শিরোনাম

গণভোটের রায় আদায় করেই ছাড়বো: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
গণভোটের রায় আদায় করেই ছাড়বো: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এই সংসদ মানুক আর না মানুক, গণভোটের রায় আমরা বাস্তবায়ন করবো এবং আদায় করেই ছাড়বো।’

সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিন এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সংসদে সদস্য হিসেবে যারা প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন, তাদের সকলেই মজলুম। এদের মধ্যে কেউ জেল খেটেছে, কেউ আয়নাঘরে ছিল, কেউ ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে এসেছে। আবার কেউ নির্বাসনের পরেও দেশে ফিরে এসেছে। এরকম লোকদের নিয়েই আমাদের বর্তমান সংসদ। এই সংসদ যদি মজলুম জনগণের দুঃখ না বুঝে, তাহলে কোন সংসদ বুঝবে? ৫৪ বছরের দফায় দফায় যে ফ্যাসিবাদ বাঙালি জাতিকে এগিয়ে যেতে দেয়নি, সেই ফ্যাসিবাদকে ২৪ এর বিপ্লবীরা বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে মেরেছিল। নালা-নর্দমায় ফেলে দিয়েছিল। এখন সেই নর্দমা থেকে এটাকে তুলে আনতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘মনে রাখা দরকার, এ প্রজন্ম যখন জেগে ওঠে, তখন মাসের পর মাস, বছরের পর বছর আর আন্দোলন করার প্রয়োজন হয় না। তখন তাদের বুক চিতিয়ে দেওয়া যুদ্ধই ফ্যাসিবাদীদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এ প্রজন্মের অবস্থান এখনও স্পষ্ট। আমরা তরুণদের সাথে আছি, তারাও আমাদের সাথে আছে। আমরা কথা দিচ্ছি, যেকোনো মূল্যে ফ্যাসিবাদকে আমরা বাংলাদেশ আর ফিরে আসতে দিবো না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জেনজিরা একজনকে সরিয়ে আরেকজনকে বসানোর জন্য আন্দোলন করেনি। বরং যে ব্যবস্থায় ফ্যাসিবাদের চাপে জাতি পিষ্ট হয়েছে, সেই ব্যবস্থা বদলের লক্ষ্যে এ আন্দোলন পরিচালিত হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, ন্যায় এবং ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে হলে, আগে দলের ভেতরে ইনসাফ এবং গণতন্ত্রের চর্চা হতে হবে। যারা নিজের দলের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চা করতে পারে না, যাদের নিজেদের নেতাকর্মীদের কাছে নিজেরাই নিরাপদ নয়, তারা ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তারা জনগণকে গণতন্ত্র উপহার দিতে পারবে না, ন্যায় এবং ইনসাফ জাতিকে উপহার দিতে পারবে না।

জামায়াত আমির বলেন, চব্বিশে জনগণ ঠিকই রায় দিয়েছে। হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন রায় যদি আপনারা পেয়ে থাকেন তাহলে সরকার গঠন করতে পারেননি কেন। আমাদের রায়কে হাইজ্যাক এবং ডাকাতি করা হয়েছে। জনগণকে অপমান করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তার রাজ সাক্ষীও পাওয়া গেছে। বলবেন জনগণ আপনাদেরকে ভোট দিয়েছে তার প্রমাণ কি? ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে রায় দিয়েছে, এটাই তার প্রমাণ। আমরা হ্যাঁ-এর পক্ষে ছিলাম এবং এর পক্ষেই আছি। এই সংসদ মানুক আর না মানুক, গণভোটের রায় আমরা বাস্তবায়ন করবো এবং আদায় করেই ছাড়বো। আমরা চেয়েছি সংসদের ভেতরে ইতিবাচক এবং গঠনমূলক বিতর্কের মধ্য দিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হোক। কিন্তু এই সংসদ আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে উপলব্ধি এবং সম্মান করতে ব্যর্থ হয়েছে। সেজন্য আমরা জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য জনগণের কাছেই ফিরে যাচ্ছি।

জনগণের প্রতি অঙ্গীকার করে তিনি আরও বলেন, আমরা যে ৭৭ জন আপনাদের প্রতিনিধি হয়ে সংসদে গেছি, আমরা ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থ রক্ষা করবো। সংসদের ভেতরে কেউ যেন জাতির ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকবো। কোনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করা হবে না এবং কোনো ধরনের আপসও করা হবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যেদিন গণভোটের রায় অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদের সূচনা হয়েছে। তিনি বলেন, এই ধারা প্রতিহত করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

আলোচনা সভায় এ সময় জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

/এমএইচএম/জেএইচ/