সরকারকে সঠিক পথে হাঁটতে হবে: জামায়াত আমির

সরকারকে সঠিক পথে হাঁটতে হবে: জামায়াত আমির
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরোধী দলীয় নেতা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা সরকারের ব্যর্থতা চাই না, সফলতা চাই। কিন্তু সরকারই যদি উল্টো পথে হাঁটে, তাহলে তো আমাদের কিছু করার নেই। সরকারকে সঠিক পথে হাঁটতে হবে।
আজ বুধবার (২৫ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখা এই সভার আয়োজন করে।
সভার প্রধান অতিথি শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতা একটা জাতির কত বড় সম্পদ তা স্বাধীন জাতি বুঝে না। কিন্তু পরাধীন জাতি বুঝে। আমাদের পূর্বপুরুষেরা যখন ১৯০ বছর স্বাধীনতা হারিয়ে গোলামির জিঞ্জিরে আবদ্ধ ছিলেন, তারা তখন বুঝেছিলেন স্বাধীনতা কি জিনিস। তাদের আকুতি, সংগ্রামী প্রয়াস, তৎকালীন নেতৃবৃন্দের বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার ফলে আমরা একটা দেশ পেয়েছিলাম। আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিলো পাকিস্তান নামে যে দেশ, সে দেশে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না এবং ন্যায় বিচার কায়েম হবে। মানুষ একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে সম্মানের সাথে বসবাস করবে। কিন্তু সেই কথা রাখেনি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী। যার কারণে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।
জামায়াতের আমির আরও বলেন, যারা আমাদের জন্য একই মানচিত্রকে স্বাধীনতার মোড়কে উপস্থাপন করেছেন। যারা আমাদেরকে একটি সম্মানজনক পতাকা হাতে তুলে দিয়েছেন। সেই পতাকা এবং মানচিত্রের হাত ধরে বাংলাদেশটা বদলে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ভূতল পরিবর্তন হলেও, ভিতরের জিনিস পরিবর্তন হয়নি।
জামায়াত আমীর বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে জাপান ঘুরে দাঁড়াতে পারলেও এই অঞ্চল দুই-দুইবার স্বাধীনতা অর্জন করার পরেও আমরা কেন পারলাম না? এই না পারার কারণ আমাদের সাধারণ জনগণ নয়। এই না পারার কারণ হচ্ছে নেতৃত্বের ব্যর্থতা, লোভ, অদূরদর্শীতা এবং সীমাহীন দূর্নীতি। দূর্নীতির এই বিষ বাষ্প যতক্ষণ পর্যন্ত সমাজ থেকে বিদায় না নিবে, আমাদের সমাজ স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত সুফল ভোগ করতে পারবে না।
রাজধানীর মিন্টো রোডে ২১ মার্চ বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। সেই অনুষ্ঠানে একজন বিদেশি কূটনীতিককে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেন।
সেই আচরণের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ঈদ উপলক্ষে একটি রিসিপশনের আয়োজন করেছিলাম। কূটনীতিবিদরা এবং আমাদের বন্ধুরা এখানে এসেছিলেন। ঈদের দিনে মানুষ একটু খোলামনে সবার সাথে মিশে। আমিও একটু মিশেছি। এটা নিয়ে কি যে অবস্থা! নবীজি এটা করেছেন। তিনি তাঁর প্রিয়তম সাহাবীর সাথে এটা করেছেন। এটাতো আমার নবীর প্রিয় সুন্নত। আমি তো আমার নবীর প্রত্যেকটা সুন্নতকে ভালোবাসি। কে কি বললো, না বললো, এগুলোর পাত্তাই আমি দিই না।
তিনি বলেন, এত রক্ত, ৭১ এবং ২৪ এর ত্যাগ এই সবগুলো তো ম্লান হয়ে যাবে— যদি ভালোকে ভালো হিসেবে পুরস্কৃত না করা হয়। আর মন্দকে যদি দমন করা না হয়। আমরা দেখছি— শাসন ক্ষেত্রে শাসক বদলালেও শোষণের ধারা বদলায়নি। সর্বশেষ যেটা পেরেক মারা হচ্ছে, একটা গণতান্ত্রিক ধারা চালু হোক, এই জন্যে এ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আমাদের অনেক কষ্ট আছে। সব কষ্ট চেপে আমরা বলেছি— আমাদের দেশটা গণতান্ত্রিক ট্রেন হিসেবে রেললাইনের উপরে ওঠুক। সামনের দিকে চলুক, আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে। এই উঠিয়ে দেওয়ার পরে এখানে প্রশাসক, ওখানে প্রশাসক— এটা কি? এটাতো সংবিধানবিরোধী কাজ।
বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে জামায়াতা আমির বলেন, আপনারা যে সংবিধানের কথা বলতেছেন তাতে বলা আছে, স্থানীয় সরকারের সকল স্থলে একমাত্র নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমানে যারা আছে, তাদের কে কে নির্বাচন করলো। দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে লোকজনকে বিভিন্ন জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা এগুলো মানি না। আপনি সংবিধানের এক অংশ মানেন তো আরেক অংশ মানেন না। একটা অর্ডারের ভিত্তিতে দু'টো ভোট একই ভিত্তিতে হয়েছে। জনগণকে এতো বোকা ভাবার কারণ নেই, জনগণ সব বুঝে। আপনারা মানবেন, তবে সহজে মানবেন না— এটা আমরা বুঝতেছি। অতীতেও কিছু কিছু বিষয় সহজে মানেননি। কিন্তু পরে ঠিকই মেনেছেন। আমরা নিজের কিংবা দলের জন্য কাঠামোগত পরিবর্তন এবং সংস্কার চাচ্ছি না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের জন্য সংস্কার চাই।
জ্বালানি সংকটের কারণে মানুষের সীমাহীন ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির জ্বালানি মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমাদের মন্ত্রী বলেছেন, কোনো কিছুতে আমাদের অভাব নেই। এ অভাব না থাকার কারণেই এক-একটা পাম্পের সামনে এখন দীর্ঢ়লাইন। অভাব না থাকলে, এতো লম্বা লাইন কেন হচ্ছে।
তিনি বলেন, জাতীয় জীবনে যে কঠিন সময় এসেছে, খোলা মন নিয়ে, উদারতা দেখিয়ে আমাদেরকে ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার দরকার নাই। উদারতা দেখিয়ে জাতীয় সমস্যা সমাধানে এক জায়গায় একসাথে বসেন। এটা সংসদের ভেতরে হবে না। কারণ সংসদের ভেতরে সকল দল প্রবেশ করেনি। এদেশে যারা অন্যান্য দল আছে, তাদেরও এদেশের জন্য অবদান আছে। তাদের সবাইকে নিয়ে বসেন এবং কথা শুনেন।
দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ বিদায় নেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ইলেকশনকে কেন্দ্র করে এখনো মানুষ খুন হচ্ছে। এমনকি নিজ দলের মানুষকেও খুন করা হচ্ছে। তাহলে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলো কোথায়। ফ্যাসিবাদ এত দিন আত্মগোপন করে গর্তের মধ্যে ছিল। এখন আবার মাথা তুলতে শুরু করেছে। এই ফ্যাসিবাদ নতুন করে কেউ যদি কায়েম করতে চায়, সবগুলো হাত একত্র করে আমরা (দেশবাসী) রুখে দিবো।
সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সবুর ফকির সভাপতিত্ব করেন। এটি সঞ্চালনা করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিরোধী দলীয় নেতা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা সরকারের ব্যর্থতা চাই না, সফলতা চাই। কিন্তু সরকারই যদি উল্টো পথে হাঁটে, তাহলে তো আমাদের কিছু করার নেই। সরকারকে সঠিক পথে হাঁটতে হবে।
আজ বুধবার (২৫ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখা এই সভার আয়োজন করে।
সভার প্রধান অতিথি শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতা একটা জাতির কত বড় সম্পদ তা স্বাধীন জাতি বুঝে না। কিন্তু পরাধীন জাতি বুঝে। আমাদের পূর্বপুরুষেরা যখন ১৯০ বছর স্বাধীনতা হারিয়ে গোলামির জিঞ্জিরে আবদ্ধ ছিলেন, তারা তখন বুঝেছিলেন স্বাধীনতা কি জিনিস। তাদের আকুতি, সংগ্রামী প্রয়াস, তৎকালীন নেতৃবৃন্দের বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার ফলে আমরা একটা দেশ পেয়েছিলাম। আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিলো পাকিস্তান নামে যে দেশ, সে দেশে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না এবং ন্যায় বিচার কায়েম হবে। মানুষ একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে সম্মানের সাথে বসবাস করবে। কিন্তু সেই কথা রাখেনি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী। যার কারণে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।
