শিরোনাম

ব্যাংক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের ঋণ, ব্যয়ের বড় অংশই প্রযুক্তি কেনাকাটায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যাংক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের ঋণ, ব্যয়ের বড় অংশই প্রযুক্তি কেনাকাটায়
বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনসহ ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে ১ হাজার ২৭৬ কোটি টাকার প্রকল্প নিচ্ছে সরকার। প্রকল্পের ব্যয়ের প্রায় পুরো অর্থই আসবে বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে। তবে ব্যাংক খাতের বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ, সুশাসনের ঘাটতি, প্রশাসনিক অদক্ষতা, মূলধন ও তারল্য সংকট কাটাতে সরাসরি ব্যয় হবে ঋণের খুব সামান্য অংশ। প্রকল্পের বড় অংশের অর্থ ব্যয় হবে তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম, সফটওয়্যার ও পরামর্শক নিয়োগে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রস্তাবিত প্রকল্পটির নাম ‘আর্থিক খাত সহায়তা প্রকল্প-২’। পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রকল্পের ব্যয় কাঠামোতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রযুক্তি খাতে। আইসিটি সরঞ্জাম কেনার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭১১ কোটি ৭১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। কম্পিউটার সফটওয়্যার কিনতে ব্যয় হবে আরও ৩৫৫ কোটি ৩৬ লাখ ৫ হাজার টাকা। ডেটাবেজ তৈরিতে ব্যয় হবে ৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা। শুধু এই তিন খাতেই ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।

প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৫৬৫ জনকে প্রশিক্ষণ দিতে বরাদ্দ থাকবে ৭০ কোটি ৭৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৬৭ কোটি ৭৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা আসবে প্রকল্পের ঋণ থেকে। অর্থাৎ বিদেশি ঋণের অর্থ দিয়েই প্রশিক্ষণের বড় অংশের ব্যয় মেটানো হবে।

কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী, অফিস সরঞ্জাম ও আসবাবসহ অন্যান্য মূলধনি ব্যয় যোগ করলে এ খাতে মোট বরাদ্দ দাঁড়ায় ১ হাজার ৭৭ কোটি ২৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ ১ হাজার ২৭৬ কোটি টাকার পুরো প্রকল্পের বড় অংশই প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম কেনাকাটায় ব্যয় হবে।

পরামর্শক নিয়োগেও বড় বরাদ্দ

প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগের জন্যও বড় অঙ্কের অর্থ রাখা হয়েছে। ব্যক্তি পরামর্শকের জন্য বরাদ্দ ২৯ কোটি ৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পরামর্শকের জন্য বরাদ্দ ৬৫ কোটি ৩৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। দুই ধরনের পরামর্শক মিলিয়ে ব্যয় হবে ৯৪ কোটি ৪৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা।

প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৫৬৫ জনকে প্রশিক্ষণ দিতে বরাদ্দ থাকবে ৭০ কোটি ৭৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৬৭ কোটি ৭৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা আসবে প্রকল্পের ঋণ থেকে। অর্থাৎ বিদেশি ঋণের অর্থ দিয়েই প্রশিক্ষণের বড় অংশের ব্যয় মেটানো হবে।

প্রকল্পের রাজস্ব খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৮ কোটি ২৯ লাখ ২৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শকের পাশাপাশি সেমিনার ও সম্মেলন, যানবাহন ব্যবহার, ইন্টারনেট, কম্পিউটার সামগ্রী, মুদ্রণ, স্টেশনারি ও মেরামতসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় হবে।

নতুন প্রকল্পের আগে আগের আর্থিক খাত সহায়তা প্রকল্প থেকে কেনা যন্ত্রপাতির বিষয়টিও সামনে এসেছে। পরিকল্পনা কমিশনের পর্যালোচনায় আগের প্রকল্পের কিছু যন্ত্রপাতি ও উপকরণ নতুন প্রকল্পে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে। তবে যেসব যন্ত্রপাতি অচল বা ব্যবহারের অনুপযোগী, সেগুলো নেওয়া যাবে না।

ঋণের অর্থের বড় অংশই প্রযুক্তি কেনাকাটায় ব্যয় করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, দেশের ব্যাংকিং সেবা এখন আইটি নির্ভর। এই খাতের সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে তথ্যপ্রযুক্তিতে জোর দেওয়াটাও জরুরি। তা না হলে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ব্যাহত হবে।

সফটওয়্যার কেনায় বিপুল বরাদ্দ, প্রশিক্ষণ খাতে এত কম কেন– এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদেশ প্রশিক্ষণ এড়িয়ে যেতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আছে। আমরা বেশির ভাগ প্রশিক্ষণ দেশেই দিয়ে থাকি। যদি কোনো প্রশিক্ষণ বিদেশে প্রয়োজন হয় তখন আমরা সেটা বিবেচনা করি। তাই এ খাতে বরাদ্দ কম রাখা হয়েছে।

/এফসি/