শিরোনাম

ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপিতে শূন্য হবে একাধিক পদ, আলোচনায় যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপিতে শূন্য হবে একাধিক পদ, আলোচনায় যারা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন এটা প্রায় নিশ্চিত। দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলের শীর্ষ পর্যায়ে এ সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা।

এদিকে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন এটা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় মির্জা ফখরুলের জায়গায় কে আসবেন এবং তার নির্বাচনী আসনে উপ-নির্বাচনে কাকে প্রার্থী করা হবে, সেটি নিয়েও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, যদি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হন, তাহলে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতি হওয়ার কারণে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতেও একটি পদ শূন্য হবে। এর আগেও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার হওয়ার কারণে স্থায়ী কমিটির আরেকটি পদ শূন্য হয়। ফলে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের শূন্য দুই পদে নতুন কাউকে অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা থাকছে। পাশাপাশি মন্ত্রিসভায়ও রদবদল হতে পারে।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সম্ভাবনাই বেশি। পাশাপাশি মহাসচিব হওয়ার আলোচনায় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলও রয়েছেন। আর স্থায়ী কমিটির শূন্য পদে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর।

এদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে তার মন্ত্রিত্বও শূন্য হবে। ফলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে বর্তমান প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হতে পারে। পাশাপাশি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নামও রয়েছে। তবে মন্ত্রিসভায় এ ধরনের পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

অন্যদিকে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার সংসদীয় আসনও শূন্য হবে। ফলে সেখানে উপ-নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হবেন সেটা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে ফখরুলের পরিবারের কোনো সদস্যকে প্রার্থী করা হবে নাকি অন্য কোনো নেতা সুযোগ পাবেন- সেটা এখন দেখার বিষয়।

প্রসঙ্গত, মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। এরপর ২০১৬ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নিযুক্ত হন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুসারে, ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ হবে। ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ইতিমধ্যে সরকারি দল বিএনপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলটি নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী নির্বাচন কমিশনে সিইসির দপ্তর থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

ইসি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি পদে একই ব্যক্তির নামে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ আছে। সেক্ষেত্রে যেকোনো একটি মনোনয়নপত্র বৈধ হলেই তিনি বৈধ প্রার্থী বলে বিবেচিত হন।

মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়। এর পর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি পদে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী মনোনীত করেছে। রবিবার মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

যদিও জাতীয় সংসদে বিএনপির এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসন থাকায় দলটি যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

/জেএইচ/