জামায়াতের আমির আরও বলেন, যারা আমাদের জন্য একই মানচিত্রকে স্বাধীনতার মোড়কে উপস্থাপন করেছেন। যারা আমাদেরকে একটি সম্মানজনক পতাকা হাতে তুলে দিয়েছেন। সেই পতাকা এবং মানচিত্রের হাত ধরে বাংলাদেশটা বদলে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ভূতল পরিবর্তন হলেও, ভিতরের জিনিস পরিবর্তন হয়নি।
জামায়াত আমীর বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে জাপান ঘুরে দাঁড়াতে পারলেও এই অঞ্চল দুই-দুইবার স্বাধীনতা অর্জন করার পরেও আমরা কেন পারলাম না? এই না পারার কারণ আমাদের সাধারণ জনগণ নয়। এই না পারার কারণ হচ্ছে নেতৃত্বের ব্যর্থতা, লোভ, অদূরদর্শীতা এবং সীমাহীন দূর্নীতি। দূর্নীতির এই বিষ বাষ্প যতক্ষণ পর্যন্ত সমাজ থেকে বিদায় না নিবে, আমাদের সমাজ স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত সুফল ভোগ করতে পারবে না।
রাজধানীর মিন্টো রোডে ২১ মার্চ বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। সেই অনুষ্ঠানে একজন বিদেশি কূটনীতিককে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেন।
সেই আচরণের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ঈদ উপলক্ষে একটি রিসিপশনের আয়োজন করেছিলাম। কূটনীতিবিদরা এবং আমাদের বন্ধুরা এখানে এসেছিলেন। ঈদের দিনে মানুষ একটু খোলামনে সবার সাথে মিশে। আমিও একটু মিশেছি। এটা নিয়ে কি যে অবস্থা! নবীজি এটা করেছেন। তিনি তাঁর প্রিয়তম সাহাবীর সাথে এটা করেছেন। এটাতো আমার নবীর প্রিয় সুন্নত। আমি তো আমার নবীর প্রত্যেকটা সুন্নতকে ভালোবাসি। কে কি বললো, না বললো, এগুলোর পাত্তাই আমি দিই না।
তিনি বলেন, এত রক্ত, ৭১ এবং ২৪ এর ত্যাগ এই সবগুলো তো ম্লান হয়ে যাবে— যদি ভালোকে ভালো হিসেবে পুরস্কৃত না করা হয়। আর মন্দকে যদি দমন করা না হয়। আমরা দেখছি— শাসন ক্ষেত্রে শাসক বদলালেও শোষণের ধারা বদলায়নি। সর্বশেষ যেটা পেরেক মারা হচ্ছে, একটা গণতান্ত্রিক ধারা চালু হোক, এই জন্যে এ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আমাদের অনেক কষ্ট আছে। সব কষ্ট চেপে আমরা বলেছি— আমাদের দেশটা গণতান্ত্রিক ট্রেন হিসেবে রেললাইনের উপরে ওঠুক। সামনের দিকে চলুক, আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে। এই উঠিয়ে দেওয়ার পরে এখানে প্রশাসক, ওখানে প্রশাসক— এটা কি? এটাতো সংবিধানবিরোধী কাজ।
বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে জামায়াতা আমির বলেন, আপনারা যে সংবিধানের কথা বলতেছেন তাতে বলা আছে, স্থানীয় সরকারের সকল স্থলে একমাত্র নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমানে যারা আছে, তাদের কে কে নির্বাচন করলো। দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে লোকজনকে বিভিন্ন জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা এগুলো মানি না। আপনি সংবিধানের এক অংশ মানেন তো আরেক অংশ মানেন না। একটা অর্ডারের ভিত্তিতে দু'টো ভোট একই ভিত্তিতে হয়েছে। জনগণকে এতো বোকা ভাবার কারণ নেই, জনগণ সব বুঝে। আপনারা মানবেন, তবে সহজে মানবেন না— এটা আমরা বুঝতেছি। অতীতেও কিছু কিছু বিষয় সহজে মানেননি। কিন্তু পরে ঠিকই মেনেছেন। আমরা নিজের কিংবা দলের জন্য কাঠামোগত পরিবর্তন এবং সংস্কার চাচ্ছি না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের জন্য সংস্কার চাই।
জ্বালানি সংকটের কারণে মানুষের সীমাহীন ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির জ্বালানি মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমাদের মন্ত্রী বলেছেন, কোনো কিছুতে আমাদের অভাব নেই। এ অভাব না থাকার কারণেই এক-একটা পাম্পের সামনে এখন দীর্ঢ়লাইন। অভাব না থাকলে, এতো লম্বা লাইন কেন হচ্ছে।
