয়ারিতে এই হার ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশে পৌছেছে, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার সামান্য বেড়েছে। তবে তা ৯ শতাংশের নিচে রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশে পৌঁছলেও জানুয়ারিতে তা ছিল ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
মুল্যস্ফীতি বেড়েছে, কমেছে মজুরি
বিবিএসের তথ্য বলেছে, মূল্যস্ফীতি বাড়লেও সেই তুলনায় মজুরির হার বাড়েনি। ফেব্রুয়ারিতে এই হার কমে জানুয়ারির ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ০৬ শতাংশে নেমেছে। কৃষিতে এই হার কমে ৮ দশমিক ১০ শতাংশে, শিল্পে ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশে এবং সেবা খাতে কমে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ হয়েছে।
যেসব কারণে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি
অর্থনীতিবিদদের মতে পাঁচ কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এগুলো হচ্ছে আমদানি ব্যয় ও ডলারের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, সরবরাহ ও মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব, বৈশ্বিক বাজারের প্রভাব ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি।
১. আমদানি ব্যয় ও ডলারের দাম বৃদ্ধি
বাংলাদেশ অনেক নিত্যপণ্য ও কাঁচামাল আমদানি করে। ডলারের দাম বাড়লে আমদানির খরচ বেড়ে যায়। ফলে ভোজ্যতেল, ডাল, গম, জ্বালানিসহ অনেক পণ্যের দাম বেড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ে।
২. জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি
ডিজেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়লে পরিবহন খরচও বেড়ে যায়। এর প্রভাব সরাসরি পণ্যের দামের ওপর পড়ে। কৃষিপণ্য থেকে শুরু করে শিল্পপণ্য—সবকিছুর দাম বেড়ে যায়।
৩. সরবরাহ ব্যবস্থা ও মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব
উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছাতে অনেক মধ্যস্বত্বভোগী জড়িত থাকে। অনেক সময় কৃত্রিম সংকট, মজুদদারি বা বাজার কারসাজির কারণে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
৪. বৈশ্বিক বাজারের প্রভাব
বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্য, জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বাড়লে তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। বিশেষ করে যুদ্ধ, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট বা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলে দেশের মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।
৫. উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি
কৃষি ও শিল্পখাতে সার, জ্বালানি, শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচ বাড়লে উৎপাদন খরচও বাড়ে। এই বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ায়।
মূল্যস্ফীতি কমাতে যা করা উচিত
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে। এগুলো হচ্ছে বাজার তদারকি জোরদার করা, নিত্যপণ্যের সরবরাহ বাড়ানো. কৃষি উৎপাদনে সহায়তা, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো।
মূল্যস্ফীতির চাপ এখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু পরিসংখ্যানগতভাবে মূল্যস্ফীতির হার কমলেই মানুষ স্বস্তি পায় না—বাজারে পণ্যের দাম বাস্তবে কমতে হবে এবং আয় বাড়াতে হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, সরবরাহ বাড়ানো এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে মূল্যস্ফীতির চাপ ধীরে ধীরে কমানো সম্ভব। তা না হলে মূল্যস্ফীতির এই চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও দীর্ঘ সময় ধরে অস্থির করে রাখবে।

মূল্যস্ফীতি বাড়ায় অতিষ্ঠ জীবন
মরিয়ম সেঁজুতি

আমদানি ব্যয়, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধিসহ নানা কারণে দেশের অর্থনীতি এখন অনেকটা স্থবির। এর মধ্যেই ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এই মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে উঠে এসেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার আরও বেশি।
মূল্যস্ফীতির হার বাড়লেও কমছে মজুরির হার। এটি কমে এখন ৮ দশমিক ০৬ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে। খরচ বাড়ায় অনেক মানুষ চাল, ডাল, তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। এতে পুষ্টিহীনতার কারণে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন বেড়েছে তেমনি ভবিষৎও হয়ে পড়েছে অনিশ্চিত। সরকার অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ব্যয় কমানোর নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ কতটা ফল বয়ে আনবে তা নিয়ে চিন্তিত অর্থনীতিবিদেরা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বুরোর (বিবিএস) ৮ মার্চ প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আর ফেব্রুয়ারিতে মজুরি বৃদ্ধির হার কমে জানুয়ারির ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ০৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
বিবিএসের এই হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি বাড়লেও শ্রমিকদের মজুরি সেই অনুপাতে বাড়ছে না। এতে তাদের ক্রয়ক্ষমতা আরও কমে গেছে।
বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চালের দামের চাপ কিছুটা কমলেও মাছ, সবজি ও ফলের দাম বেড়েছে। এ কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ফলে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে রোজার প্রায় শেষ সময়েও কমেনি বেশিরভাগ সবজির দাম। ডিম, মুরগির দামও একই অবস্থা। কমেনি মাছ, মাংস ও ডালের দাম।
ভোজ্যতেল, খেজুরসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্য সিন্ডিকেটের কারণে বেশি দরে বিক্রি হওয়ায় ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। অথচ শ্রমিকদের মজুরি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে বাড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। আয় কমে যাওয়ায় অনেকেই এখন সঞ্চয় ভেঙে সংসার চালাচ্ছেন, কমিয়ে দিয়েছেন অতিপ্রয়োজনীয় খরচ।
