বাজেটে যেসব বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার

বাজেটে যেসব বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট দিতে যাচ্ছে সরকার। বাজেটে দেশীয় শিল্পের বিকাশ, আমদানি নির্ভরতা কমানো, কর ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার, নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখা, সামাজিক নিরাপত্তা খাত এবং ভ্যাট ব্যবস্থা ডিজিটালাইজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একইসঙ্গে ‘সম্পদ কর’ চালু ও উৎপাদিত পণ্যে দ্বৈত কর পরিহারের উদ্যোগও থাকছে সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায়। প্রস্তাবিত এই বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বা ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি।
দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও আমদানি নির্ভরতা কমানো
আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশে বাজেটে শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শুল্ক সুবিধা, সহজ ঋণ ও প্রণোদনা, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন, কৃষি ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পে সহায়তা, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর মাধ্যমে মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। স্থানীয় উৎপাদন বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার বিষয়ও এবারের বাজেটে অগ্রাধিকার পাবে। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় শিল্পের জন্য নীতি সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ, চলচ্চিত্র, সংগীত ও ক্রীড়া শিল্পের প্রসারেও বাজেটে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নিত্যপণ্যের দাম সহনশীল রাখার উদ্যোগ
ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির মধ্যে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে বাজেটে নিত্যপণ্যের দাম সহনশীল রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। জনপ্রত্যাশা পূরণে নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো কল্যাণমূলক কর্মসূচি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী বাজেটে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কৃষিতে ২৭ হাজার কোটি টাকা ও খাদ্যে ৯,৫০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে যাচ্ছে ।
দ্বিগুণ কর আরোপ হবে না: উৎপাদিত পণ্যে বিশেষ সুবিধা
প্রস্তাবিত বাজেটে স্পষ্ট করে বলা হচ্ছে, উৎপাদিত পণ্যের ওপর দুইবার কর আরোপ করা হবে না। এই নীতি দেশীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতামূলক করতে এবং কর জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। ‘দ্বিগুণ কর পরিহারের সুবিধা’ পেতে এনবিআরের সনদ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে কার্যকর রয়েছে। নতুন বাজেটে দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে আমদানি পর্যায়ে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ ও স্থানীয় পর্যায়ে কর ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হতে পারে।
সম্পদ কর ব্যবস্থা থেকে সরে সারচার্জে থাকছে সরকার
২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে প্রচলিত ‘সারচার্জ’পদ্ধতি বাতিল করে নতুন ‘সম্পদ কর আরোপ করার চিন্তা করেছিল সরকার। এই কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ধনীদের কাছ থেকে বাড়তি রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি কর ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে চেয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
নতুন নিয়মে করদাতার নিট সম্পদের ওপর ভিত্তি করে কর নির্ধারণ করা হবে এমনটাই বলা হয়েছিল। সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করা হবে ‘মৌজা মূল্য বা বাজার মূল্যের ভিত্তিতে যা আগে ছিল ‘দলিল মূল্য’। যাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের (জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স) মূল্য ৪ কোটি টাকার বেশি, তারাই এই নতুন করের আওতায় আসার কথা ছিল। বর্তমানে যারা সারচার্জ দিচ্ছেন, তারাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পদ করের আওতায় চলে আসবেন বলা হয়েছিল। তবে সরকার সেই পথ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। আগের মতোই থাকছে সারচার্জ।
এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ বলেন, ‘কর ন্যায্যতার প্রেক্ষাপটে যার আয় ও সম্পদ বেশি তার করের বোঝা বেশি হওয়া উচিত। সম্পদ কর রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও বৈষম্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’ .
সার চার্জ কি?