তিনি বলেন, জাতীয় জীবনে যে কঠিন সময় এসেছে, খোলা মন নিয়ে, উদারতা দেখিয়ে আমাদেরকে ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার দরকার নাই। উদারতা দেখিয়ে জাতীয় সমস্যা সমাধানে এক জায়গায় একসাথে বসেন। এটা সংসদের ভেতরে হবে না। কারণ সংসদের ভেতরে সকল দল প্রবেশ করেনি। এদেশে যারা অন্যান্য দল আছে, তাদেরও এদেশের জন্য অবদান আছে। তাদের সবাইকে নিয়ে বসেন এবং কথা শুনেন।
দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ বিদায় নেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ইলেকশনকে কেন্দ্র করে এখনো মানুষ খুন হচ্ছে। এমনকি নিজ দলের মানুষকেও খুন করা হচ্ছে। তাহলে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলো কোথায়। ফ্যাসিবাদ এত দিন আত্মগোপন করে গর্তের মধ্যে ছিল। এখন আবার মাথা তুলতে শুরু করেছে। এই ফ্যাসিবাদ নতুন করে কেউ যদি কায়েম করতে চায়, সবগুলো হাত একত্র করে আমরা (দেশবাসী) রুখে দিবো।
সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সবুর ফকির সভাপতিত্ব করেন। এটি সঞ্চালনা করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সরকারকে সঠিক পথে হাঁটতে হবে: জামায়াত আমির
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরোধী দলীয় নেতা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা সরকারের ব্যর্থতা চাই না, সফলতা চাই। কিন্তু সরকারই যদি উল্টো পথে হাঁটে, তাহলে তো আমাদের কিছু করার নেই। সরকারকে সঠিক পথে হাঁটতে হবে।
আজ বুধবার (২৫ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখা এই সভার আয়োজন করে।
সভার প্রধান অতিথি শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতা একটা জাতির কত বড় সম্পদ তা স্বাধীন জাতি বুঝে না। কিন্তু পরাধীন জাতি বুঝে। আমাদের পূর্বপুরুষেরা যখন ১৯০ বছর স্বাধীনতা হারিয়ে গোলামির জিঞ্জিরে আবদ্ধ ছিলেন, তারা তখন বুঝেছিলেন স্বাধীনতা কি জিনিস। তাদের আকুতি, সংগ্রামী প্রয়াস, তৎকালীন নেতৃবৃন্দের বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার ফলে আমরা একটা দেশ পেয়েছিলাম। আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিলো পাকিস্তান নামে যে দেশ, সে দেশে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না এবং ন্যায় বিচার কায়েম হবে। মানুষ একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে সম্মানের সাথে বসবাস করবে। কিন্তু সেই কথা রাখেনি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী। যার কারণে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।
জামায়াতের আমির আরও বলেন, যারা আমাদের জন্য একই মানচিত্রকে স্বাধীনতার মোড়কে উপস্থাপন করেছেন। যারা আমাদেরকে একটি সম্মানজনক পতাকা হাতে তুলে দিয়েছেন। সেই পতাকা এবং মানচিত্রের হাত ধরে বাংলাদেশটা বদলে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ভূতল পরিবর্তন হলেও, ভিতরের জিনিস পরিবর্তন হয়নি।
জামায়াত আমীর বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে জাপান ঘুরে দাঁড়াতে পারলেও এই অঞ্চল দুই-দুইবার স্বাধীনতা অর্জন করার পরেও আমরা কেন পারলাম না? এই না পারার কারণ আমাদের সাধারণ জনগণ নয়। এই না পারার কারণ হচ্ছে নেতৃত্বের ব্যর্থতা, লোভ, অদূরদর্শীতা এবং সীমাহীন দূর্নীতি। দূর্নীতির এই বিষ বাষ্প যতক্ষণ পর্যন্ত সমাজ থেকে বিদায় না নিবে, আমাদের সমাজ স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত সুফল ভোগ করতে পারবে না।
রাজধানীর মিন্টো রোডে ২১ মার্চ বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। সেই অনুষ্ঠানে একজন বিদেশি কূটনীতিককে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেন।
