শিরোনাম

নতুন পে-স্কেলের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে: ডা. জাহেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন পে-স্কেলের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে: ডা. জাহেদ
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, নতুন বেতন কাঠামোর কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষের আয় বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়তে পারে। তবে নতুন পে-স্কেলে সবার বেতন দ্বিগুণ হবে, বিষয়টি এমন নয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন নতুন বেতন স্কেল না হওয়ায় অনেক সরকারি কর্মচারীর নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে বর্তমান বেতন নতুন স্কেলের কাছাকাছি চলে গেছে। ফলে নতুন স্কেল কার্যকর হলে অনেকের বেতন প্রত্যাশিত হারে বাড়বে না।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে সামাজিক সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বছরের শেষ নাগাদ ৪০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি মানুষ সহায়তার আওতায় আসবে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ঢাকায় বসবাসকারীরা সাম্প্রতিক সময়ে যে ধরনের লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন, অতীতে রাজধানীতে এমন পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। এর একটি কারণ হলো, আগে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেকাংশে নিশ্চিত রেখে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে তুলনামূলক বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। বর্তমান সরকার সেই নীতিতে পরিবর্তন এনে সংকটের বোঝা সবার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি অর্থনৈতিক যুক্তি রয়েছে। কারণ, বড় শহরগুলোতে শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি পরিচালিত হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে, শহরে বসবাসকারী মানুষের ক্ষমতা বা প্রভাবের কারণে সেখানে বিদ্যুৎ বেশি দিতে হবে। বর্তমান সংকটের সময়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, লোডশেডিংয়ের কষ্টও সবাইকে তুলনামূলকভাবে ভাগ করে নিতে হবে। এ কারণেই ঢাকাতেও এখন লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, বিভিন্ন কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বেড়ে যাওয়াসহ একাধিক কারণে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশ একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকটের কারণে কমবেশি সবাইকে কিছুটা কষ্ট স্বীকার করতে হবে। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় ধরে চলবে বলে মনে করছে না সরকার। সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার সংখ্যা বাড়ার কারণে চলাচল ও ব্যবস্থাপনায় কিছুটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। এ বাস্তবতাকে একটি সুসংগঠিত নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত ২৫ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনকে নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

/এসবি/