শিরোনাম

হামলাকারীকে সাহায্য করার অভিযোগে তদন্তের মুখে ‘চ্যাটজিপিটি’

সিটিজেন ডেস্ক
হামলাকারীকে সাহায্য করার অভিযোগে তদন্তের মুখে ‘চ্যাটজিপিটি’
ছবি: সংগৃহীত

আইনি জটিলতায় পড়েছে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ‘চ্যাটজিপিটি’। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেইয়ার চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ফ্লোরিডায় মর্মান্তিক এক হামলার আগে বন্দুকধারীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে এই এআই চ্যাটবট।

২০২৫ সালের এপ্রিলে ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে এক বন্দুকধারীর গুলিতে দুইজন নিহত এবং ছয়জন আহত হন। পরে পুলিশের গুলিতে ওই বন্দুকধারী আহত হয়ে ধরা পড়েন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলা চলছে।

ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমায়ার জানিয়েছেন, চ্যাটবটটি হামলাকারীকে কোন ধরনের বন্দুক ব্যবহার করা উচিত, কোন বন্দুকের সঙ্গে কোন গুলি কাজ করবে এবং স্বল্প দূরত্বে সেই অস্ত্র কতটা কার্যকর হবে এমন নানা বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘চ্যাটজিপিটি যদি একজন মানুষ হতো, তাহলে তাকে খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত করা যেত।’

ফ্লোরিডার আইনে কেউ সরাসরি অপরাধ না করেও যদি ‘সহায়তা, প্ররোচনা বা পরামর্শ’ দেয়, তাহলে তাকেও মূল অপরাধীর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ওই হামলায় চ্যাটজিপিটির ভূমিকার জন্য ওপেনএআইয়ের কোনো ফৌজদারি দায় রয়েছে কি না, এই তদন্তের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা হবে।

এ ঘটনায় ফ্লোরিডার প্রসিকিউশন দপ্তর ওপেনএআইকে নথিপত্রসহ তলব করেছে।

এদিকে ওই ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ বলে অভিহিত করলেও এর দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা ইতিমধ্যেই ওই অভিযুক্তের চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করেছে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছে। চ্যাটবটটি কেবল ইন্টারনেটে থাকা সাধারণ ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সরবরাহ করেছে, কোনো অবৈধ কাজ করতে উৎসাহিত করেনি।

তদন্তের এ ঘটনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো, চাকরি হারানো বা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি এখন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এআই-এর ব্যবহার বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, এপি

/জেএইচ/