সেই আচরণের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ঈদ উপলক্ষে একটি রিসিপশনের আয়োজন করেছিলাম। কূটনীতিবিদরা এবং আমাদের বন্ধুরা এখানে এসেছিলেন। ঈদের দিনে মানুষ একটু খোলামনে সবার সাথে মিশে। আমিও একটু মিশেছি। এটা নিয়ে কি যে অবস্থা! নবীজি এটা করেছেন। তিনি তাঁর প্রিয়তম সাহাবীর সাথে এটা করেছেন। এটাতো আমার নবীর প্রিয় সুন্নত। আমি তো আমার নবীর প্রত্যেকটা সুন্নতকে ভালোবাসি। কে কি বললো, না বললো, এগুলোর পাত্তাই আমি দিই না।
তিনি বলেন, এত রক্ত, ৭১ এবং ২৪ এর ত্যাগ এই সবগুলো তো ম্লান হয়ে যাবে— যদি ভালোকে ভালো হিসেবে পুরস্কৃত না করা হয়। আর মন্দকে যদি দমন করা না হয়। আমরা দেখছি— শাসন ক্ষেত্রে শাসক বদলালেও শোষণের ধারা বদলায়নি। সর্বশেষ যেটা পেরেক মারা হচ্ছে, একটা গণতান্ত্রিক ধারা চালু হোক, এই জন্যে এ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আমাদের অনেক কষ্ট আছে। সব কষ্ট চেপে আমরা বলেছি— আমাদের দেশটা গণতান্ত্রিক ট্রেন হিসেবে রেললাইনের উপরে ওঠুক। সামনের দিকে চলুক, আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে। এই উঠিয়ে দেওয়ার পরে এখানে প্রশাসক, ওখানে প্রশাসক— এটা কি? এটাতো সংবিধানবিরোধী কাজ।
বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে জামায়াতা আমির বলেন, আপনারা যে সংবিধানের কথা বলতেছেন তাতে বলা আছে, স্থানীয় সরকারের সকল স্থলে একমাত্র নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমানে যারা আছে, তাদের কে কে নির্বাচন করলো। দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে লোকজনকে বিভিন্ন জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা এগুলো মানি না। আপনি সংবিধানের এক অংশ মানেন তো আরেক অংশ মানেন না। একটা অর্ডারের ভিত্তিতে দু'টো ভোট একই ভিত্তিতে হয়েছে। জনগণকে এতো বোকা ভাবার কারণ নেই, জনগণ সব বুঝে। আপনারা মানবেন, তবে সহজে মানবেন না— এটা আমরা বুঝতেছি। অতীতেও কিছু কিছু বিষয় সহজে মানেননি। কিন্তু পরে ঠিকই মেনেছেন। আমরা নিজের কিংবা দলের জন্য কাঠামোগত পরিবর্তন এবং সংস্কার চাচ্ছি না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের জন্য সংস্কার চাই।
জ্বালানি সংকটের কারণে মানুষের সীমাহীন ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির জ্বালানি মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমাদের মন্ত্রী বলেছেন, কোনো কিছুতে আমাদের অভাব নেই। এ অভাব না থাকার কারণেই এক-একটা পাম্পের সামনে এখন দীর্ঢ়লাইন। অভাব না থাকলে, এতো লম্বা লাইন কেন হচ্ছে।
তিনি বলেন, জাতীয় জীবনে যে কঠিন সময় এসেছে, খোলা মন নিয়ে, উদারতা দেখিয়ে আমাদেরকে ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার দরকার নাই। উদারতা দেখিয়ে জাতীয় সমস্যা সমাধানে এক জায়গায় একসাথে বসেন। এটা সংসদের ভেতরে হবে না। কারণ সংসদের ভেতরে সকল দল প্রবেশ করেনি। এদেশে যারা অন্যান্য দল আছে, তাদেরও এদেশের জন্য অবদান আছে। তাদের সবাইকে নিয়ে বসেন এবং কথা শুনেন।
দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ বিদায় নেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ইলেকশনকে কেন্দ্র করে এখনো মানুষ খুন হচ্ছে। এমনকি নিজ দলের মানুষকেও খুন করা হচ্ছে। তাহলে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলো কোথায়। ফ্যাসিবাদ এত দিন আত্মগোপন করে গর্তের মধ্যে ছিল। এখন আবার মাথা তুলতে শুরু করেছে। এই ফ্যাসিবাদ নতুন করে কেউ যদি কায়েম করতে চায়, সবগুলো হাত একত্র করে আমরা (দেশবাসী) রুখে দিবো।
সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সবুর ফকির সভাপতিত্ব করেন। এটি সঞ্চালনা করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।




