শিরোনাম

শিশুর কোরআন শিক্ষার উপযুক্ত বয়স কোনটি

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
শিশুর কোরআন শিক্ষার উপযুক্ত বয়স কোনটি
শ্রেণিকক্ষে কোরআন শিক্ষার পাঠদান দেন আরবি শিক্ষক

শিশুরা কথা শেখার আগেই এখন ডিজিটাল স্ক্রিনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই কোরআন শেখার সঠিক বয়স নির্ধারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ইসলামি শিক্ষাবিদ ও শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, সব শিশুর জন্য কোনো একক বা নির্দিষ্ট বয়স নেই।

সাধারণত ৪ থেকে ৬ বছর বয়সকে প্রাতিষ্ঠানিক বা নিয়মতান্ত্রিকভাবে কোরআন পড়া শেখানোর উপযুক্ত সময় হিসেবে ধরা হয়, যখন একটি শিশু নির্দিষ্ট কিছু সময় স্থির হয়ে বসতে পারে, আকার-আকৃতি চিনতে পারে এবং শিক্ষক যা বলছেন, তা অনুকরণ করে বলতে পারে।

তবে শিশুর সঙ্গে কোরআনের আত্মিক মেলবন্ধন শুরু হতে পারে এই বয়সের বহু আগেই; আবার কেউ যদি আরও কিছুটা পরে শুরু করে, তাতেও সাফল্যের কোনো ঘাটতি হয় না। আসল বিষয় হলো, শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশের স্তর বুঝে তাকে কোরআনের পথ দেখানো।

শিশুদের বিভিন্ন বয়সে কোরআন শিক্ষার সেরা উপায় নিয়ে আলোচনা করা হলো।

জন্ম থেকে ৩ বছর: অনুভব করার বয়স

শিশুর কোরআনের সঙ্গে পরিচয় শুরু হয় তার শ্রবণশক্তি বিকশিত হওয়ার মুহূর্ত থেকেই। গর্ভকালীন সময়ে মায়ের কোরআন তেলাওয়াত শ্রবণ শিশুমনস্তত্ত্বে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিশু কথা বলতে শেখার বহু আগেই তার চারপাশের ভাষা, সুর ও ধ্বনি শোষণ করতে থাকে। ঘরে মৃদু স্বরে কোরআন তেলাওয়াত বাজানো, ঘুমানোর সময় ছোট ছোট সুরার সুর শোনানো শিশুকে কোরআনের ধ্বনির সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত করে তোলে।

৪-৬ বছর: প্রারম্ভিক শিক্ষার সুযোগ

অধিকাংশ অভিভাবক যে বয়সের কথা জানতে চান, তা হলো ৪ থেকে ৬ বছর। ভাষা গবেষকদের মতে, ৭ বছরের পূর্ববর্তী সময়টি নতুন যেকোনো ভাষার ধ্বনি, উচ্চারণ ও বর্ণমালা শেখার জন্য মানবজীবনের সবচেয়ে উর্বর সময়।

এই বয়সে শিশুরা প্রাকৃতিক অনুকরণকারী এবং তাদের স্মৃতিশক্তি স্পঞ্জের মতো চটজলদি সবকিছু শুষে নেয়। এ কারণেই দেখা যায়, এই বয়সের শিশুরা প্রায় অনায়াসেই ছোট ছোট সুরা মুখস্থ করে ফেলে।

বাস্তবমুখী দৃষ্টিকোণ থেকে, এই বয়সে শিশু আরবি বর্ণমালা চিনতে শেখে, কায়দা বা নুরানিয়ার মাধ্যমে অক্ষরের উচ্চারণ শেখে এবং সুরা ফাতেহা, সুরা ইখলাস বা সুরা নাসের মতো ছোট সুরাগুলো মুখস্থ করতে পারে।

তবে এই বয়সে পড়ার সময়সীমা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি হওয়া উচিত নয়। শেখার পরিবেশকে আনন্দদায়ক ও প্রফুল্ল রাখতে হবে; যেন কোরআন শিক্ষার প্রতি শিশুর মনে এক সুন্দর ও উষ্ণ ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তৈরি হয়, যা সে জীবনভর বহন করবে।

৭–১০ বছর: তাজবিদ শিক্ষা

এই বয়সে এসে শিশুদের মনোযোগের স্থায়িত্ব এবং পাঠদক্ষতা যথেষ্ট বৃদ্ধি পায়। ফলে তারা শুধু বর্ণমালা চেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং সাবলীলভাবে কোরআন তেলাওয়াত করতে শেখার পাশাপাশি তাজবিদের নিয়মাবলি ও বর্ণ উচ্চারণের সঠিক মাখরাজ বুঝতে পারে।

এই বয়সটি নবীজির নির্দেশ অনুসারেও উপযুক্ত। সন্তান ৭ বছরে পদার্পণ করলে তাকে নামাজের আদেশ দিতে বলেছেন তিনি। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৫) ফলে নামাজের অভ্যাসের সঙ্গে সঙ্গে কোরআন তেলাওয়াতে সাবলীলতা আনা এবং বড় বড় সুরা হিফজ বা মুখস্থ করার জন্য এটি উপযোগী সময়।

১০ বছর ও পরবর্তী সময়

সন্তান যদি কিছুটা বড় হয়, তবে আফসোস বা অপরাধবোধে ভোগার কোনো কারণ নেই। দেরিতে শুরু করা মানেই পিছিয়ে পড়া নয়। বড় শিশুদের অনুধাবন ক্ষমতা, যুক্তি বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা অনেক বেশি থাকে।

তাজবিদের জটিল নিয়মগুলো ছোট শিশুদের চেয়ে ১০ বছরের ঊর্ধ্বের শিশুরা অনেক দ্রুত বুঝতে ও প্রয়োগ করতে পারে।

মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে নিজে কোরআন শেখে এবং অন্যকে তা শেখায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০২৭)

এই উত্তম হওয়ার জন্য তিনি নির্দিষ্ট বয়সের কথা বলেননি। বরং কোরআন শিক্ষার পথ জীবনের যেকোনো বয়সেই উন্মুক্ত; আজই শুরু করার সেরা সময়।

বয়স নয়, শিশু প্রস্তুত কি না দেখুন

বয়সের চেয়ে শিশুর মানসিক প্রস্তুতি দেখা বেশি জরুরি। কোনো শিশুকে কোরআন শিক্ষায় দেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল করুন: শিশুটি কি ৫ থেকে ১০ মিনিট এক স্থানে স্থির হয়ে বসতে পারে?

সে কি নতুন কোনো শব্দ বা সুর শুনলে কৌতূহল দেখায়? সে কি আপনার বলা শব্দ অনুকরণ করে বলতে পছন্দ করে এবং সহজ দুটি নির্দেশ একসঙ্গে মেনে চলতে পারে?

এই লক্ষণগুলো থাকলে বুঝবেন আপনার সন্তান কোরআন শিক্ষা শুরু করার জন্য প্রস্তুত।

/এসআর/