শিরোনাম

বাজেট নিয়ে ডিসিসিআইয়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
বাজেট নিয়ে ডিসিসিআইয়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে ডিসিসিআইয়ের সংবাদ সম্মেলন।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামগ্রিকভাবে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় এক লিখিত বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, বাজেটটিতে কর কাঠামো সহজীকরণ ও ব্যবসায়িক ব্যয় হ্রাসের বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেটের অর্থায়নে ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং রাজস্ব আদায়ের আকাশচুম্বী লক্ষ্যমাত্রাকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে সংগঠনটি।

সংগঠনটি জানায়, ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে নামানো এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা সাধারণ মানুষ ও উদ্যোক্তাদের জন্য বড় স্বস্তি। এছাড়া, উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। ৫ বছরের জন্য আগাম কর কাঠামো ঘোষণা, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ইলেকট্রিক যানবাহন খাতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ভ্যাট ও করছাড়ের মতো সিদ্ধান্তগুলো দেশীয় শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধন, ৭ দিনে লাইসেন্স ও ওয়ার্ক পারমিট প্রদান এবং সিঙ্গল উইন্ডো চালুর মতো প্রতিশ্রুতির পূর্ণ বাস্তবায়ন ব্যবসার পরিবেশ অনেক সহজ করবে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্দীপনা প্যাকেজের আওতায় ৫ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ, নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ৭০ লাখ এবং সাধারণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্জিত আয় করমুক্ত করা এবং ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-লোন চালুর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে ডিসিসিআই। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার আয়কর ছাড়, ই-রিটার্ন ও ই-ভ্যাট চালুর মাধ্যমে কর পরিপালন ব্যয় কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। তবে মূল্যস্ফীতির এই সময়ে ব্যক্তিপর্যায়ে করমুক্ত আয়ের সীমা অপরিবর্তিত রাখা এবং টার্নওভার কর শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

অন্যদিকে, বিগত বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি ব্যয়ের এই বাজেটে ঘাটতি পূরণে ব্যাংকিং খাতের ওপর নির্ভরতা বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহকে সংকুচিত করতে পারে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ৩ লাখ কোটি টাকা ধরা হলেও চলতি বছরের এডিপি বাস্তবায়নের হার মাত্র ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ, যা বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর দুর্বল সক্ষমতা নির্দেশ করে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কূপ খননের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল মনে করে ডিসিসিআই। একটি সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি মূল্য কাঠামো ছাড়া স্বল্পমেয়াদি ভর্তুকিকে শুধু অপচয় হিসেবে দেখছে সংগঠনটি। অবশেষে, ডিসিসিআইয়ের দেওয়া প্রস্তাবনার প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি এবার বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করায় সরকার ও এনবিআরকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংগঠনটি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীদেরও সমান তালে এগিয়ে আসার আহ্বান জানায়।

/এমএকে/