৮ জেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় আহত ৪৫

৮ জেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় আহত ৪৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, দেশে নির্বাচনী সহিংসতার সংখ্যাও তত বাড়ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এটাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারও দেশের অন্তত সাতটি জেলায় নির্বাচনী সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন।
এর মধ্যে ১০ দলীয় জোটের ঢাকা-১৮ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলামের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলা ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা ও গলাচিপা) আসনের দশমিনায় বিএনপি জোটের প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা হাসান মামুনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। নেত্রকোনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, নওগাঁ ও চট্টগ্রামের সাতকানিয়াতেও নির্বাচনী সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।
খিলক্ষেত ডুমনি নূর পাড়া আলিম মাদ্রাসার মাঠে গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ১০ দলীয় জোটের ঢাকা-১৮ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আরিফুল ইসলামের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলা ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীরের লোকজন হামলা করে বলে অভিযোগ ওঠে।
সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি ঢাকা-১৮ আসনের এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল ইসলামের নির্বাচনী সভার চেয়ার ও স্টেজ ভাঙচুর করছে। অন্যদিকে একদল ব্যক্তি এনসিপি নেতাকর্মী ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্টদের মারধর করছে। এসময় হামলাকারীদের নির্বাচনী সভা বন্ধ রাখতে বলতে শোনা যায়।
এনসিপি নেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘৪৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দিদার মোল্লার নেতৃত্বে দলবল নিয়ে নির্বাচনী সভায় অতর্কিত হামলা হামলা চালিয়েছে। আমার সহযোদ্ধারা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। এইখান থেকে আমার লাশ যাবে তবুও প্রোগ্রাম করে যাবো ইনশাআল্লাহ।’
এদিকে ঢাকা-১৮ আসনের ১০ দলীয় জোটের এনসিপি প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আবিদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত দিদার আহমেদ মোল্লাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি। এতে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ নোটিশের জবাব দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি এবং বিষয়টি দলকে জানিয়েছি। দলের নির্দেশে অভিযুক্ত দিদার আহমেদ মোল্লাকে শোকজ করা হয়েছে। ঘটনার কথা জানার পর আমি নিজে আরিফুল ইসলাম আবিদকে ফোন করেছি। আমরা সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড হবে না।’
পটুয়াখালীর দশমিনার চরবোরহান ইউনিয়নের পাগলা বাজারে গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বিএনপি জোটের প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাত ৮টার দিকে পাগলা বাজার এলাকায় মিছিল করার জন্য নুরুল হক নুর ও হাসান মামুনের সমর্থকেরা অবস্থান নেন। মিছিল শুরু হওয়ার পরপরই উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে একে অপরের নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়।
এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, ‘এটি হাসান মামুনের সাজানো নাটক। তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করেছে।’
তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার গণজোয়ার দেখে গণঅধিকার পরিষদের সমর্থক, নেতা-কর্মী এবং বিএনপির কিছু টাকায় বিক্রি হওয়া লোক এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।’
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদৎ মো. হাচনাইন পারভেজ জানান, আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির প্রার্থী ও দলটির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হিলালীর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা দেড়টার দিকে কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের জল্লী পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নওগাঁ-৬ (রাণীনগর ও আত্রাই) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর কবিরের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাণীনগর উপজেলার পাকুরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া রাতে আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া বাজার এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর একটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুরেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী পৌরসভার মোল্লারচর এলাকায় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে জামায়াতের প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লার গণসংযোগে বিএনপির নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পৌরসভা শিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান অর্ণবসহ চারজন আহত হয়েছেন।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অন্যদিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর বাজারের পাইলট মোড় এলাকায় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে জামায়াতের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত আটজন আহত হন।
নড়িয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সাতকানিয়া পৌরসভার ছমদরপাড়ার ৪ নম্বর গলিতে দুপুরে বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনের ধানের শীষের ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙাতে যায়। এ সময় দলের দুই কর্মী জামায়াত কর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ তারেক হোছাঈন বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনো কর্মী-সমর্থক জড়িত নন।
