শিরোনাম

ধর্মের পক্ষে ভোট দিলে জান্নাত, বিপক্ষে গেলে গুনাহ: জামায়াত নেতা

ধর্মের পক্ষে ভোট দিলে জান্নাত, বিপক্ষে গেলে গুনাহ: জামায়াত নেতা
লক্ষীপুর-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্যাহ। ছবি: সংগৃহীত

‘ইসলামের পক্ষে, পবিত্র কোরআনের পক্ষে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে সওয়াব হবে, জান্নাত অবধারিত। আর যারা পবিত্র কোরআনের বিরুদ্ধ ভোট দেবে, তারা গুনাহগার হবে।’– এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্যাহকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগিয়ে ভোট চাওয়ার অভিযোগে তার বক্তব্যের সমালোচনা করছেন অনেকে।

ভিডিওতে দেখা যায়, হ্যান্ডমাইকে ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন এ আর হাফিজ উল্যাহ। সেখানে তিনি ইসলামের পক্ষে ও পবিত্র কোরআনের পক্ষে ভোট দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, শিশু ভাতা, মাতৃকালীন ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ভাতা সাধারণ মানুষ ঠিকমতো পান না। জেলে কার্ডও পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, একটি দল দুর্নীতি করতে করতে শেষ হয়ে গেছে, আরেকটি দল অতীতে দুর্নীতি করেছে এবং আবারও তা করতে প্রস্তুত। এ সময় তিনি নিজেকে ভোটারদের ‘সন্তান, ছেলে ও ভাই’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তার দ্বারা এক টাকাও দুর্নীতি বা অনিয়ম হবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) গণসংযোগের সময় ভোটারদের উদ্দেশে এসব বক্তব্য দেন এ আর হাফিজ উল্যাহ। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারির দায়িত্বেও রয়েছেন।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ আর হাফিজ উল্যাহ জানান, এমন বক্তব্য তিনি দিয়েছেন কি না, তা তার মনে নেই। তবে ভুল করে মুখ ফসকে এমন কিছু বলে থাকতে পারেন। অনেক সময় তার বক্তব্য খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।

এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, বিষয়টি আমি কয়েকজন কর্মকর্তার কাছ থেকে শুনেছি। এ ব্যাপারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে।

/এসএ/