দেশের ধনাঢ্য বা শিল্পপতিদের কাছ থেকে তাদের আয়ের ওপর সাধারণ করের পাশাপাশি বাড়তি কর আরোপ করা হয়। এই বিষয়টিকেই সারচার্জ বলা হয়ে থাকে।
ভ্যাট ডিজিটালাইজেশন: আসছে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা
ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে যাচ্ছে সরকার। এনবিআরের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের কর প্রশাসন হবে অটোমেশনভিত্তিক ও করদাতাবান্ধব। তিনি আরও বলেন, ভ্যাটকে ‘সরবরাহভিত্তিক’ কাঠামোয় রূপান্তরের প্রস্তাব এবং পণ্য ও সেবা উভয়কেই আমদানির আওতায় আনা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যা ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। টার্নওভার সীমা বাড়ানো ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় (এমএফএসে) ভ্যাট জমার ব্যবস্থা হবে নতুন সংস্কারের অধ্যায়।
ব্যবসায়ীদের মতে ‘জটিল করব্যবস্থা ব্যবসার ব্যয় বাড়ায় এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিক কর কাঠামোর বাইরে রাখে। করহার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট দিতে যাচ্ছে সরকার। বাজেটে দেশীয় শিল্পের বিকাশ, আমদানি নির্ভরতা কমানো, কর ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার, নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখা, সামাজিক নিরাপত্তা খাত এবং ভ্যাট ব্যবস্থা ডিজিটালাইজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একইসঙ্গে ‘সম্পদ কর’ চালু ও উৎপাদিত পণ্যে দ্বৈত কর পরিহারের উদ্যোগও থাকছে সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায়। প্রস্তাবিত এই বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বা ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি।
দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও আমদানি নির্ভরতা কমানো
আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশে বাজেটে শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শুল্ক সুবিধা, সহজ ঋণ ও প্রণোদনা, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন, কৃষি ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পে সহায়তা, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর মাধ্যমে মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। স্থানীয় উৎপাদন বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার বিষয়ও এবারের বাজেটে অগ্রাধিকার পাবে। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় শিল্পের জন্য নীতি সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ, চলচ্চিত্র, সংগীত ও ক্রীড়া শিল্পের প্রসারেও বাজেটে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নিত্যপণ্যের দাম সহনশীল রাখার উদ্যোগ
ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির মধ্যে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে বাজেটে নিত্যপণ্যের দাম সহনশীল রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। জনপ্রত্যাশা পূরণে নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো কল্যাণমূলক কর্মসূচি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী বাজেটে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কৃষিতে ২৭ হাজার কোটি টাকা ও খাদ্যে ৯,৫০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে যাচ্ছে ।
দ্বিগুণ কর আরোপ হবে না: উৎপাদিত পণ্যে বিশেষ সুবিধা
প্রস্তাবিত বাজেটে স্পষ্ট করে বলা হচ্ছে, উৎপাদিত পণ্যের ওপর দুইবার কর আরোপ করা হবে না। এই নীতি দেশীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতামূলক করতে এবং কর জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। ‘দ্বিগুণ কর পরিহারের সুবিধা’ পেতে এনবিআরের সনদ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে কার্যকর রয়েছে। নতুন বাজেটে দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে আমদানি পর্যায়ে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ ও স্থানীয় পর্যায়ে কর ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হতে পারে।
সম্পদ কর ব্যবস্থা থেকে সরে সারচার্জে থাকছে সরকার
২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে প্রচলিত ‘সারচার্জ’পদ্ধতি বাতিল করে নতুন ‘সম্পদ কর আরোপ করার চিন্তা করেছিল সরকার। এই কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ধনীদের কাছ থেকে বাড়তি রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি কর ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে চেয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
নতুন নিয়মে করদাতার নিট সম্পদের ওপর ভিত্তি করে কর নির্ধারণ করা হবে এমনটাই বলা হয়েছিল। সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করা হবে ‘মৌজা মূল্য বা বাজার মূল্যের ভিত্তিতে যা আগে ছিল ‘দলিল মূল্য’। যাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের (জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স) মূল্য ৪ কোটি টাকার বেশি, তারাই এই নতুন করের আওতায় আসার কথা ছিল। বর্তমানে যারা সারচার্জ দিচ্ছেন, তারাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পদ করের আওতায় চলে আসবেন বলা হয়েছিল। তবে সরকার সেই পথ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। আগের মতোই থাকছে সারচার্জ।
এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ বলেন, ‘কর ন্যায্যতার প্রেক্ষাপটে যার আয় ও সম্পদ বেশি তার করের বোঝা বেশি হওয়া উচিত। সম্পদ কর রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও বৈষম্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’ .
সার চার্জ কি?
