শিরোনাম

বিএনপিকে উৎখাতের আন্দোলনে আওয়ামী লীগের লাভ হবে: নজিম আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপিকে উৎখাতের আন্দোলনে আওয়ামী লীগের লাভ হবে:  নজিম আলম
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নজিম উদ্দিন আলম। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

বিএনপি সরকারকে উৎখাতের আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বেশি লাভ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নজিম উদ্দিন আলম। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বিএনপিকে উৎখাত করতে পারলেই শেখ হাসিনার বিচার হবে না, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, সাগর-রুনির হত্যাসহ জুলাই-আগস্টে চার হাজার ছাত্র-জনতার হত্যার বিচার হবে না।

বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে হাসানাহ পাবলিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘জুলাইয়ের বীরদের স্মরণে ও সুবিধাবঞ্চিতদের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়ে' শীর্ষক স্মারক আলোচনা সভায় নজিম আলম এসব কথা বলেন।

নজিব উদ্দিন আলম বলেন, ‘অহেতুক তাড়াতাড়ি একটি নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন-সংগ্রামের হুঙ্কার দেওয়া হচ্ছে। এতে কার উপকার হচ্ছে, সেটি ভাবতে হবে। আওয়ামী লীগ চায়, জুলাই-আগস্টের হত্যাকারীদের বিচার যেন তারেক রহমান করতে না পারেন। কারণ তারেক রহমান কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপস করতে পারেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপি কখনো আপস করতে পারে না। তবে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টি ও জামাতের আপসের রাজনীতি দেখা গেছে।’

নজিব খান বলেন, ‘বিরোধী দলে থেকে গণতান্ত্রিকভাবে এগিয়ে যেতে হবে এবং দায়িত্বশীল বক্তব্য ও কর্মসূচি দিতে হবে। এখনই ঘেরাও, এখনই বঙ্গভবন ঘেরাও– এত অস্থির হওয়ার কী আছে? ১৮ মাসে খুব বেশি মজা পেয়ে গেছেন? এখন মজা নেই। বিষয়টি মানুষ বুঝবে। অথবা মানুষ এটাও বুঝতে পারে যে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপনাদের আঁতাত হয়েছে।’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অচিরেই এসব সমস্যার সমাধান হবে। বিএনপি মাত্র ক্ষমতায় এসেছে। এগুলো আগের সমস্যা। এসব সমস্যার সমাধান করতে সময় দিতে হবে। আপনারা অস্থির হয়ে গেছেন।’

এ সময় আমজনতা দলের সদস্য সচিব তারেক রহমান বলেন, ‘জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে কোনো একটির পরাজয় কামনা করা উচিত নয়। দুইটিকেই সম্মান করতে হবে। জিন্নাহর ছবি ডাকসুতে প্রবেশের মধ্য দিয়ে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। জিন্নাহকে মহান বা প্রাসঙ্গিক করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করাই ছিল জিন্নাহর রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত।’

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি যুক্তি দেন যে, ‘পাকিস্তান জন্ম না হলে বাংলাদেশ জন্ম হতো না’– তাহলে একই যুক্তিতে ব্রিটিশদেরও সম্মান করতে হবে, কারণ ব্রিটিশরা না এলে পাকিস্তানের জন্ম হতো না। এমনকি মীর জাফর বিশ্বাসঘাতকতা না করলে পাকিস্তানের জন্ম হতো না। এমন যুক্তি দিয়ে মীর জাফরকেও সম্মান করতে হবে। এসব প্রশ্ন করা হলে জিন্নাহ সংশ্লিষ্টরা থেমে যান এবং কোনো উত্তর দেন না।

/এফআর/