শিরোনাম

কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন
কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তির দাবিতে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত

কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা প্রত্যাহার, চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল, তালাবদ্ধ ডিইউজে-বিএফইউজে কার্যালয় খুলে দেওয়া ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (৮ মে) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার সাংবাদিকদের চরমভাবে নির্যাতন করেছেন। দেশের ইতিহাসের এতো সংখ্যক সাংবাদিকের নামে মিথ্যা মামলা ও আটকের নজির আর নেই। এসব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

সংগঠনের আহ্বায়ক আকতার হোসেন বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে, চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে এবং কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। কারাবন্দী এসব সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়া ও নির্যাতন বন্ধ করার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার যদি এই দায়িত্ব না নেয়, তাহলে ধরে নিতে হবে আপনারা সাংবাদিকদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। রাজনৈতিক সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আপনারা সাংবাদিকদের মুক্ত করে দিন। তাহলে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।’

মানববন্ধনে সংগঠনের সদস্য সচিব শেখ জামাল বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে ড. ইউনূস ক্ষমতা দখল করেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মুক্তমনাদের ওপর আঘাত হানে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন, মাজার, পির-ফকির-আউলিয়ার সমাধি থেকে শুরু করে গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ করে নেয় তারা। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সাংবাদিকদের ওপর চাপ, হয়রানি ও সহিংসতার অংশ হিসেবে শত শত সাংবাদিককে আইনি হয়রানি, শারীরিক হামলা, মামলা, অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিলসহ হাজারেরও বেশি সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া সাংবাদিক হত্যায়ও মদদ দিয়েছে তারা।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় এদেশের সাংবাদিকরা নির্যাতনের শিকার হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নির্যাতনের ধরন পরিবর্তনের পাশাপাশি মব সহিংসতাকেও উস্কে দেওয়া হয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্র অফিসে আগুন দিয়ে সাংবাদিকদের হত্যার চেষ্টা করেছে। এসব ঘটনার দায়মুক্তি দিয়ে ড. ইউনূস ন্যক্কারজনক উদাহরণ সৃষ্টি করে গেছেন।

শেখ জামাল বলেন, ড. ইউনূসের সময়ে শাহরিয়ার কবীর, মোজাম্মেল বাবু, শ্যামল দত্ত, শাকিল আহমেদ, ফারজানা রুপা, শেখ জামাল, মঞ্জুরুল আলম পান্না, আনিস আলমগীরসহ সারাদেশে ৪৭ জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়। বেশ কয়েকজন এখনো কারাগারে। এছাড়া মেহেদী হাসান, শাকিল হোসেন, তাহির জামান, এটিএম তুরাব, প্রদীপ কুমার ভৌমিক, সোহেল আখঞ্জিসহ ১৩ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়।

তিনি জানান, জাতীয় দৈনিক ও টিভি চ্যানেলের জেষ্ঠ্য সাংবাদিকসহ সারাদেশে ৪৪৯ জন সাংবাদিকের নামে হত্যা মামলা দেওয়া হয়। যা এখনো বহাল আছে। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমের ১২০০ সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকীয় পদ দখল করা হয়েছে।

এ সময় গণমাধ্যমের ওপর হামলার একটি চিত্র তুলে ধরেন শেখ জামাল। তিনি বলেন, বিটিভি, একাত্তর টিভি, সময় টিভি, ডিবিসি, গান বাংলা, এটিএন নিউজ, এটিএন বাংলা, মাইটিভি, বিজয় টিভি, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিস ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই তালিকায় আরও রয়েছে, নিউজ২৪, আমাদের অর্থনীতি, আমাদের নতুন সময়, দৈনিক মুখপাত্র, কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান এবং বাংলা নিউজ।

তিনি আরও বলেন, নজীরবিহীনভাবে ১৬৮ সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবসহ দেশের বিভিন্ন প্রেসক্লাবের ৭০০ জন সদস্যের পদ স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে। অর্ধশতাধিক সাংবাদিকের দেশত্যাগে বেআইনি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ৪৭ জন সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব বেআইনিভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

শেখ জামাল বলেন, ড. ইউনূসের আমলে যে নিপীড়ন চলেছে, ভবিষ্যতে যেন আর কেউ এমন নির্যাতন-নিপীড়ন করতে না পারে সেই লক্ষে বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজ ‘নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট’ গড়ে তুলেছে।

মানববন্ধন থেকে কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে। সেগুলো হলো-

দেশের সকল সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি দিতে হবে। সাংবাদিক হত্যার বিচার করতে হবে। চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের চাকরি ফেরত দিতে হবে। ডিইউজে ও বিএফইউজে অফিস খুলে দিতে হবে। অফিসের টাকাসহ মালামাল লুট করে আগুন দেওয়ার ঘটনার বিচার করতে হবে। জাতীয় প্রেসক্লাবসহ সারাদেশের প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সদস্যপদ ফেরত দিতে হবে। সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ প্রত্যহার করতে হবে এবং বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।

কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী, বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি জে এম রউফ, সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন ইমন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) কোষাধ্যক্ষ সোহেলী চৌধুরী, আইন বিষয়ক সম্পাদক আসাদুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস সোহেল, নির্বাহী সদস্য সাজেদা হক এবং একেএম ওবায়দুর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক অর্থ সম্পাদক রেজাউল কারীম, ডিইউজের নির্বাহী সদস্য ফারজানা সুলতানা, রহিমা খানম, রমজান আলী, শফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম রফিক, শফিউর রহমান, ওয়ারেসুন্নবী খন্দকার, মাজেদুল ইসলাম পাবেল, এস এম কামরুজ্জামান সাগর, শেখ ইমন আহমেদ, নাইমুর রহমান স্বপন, গাজী তুষার আহমেদ, বিউটি রানী, জয়নাল আবেদীন বাপ্পি প্রমূখ।

/জেএইচ/