দেশের ধনাঢ্য বা শিল্পপতিদের কাছ থেকে তাদের আয়ের ওপর সাধারণ করের পাশাপাশি বাড়তি কর আরোপ করা হয়। এই বিষয়টিকেই সারচার্জ বলা হয়ে থাকে।
ভ্যাট ডিজিটালাইজেশন: আসছে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা
ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে যাচ্ছে সরকার। এনবিআরের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের কর প্রশাসন হবে অটোমেশনভিত্তিক ও করদাতাবান্ধব। তিনি আরও বলেন, ভ্যাটকে ‘সরবরাহভিত্তিক’ কাঠামোয় রূপান্তরের প্রস্তাব এবং পণ্য ও সেবা উভয়কেই আমদানির আওতায় আনা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যা ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। টার্নওভার সীমা বাড়ানো ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় (এমএফএসে) ভ্যাট জমার ব্যবস্থা হবে নতুন সংস্কারের অধ্যায়।
ব্যবসায়ীদের মতে ‘জটিল করব্যবস্থা ব্যবসার ব্যয় বাড়ায় এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিক কর কাঠামোর বাইরে রাখে। করহার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’

বাজেটে যেসব বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট দিতে যাচ্ছে সরকার। বাজেটে দেশীয় শিল্পের বিকাশ, আমদানি নির্ভরতা কমানো, কর ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার, নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখা, সামাজিক নিরাপত্তা খাত এবং ভ্যাট ব্যবস্থা ডিজিটালাইজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একইসঙ্গে ‘সম্পদ কর’ চালু ও উৎপাদিত পণ্যে দ্বৈত কর পরিহারের উদ্যোগও থাকছে সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায়। প্রস্তাবিত এই বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বা ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি।
দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও আমদানি নির্ভরতা কমানো
আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশে বাজেটে শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শুল্ক সুবিধা, সহজ ঋণ ও প্রণোদনা, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন, কৃষি ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পে সহায়তা, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর মাধ্যমে মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। স্থানীয় উৎপাদন বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার বিষয়ও এবারের বাজেটে অগ্রাধিকার পাবে। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় শিল্পের জন্য নীতি সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ, চলচ্চিত্র, সংগীত ও ক্রীড়া শিল্পের প্রসারেও বাজেটে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নিত্যপণ্যের দাম সহনশীল রাখার উদ্যোগ
ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির মধ্যে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে বাজেটে নিত্যপণ্যের দাম সহনশীল রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। জনপ্রত্যাশা পূরণে নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো কল্যাণমূলক কর্মসূচি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী বাজেটে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কৃষিতে ২৭ হাজার কোটি টাকা ও খাদ্যে ৯,৫০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে যাচ্ছে ।
দ্বিগুণ কর আরোপ হবে না: উৎপাদিত পণ্যে বিশেষ সুবিধা
প্রস্তাবিত বাজেটে স্পষ্ট করে বলা হচ্ছে, উৎপাদিত পণ্যের ওপর দুইবার কর আরোপ করা হবে না। এই নীতি দেশীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতামূলক করতে এবং কর জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। ‘দ্বিগুণ কর পরিহারের সুবিধা’ পেতে এনবিআরের সনদ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে কার্যকর রয়েছে। নতুন বাজেটে দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে আমদানি পর্যায়ে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ ও স্থানীয় পর্যায়ে কর ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হতে পারে।
সম্পদ কর ব্যবস্থা থেকে সরে সারচার্জে থাকছে সরকার
২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে প্রচলিত ‘সারচার্জ’পদ্ধতি বাতিল করে নতুন ‘সম্পদ কর আরোপ করার চিন্তা করেছিল সরকার। এই কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ধনীদের কাছ থেকে বাড়তি রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি কর ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে চেয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
নতুন নিয়মে করদাতার নিট সম্পদের ওপর ভিত্তি করে কর নির্ধারণ করা হবে এমনটাই বলা হয়েছিল। সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করা হবে ‘মৌজা মূল্য বা বাজার মূল্যের ভিত্তিতে যা আগে ছিল ‘দলিল মূল্য’। যাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের (জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স) মূল্য ৪ কোটি টাকার বেশি, তারাই এই নতুন করের আওতায় আসার কথা ছিল। বর্তমানে যারা সারচার্জ দিচ্ছেন, তারাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পদ করের আওতায় চলে আসবেন বলা হয়েছিল। তবে সরকার সেই পথ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। আগের মতোই থাকছে সারচার্জ।
এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ বলেন, ‘কর ন্যায্যতার প্রেক্ষাপটে যার আয় ও সম্পদ বেশি তার করের বোঝা বেশি হওয়া উচিত। সম্পদ কর রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও বৈষম্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’ .
সার চার্জ কি?
দেশের ধনাঢ্য বা শিল্পপতিদের কাছ থেকে তাদের আয়ের ওপর সাধারণ করের পাশাপাশি বাড়তি কর আরোপ করা হয়। এই বিষয়টিকেই সারচার্জ বলা হয়ে থাকে।
ভ্যাট ডিজিটালাইজেশন: আসছে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা
ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে যাচ্ছে সরকার। এনবিআরের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের কর প্রশাসন হবে অটোমেশনভিত্তিক ও করদাতাবান্ধব। তিনি আরও বলেন, ভ্যাটকে ‘সরবরাহভিত্তিক’ কাঠামোয় রূপান্তরের প্রস্তাব এবং পণ্য ও সেবা উভয়কেই আমদানির আওতায় আনা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যা ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। টার্নওভার সীমা বাড়ানো ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় (এমএফএসে) ভ্যাট জমার ব্যবস্থা হবে নতুন সংস্কারের অধ্যায়।
ব্যবসায়ীদের মতে ‘জটিল করব্যবস্থা ব্যবসার ব্যয় বাড়ায় এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিক কর কাঠামোর বাইরে রাখে। করহার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’




