শিরোনাম

জামায়াতের ভোটের প্রচারে টাকা দিলেন শাহরিয়ার, বললেন মানবিক কারণে

নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতের ভোটের প্রচারে টাকা দিলেন শাহরিয়ার, বললেন মানবিক কারণে
পান বিক্রেতাকে ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবিরের টাকা দেওয়ার দৃশ্য। ছবি: ভিডিও থেকে

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবিরের এক ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যেটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি ভ্রাম্যমাণ বয়োজ্যেষ্ঠ এক পান বিক্রেতার হাতে এক হাজার টাকার নোট তুলে দিচ্ছেন। টাকা দেওয়ার সময় শাহরিয়ারের হাতে ভোট প্রচারপত্র ছিল। এ সময় তিনি বলছিলেন, এটা মানবিক সাহায্য কেউ আবার অন্য কিছু মনে করবেন না।

গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী মিরপুরে এ ঘটনা ঘটে। জামায়াতে ইসলামীর আমির ঢাকা-১৫ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে তিনি এ উপহার দেন।

ভিডিওটি শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেন আল জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ভোটারের সাথে দিন-দুনিয়া-আখিরাত নিয়ে কথা বলতে বলতে তাঁর হাতে টাকা গুঁজে দিলেন তিনি। এরপর এটি ব্যাপক ভাইরাল হয়।

এ বিষয়ে আইনজীবী নিজেই সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে একটি পোস্টে জানান, মানবিক দিক বিবেচনা করে তিনি ওই টাকা প্রদান করেছিলেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, ওই দোকানির কাছে শাহরিয়ার কবির জানতে চান, ব্যবসা কেমন হচ্ছে? তখন তিনি উত্তর দেন, ‘মোটামুটি’। তখন শাহরিয়ার কবির বলেন, মোটামুটি কেন? উত্তরে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতি ভালা না। সবাই ভয়ের মধ্যে আতঙ্ক, কোন বেলা কী করে বয়।’ শাহরিয়ার বলেন, ‘কী ভয়, আমরা তো আপনাদের জন্যই।’ তখন ওই ব্যক্তি বলেন, ‘নতুন সরকার আইলে কওন যাইব। এখন সরকার নাই বুঝেন না।’

ভিডিওতে শাহরিয়ার কবিরকে বলতে শোনা যায়, সরকার কোনটা ভালো? তখন ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আইলে তো কওন যাইব (কোনটা) ভালা। আমি চাই দেশ ভালা চলুক’। শাহরিয়ার বলেন, ‘সে কাগ (কাকে) দিয়া ভালো চলবে ইনশা আল্লাহ?’ একপর্যায়ে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আমরা মুসলমান। আল্লাহ ছাড়া আর কারও ক্ষমতা আছে ভালো করার?’ এ সময় ওই ব্যক্তিকে তিনি আরও জিজ্ঞেস করেন, ‘রিজিকের মালিক কে? আপনার সঙ্গে এই মুহূর্তে আমার দেখা হবে, এটার মালিক কে?’ উত্তরে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আল্লাহ’। তখন শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘তাহলে সে যেটা বলছে, তার বাইরে গিয়ে দেশ চললে ভালো হবে?’ ‘আর কয় দিন বাঁচবেন? কবরে বেশি দিন, না দুনিয়ায় বেশি দিন?’ উত্তরে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘কবরে বেশি দিন।’ এ সময় শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘তাহলে কোন জায়গায় ভালো থাকতে হবে?’ ওই ব্যক্তি উত্তরে বলেন, ‘কবরে’। উত্তরে শাহরিয়ার বলেন, ‘কবরে ভালো থাকতে হবে, তাইলে ওই ব্যবস্থা করতে হবে। তাই না।’

ভিডিওতে দেখা যায়, এই আলাপচারিতার শেষে শাহরিয়ার কবির সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তির হাতে এক হাজার টাকার নোট গুঁজে দেন।

এ ঘটনার বিষয়ে সোমবার রাত ৮টা ২২ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়েছেন এ এস এম শাহরিয়ার কবির। সেখানে তিনি বলেন, আমি গত শনিবারে মিরপুর এলাকায় ব্যক্তিগতভাবে জামাতের সমর্থনে গণসংযোগ কালে একজন পান ও সিগারেট বিক্রেতার সাথে আমার সাক্ষাতকালে জানতে পারি যে, তার সারাদিন তেমন বেচা বিক্রি হয় নাই। আমি সবার সম্মুখে ক্যামেরার সামনে এক হাজার টাকা দান করি মানবিক দিক বিবেচনা করে। ওই একই স্থানে আমি বাচ্চাদের র‍্যাকেট কেনার কিছু টাকা গিফট করি এবং মিডিয়াকে আমি স্পষ্টভাবে বলি এই মানবিক সাহায্যকে আপনারা অন্যভাবে দেখবেন না বা দেখার সুযোগ নেই।

তিনি লেখেন, বাচ্চাদের র‍্যাকেট খেলার ভিডিওটি ইতিমধ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যপকভাবে সাড়া ফেলেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে জুলকারনাইন সায়ের খান এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম এই মানবিক সাহায্যকে অন্যভাবে প্রচার করার হীন চেষ্টা করিয়াছেন। আমি অত্যন্ত মর্মাহত ও শোকাহত এরূপ দুর্বৃত্তায়নের জন্য। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ আমাকে ও সকলকে এমন দুর্বৃত্তায়নের হাত থেকে রক্ষা করুক। তারপরও মানুষ হিসেবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

নির্বাচনী আচরণবিধিতে বলা আছে, কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা তার পক্ষ থেকে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের আগে প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকায় থাকা ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কিংবা সেই এলাকা বা অন্যত্র অবস্থানরত কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো ধরনের চাঁদা, অনুদান বা উপহার দেওয়ার বা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে না।

এ বিষয়ে ঢাকা অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও ঢাকা–১৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী বলেন, ভোটের উদ্দেশ্যে এমন অর্থ দেওয়া সঠিক নয়। তিনিও ভিডিওটি সোমবার দেখেছেন বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা বা বিচার করার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটির।

/জেএইচ/