এদিকে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলতলা গ্রামে বিকেলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থকের বাড়িতে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সদর থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম জানান, ‘ঘটনার খবর পেয়েছি। তদন্ত চলছে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, দেশে নির্বাচনী সহিংসতার সংখ্যাও তত বাড়ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এটাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারও দেশের অন্তত সাতটি জেলায় নির্বাচনী সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন।
এর মধ্যে ১০ দলীয় জোটের ঢাকা-১৮ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলামের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলা ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা ও গলাচিপা) আসনের দশমিনায় বিএনপি জোটের প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা হাসান মামুনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। নেত্রকোনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, নওগাঁ ও চট্টগ্রামের সাতকানিয়াতেও নির্বাচনী সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।
খিলক্ষেত ডুমনি নূর পাড়া আলিম মাদ্রাসার মাঠে গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ১০ দলীয় জোটের ঢাকা-১৮ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আরিফুল ইসলামের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলা ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীরের লোকজন হামলা করে বলে অভিযোগ ওঠে।
সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি ঢাকা-১৮ আসনের এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল ইসলামের নির্বাচনী সভার চেয়ার ও স্টেজ ভাঙচুর করছে। অন্যদিকে একদল ব্যক্তি এনসিপি নেতাকর্মী ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্টদের মারধর করছে। এসময় হামলাকারীদের নির্বাচনী সভা বন্ধ রাখতে বলতে শোনা যায়।
এনসিপি নেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘৪৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দিদার মোল্লার নেতৃত্বে দলবল নিয়ে নির্বাচনী সভায় অতর্কিত হামলা হামলা চালিয়েছে। আমার সহযোদ্ধারা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। এইখান থেকে আমার লাশ যাবে তবুও প্রোগ্রাম করে যাবো ইনশাআল্লাহ।’
এদিকে ঢাকা-১৮ আসনের ১০ দলীয় জোটের এনসিপি প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আবিদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত দিদার আহমেদ মোল্লাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি। এতে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ নোটিশের জবাব দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি এবং বিষয়টি দলকে জানিয়েছি। দলের নির্দেশে অভিযুক্ত দিদার আহমেদ মোল্লাকে শোকজ করা হয়েছে। ঘটনার কথা জানার পর আমি নিজে আরিফুল ইসলাম আবিদকে ফোন করেছি। আমরা সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড হবে না।’
পটুয়াখালীর দশমিনার চরবোরহান ইউনিয়নের পাগলা বাজারে গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বিএনপি জোটের প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাত ৮টার দিকে পাগলা বাজার এলাকায় মিছিল করার জন্য নুরুল হক নুর ও হাসান মামুনের সমর্থকেরা অবস্থান নেন। মিছিল শুরু হওয়ার পরপরই উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে একে অপরের নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়।
এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, ‘এটি হাসান মামুনের সাজানো নাটক। তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করেছে।’
তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার গণজোয়ার দেখে গণঅধিকার পরিষদের সমর্থক, নেতা-কর্মী এবং বিএনপির কিছু টাকায় বিক্রি হওয়া লোক এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।’
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদৎ মো. হাচনাইন পারভেজ জানান, আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির প্রার্থী ও দলটির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হিলালীর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা দেড়টার দিকে কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের জল্লী পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নওগাঁ-৬ (রাণীনগর ও আত্রাই) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর কবিরের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাণীনগর উপজেলার পাকুরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া রাতে আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া বাজার এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর একটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুরেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী পৌরসভার মোল্লারচর এলাকায় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে জামায়াতের প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লার গণসংযোগে বিএনপির নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পৌরসভা শিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান অর্ণবসহ চারজন আহত হয়েছেন।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অন্যদিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর বাজারের পাইলট মোড় এলাকায় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে জামায়াতের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত আটজন আহত হন।
নড়িয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সাতকানিয়া পৌরসভার ছমদরপাড়ার ৪ নম্বর গলিতে দুপুরে বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনের ধানের শীষের ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙাতে যায়। এ সময় দলের দুই কর্মী জামায়াত কর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ তারেক হোছাঈন বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনো কর্মী-সমর্থক জড়িত নন।
এদিকে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলতলা গ্রামে বিকেলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থকের বাড়িতে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সদর থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম জানান, ‘ঘটনার খবর পেয়েছি। তদন্ত চলছে।’

