শিরোনাম

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সম্পদের তথ্য তলব করবে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সম্পদের তথ্য তলব করবে দুদক
গ্রেপ্তার মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

এক-এগারোর আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সম্পদের তথ্য তলবের উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মানবপাচার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বর্তমানে তিনি ৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

বুধবার (২৫ মার্চ) দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সি ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড সংশ্লিষ্ট ৪ জনের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিস জারির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

অভিযুক্তরা হলেন– অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, নূর মোহাম্মদ আব্দুল মুকিত, মেহবুবা আফতাব সাথী ও তাসনিয়া মাসুদ। তারা সবাই ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনালের অংশীদার। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, ৪ জনের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিস জারির অনুমোদন আগেই কমিশন দিয়েছিল। তবে সেসময় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা না যাওয়ায় নোটিস পাঠানো হয়নি।

তিনি বলেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার হওয়ায় তিনিসহ সংশ্লিষ্টদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিস জারির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

এরই মধ্যে ‘মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাতের’ অভিযোগে করা দুদকের মামলায় মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এই আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। এ বিষয়ে শুনানির জন্য ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত।

গত ১১ মার্চ ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে এ মামলা করে দুদক।

মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, ৭ হাজার ১২৪ জন কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ক্ষেত্রে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে মোট ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন আসামিরা।

গত সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে মানব পাচার ও অর্থ আত্মসাতের এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন করে গোয়েন্দা পুলিশ।

গত বছর ৩ সেপ্টেম্বর পল্টন থানায় এ মামলা দায়ের করেন আফিয়া ওভারসিজের প্রোপাইটার আলতাব খান। ডিবি পুলিশের আবেদনের ওপর শুনানি করে আদালত এদিন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ৫ দিন রিমান্ডে পাঠায়।

রিমান্ড শুনানি শেষে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে বিক্ষুদ্ধ জনতা তার ওপর ডিম ও ময়লা পানি নিক্ষেপ করে।

২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির টিকেটে ফেনী-৩ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন।

সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর ঢাকায় একটি পাঁচ তারকা মানের হোটেল খুলে ব্যবসা শুরু করেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। পাশাপাশি শুরু করেন জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসা।

/এফসি/