সরকারি তথ্য বলছে, দেশে মূল্যস্ফীতির হার গত এক বছরে বেশ কিছুটা কমেছে। কিন্তু কমলাপুরের মুদি দোকানি সালাম জেনারেল স্টোরের মালিক মো. সালামের কথা কথায় উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। তিনি বলছেন, বেচাকেনা কমতির দিকে। এক বছরের ব্যবধানে তার দোকানে বিক্রি কমেছে ২০-২৫ শতাংশ। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মানুষের আয় আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। ফলে তারা নিত্যপণ্যও কম কিনছেন।
মুল্যস্ফীতির সরকারি তথ্য ও বাস্তবতা
সরকারের হিসাবে এক বছরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও বাজারে তার প্রভাব পড়েনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমেনি। দাম বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই কমার কোনো প্রভাব পড়েনি বা স্বস্তি অনুভূত হয়নি।
এই বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, যদি পণ্যের দাম কমে, তবেই স্বস্তি আসবে। আগে যা ১২ শতাংশ হারে বাড়ছিল, এখন তা ৮-৯ শতাংশ হারে বাড়ছে, কিন্তু বাড়ছে তো। প্রধান খাদ্যপণ্য চালের দাম এখনো বাড়তি। অন্যান্য পণ্যের দামও প্রতিবেশী দেশের তুলনায় বেশি।
সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে ড. জাহিদ বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উদ্যোগ থাকলেও তা এখনও সাধারণ মানুষের জীবনে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি।
শহরের চেয়ে গ্রামে মূল্যস্ফীতি বেশি
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামের মূল্যস্ফীতির হার শহরের চেয়ে বেশি। ফেব্রুয়ারিতে গ্রামীণ এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ২১ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। অন্যদিকে শহরে এই হার বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
গ্রাম ও শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি
গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার জানুয়ারির ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ফেব্রুয়ারিতে ৯ দশমিক ০৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এ ছাড়া খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ।
শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখন সবচেয়ে বেশি। ফেব্রুয়ারিতে এই হার ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশে পৌছেছে, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার সামান্য বেড়েছে। তবে তা ৯ শতাংশের নিচে রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশে পৌঁছলেও জানুয়ারিতে তা ছিল ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
মুল্যস্ফীতি বেড়েছে, কমেছে মজুরি
বিবিএসের তথ্য বলেছে, মূল্যস্ফীতি বাড়লেও সেই তুলনায় মজুরির হার বাড়েনি। ফেব্রুয়ারিতে এই হার কমে জানুয়ারির ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ০৬ শতাংশে নেমেছে। কৃষিতে এই হার কমে ৮ দশমিক ১০ শতাংশে, শিল্পে ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশে এবং সেবা খাতে কমে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ হয়েছে।
যেসব কারণে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি
অর্থনীতিবিদদের মতে পাঁচ কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এগুলো হচ্ছে আমদানি ব্যয় ও ডলারের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, সরবরাহ ও মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব, বৈশ্বিক বাজারের প্রভাব ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি।
১. আমদানি ব্যয় ও ডলারের দাম বৃদ্ধি
বাংলাদেশ অনেক নিত্যপণ্য ও কাঁচামাল আমদানি করে। ডলারের দাম বাড়লে আমদানির খরচ বেড়ে যায়। ফলে ভোজ্যতেল, ডাল, গম, জ্বালানিসহ অনেক পণ্যের দাম বেড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ে।
২. জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি
ডিজেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়লে পরিবহন খরচও বেড়ে যায়। এর প্রভাব সরাসরি পণ্যের দামের ওপর পড়ে। কৃষিপণ্য থেকে শুরু করে শিল্পপণ্য—সবকিছুর দাম বেড়ে যায়।
৩. সরবরাহ ব্যবস্থা ও মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব
উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছাতে অনেক মধ্যস্বত্বভোগী জড়িত থাকে। অনেক সময় কৃত্রিম সংকট, মজুদদারি বা বাজার কারসাজির কারণে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
৪. বৈশ্বিক বাজারের প্রভাব
বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্য, জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বাড়লে তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। বিশেষ করে যুদ্ধ, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট বা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলে দেশের মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।
৫. উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি
কৃষি ও শিল্পখাতে সার, জ্বালানি, শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচ বাড়লে উৎপাদন খরচও বাড়ে। এই বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ায়।
মূল্যস্ফীতি কমাতে যা করা উচিত
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে। এগুলো হচ্ছে বাজার তদারকি জোরদার করা, নিত্যপণ্যের সরবরাহ বাড়ানো. কৃষি উৎপাদনে সহায়তা, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো।
মূল্যস্ফীতির চাপ এখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু পরিসংখ্যানগতভাবে মূল্যস্ফীতির হার কমলেই মানুষ স্বস্তি পায় না—বাজারে পণ্যের দাম বাস্তবে কমতে হবে এবং আয় বাড়াতে হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, সরবরাহ বাড়ানো এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে মূল্যস্ফীতির চাপ ধীরে ধীরে কমানো সম্ভব। তা না হলে মূল্যস্ফীতির এই চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও দীর্ঘ সময় ধরে অস্থির করে রাখবে।