৮ জেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় আহত ৪৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, দেশে নির্বাচনী সহিংসতার সংখ্যাও তত বাড়ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এটাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারও দেশের অন্তত সাতটি জেলায় নির্বাচনী সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন।
এর মধ্যে ১০ দলীয় জোটের ঢাকা-১৮ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলামের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলা ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা ও গলাচিপা) আসনের দশমিনায় বিএনপি জোটের প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা হাসান মামুনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। নেত্রকোনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, নওগাঁ ও চট্টগ্রামের সাতকানিয়াতেও নির্বাচনী সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।
খিলক্ষেত ডুমনি নূর পাড়া আলিম মাদ্রাসার মাঠে গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ১০ দলীয় জোটের ঢাকা-১৮ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আরিফুল ইসলামের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলা ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীরের লোকজন হামলা করে বলে অভিযোগ ওঠে।
সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি ঢাকা-১৮ আসনের এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল ইসলামের নির্বাচনী সভার চেয়ার ও স্টেজ ভাঙচুর করছে। অন্যদিকে একদল ব্যক্তি এনসিপি নেতাকর্মী ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্টদের মারধর করছে। এসময় হামলাকারীদের নির্বাচনী সভা বন্ধ রাখতে বলতে শোনা যায়।
এনসিপি নেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘৪৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দিদার মোল্লার নেতৃত্বে দলবল নিয়ে নির্বাচনী সভায় অতর্কিত হামলা হামলা চালিয়েছে। আমার সহযোদ্ধারা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। এইখান থেকে আমার লাশ যাবে তবুও প্রোগ্রাম করে যাবো ইনশাআল্লাহ।’
এদিকে ঢাকা-১৮ আসনের ১০ দলীয় জোটের এনসিপি প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আবিদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত দিদার আহমেদ মোল্লাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি। এতে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ নোটিশের জবাব দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি এবং বিষয়টি দলকে জানিয়েছি। দলের নির্দেশে অভিযুক্ত দিদার আহমেদ মোল্লাকে শোকজ করা হয়েছে। ঘটনার কথা জানার পর আমি নিজে আরিফুল ইসলাম আবিদকে ফোন করেছি। আমরা সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড হবে না।’
পটুয়াখালীর দশমিনার চরবোরহান ইউনিয়নের পাগলা বাজারে গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বিএনপি জোটের প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাত ৮টার দিকে পাগলা বাজার এলাকায় মিছিল করার জন্য নুরুল হক নুর ও হাসান মামুনের সমর্থকেরা অবস্থান নেন। মিছিল শুরু হওয়ার পরপরই উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে একে অপরের নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়।
এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, ‘এটি হাসান মামুনের সাজানো নাটক। তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করেছে।’
তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার গণজোয়ার দেখে গণঅধিকার পরিষদের সমর্থক, নেতা-কর্মী এবং বিএনপির কিছু টাকায় বিক্রি হওয়া লোক এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।’
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদৎ মো. হাচনাইন পারভেজ জানান, আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির প্রার্থী ও দলটির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হিলালীর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা দেড়টার দিকে কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের জল্লী পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নওগাঁ-৬ (রাণীনগর ও আত্রাই) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর কবিরের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাণীনগর উপজেলার পাকুরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া রাতে আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া বাজার এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর একটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুরেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী পৌরসভার মোল্লারচর এলাকায় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে জামায়াতের প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লার গণসংযোগে বিএনপির নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পৌরসভা শিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান অর্ণবসহ চারজন আহত হয়েছেন।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অন্যদিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর বাজারের পাইলট মোড় এলাকায় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে জামায়াতের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত আটজন আহত হন।
নড়িয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সাতকানিয়া পৌরসভার ছমদরপাড়ার ৪ নম্বর গলিতে দুপুরে বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনের ধানের শীষের ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙাতে যায়। এ সময় দলের দুই কর্মী জামায়াত কর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ তারেক হোছাঈন বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনো কর্মী-সমর্থক জড়িত নন।
এদিকে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলতলা গ্রামে বিকেলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থকের বাড়িতে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সদর থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম জানান, ‘ঘটনার খবর পেয়েছি। তদন্ত চলছে।’




