শিরোনাম

ভাষা শহীদদের বাঙালিরাই গুলি করেছিল: খোমেনী ইহসান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভাষা শহীদদের বাঙালিরাই গুলি করেছিল: খোমেনী ইহসান
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

১৯৫২ সালে ভাষা শহীদদের ওপর বাঙালিরাই গুলি করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান। তিনি বলেন, ‘ভাষা শহীদদের ওপর গুলি চালানোর সময় পূর্ব বাংলার সরকারে এই অঞ্চলের মানুষই ছিলেন। পাকিস্তানি কোনো সৈনিক তােদের গুলি করে হত্যা করেনি, গুলিবর্ষণকারীরা ছিলো বাঙালি। যেই জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে মারা গেলেন, তাকে কেন এ বিষয়ে দোষী করা হচ্ছে?’

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে ‘মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় আয়োজক নওয়াব সলিমুল্লাহ একাডেমি।

খোমেনী ইহসান বলেন, ভাষা আন্দোলনের সময়ে পুলিশ কমিশনার কে ছিলেন, এসি, এসপি, ডিসি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন– তাদের নাম সহকারে খুঁজে দেখা প্রয়োজন। ১৯৫২ সালে ভাষা শহীদদের ওপর গুলি চালানোর সময় পূর্ব বাংলার প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে এই অঞ্চলের মানুষই ছিলেন। যেই জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে মারা গেলেন, জিন্নাহকে কেন দোষী করছেন? আর জিন্নাহর সঙ্গে তো ১৯৭১ সালের কোনো সম্পর্কই নেই।

বাংলাদেশের সঙ্গে জিন্নাহর সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, আপনার পাসপোর্টে যে ‘এক্সেপ্ট ইজরায়েল’ লেখা রয়েছে, এর সঙ্গে জিন্নাহর সম্পর্ক আছে। ১৯১৭ সালের বেলফোর ঘোষণার সময় জিন্নাহ ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং ১৯৩৭ সালে মুসলিম লীগের সম্মেলনেও ফিলিস্তিনের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর দেশটির প্রথম বিদেশি মিশনগুলোর একটি ছিল ফিলিস্তিনকেন্দ্রিক এবং পরবর্তীতে ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানও অব্যাহত থাকে।

‘মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় আয়োজকরা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
‘মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় আয়োজকরা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

সভায় অ্যাডভোকেট মইন খান বলেন, লাহোরের সম্মেলনে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ দ্বিজাতি তত্ত্বের কথা বলেন এবং শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক সেখানে একাধিক রাষ্ট্রের ধারণা তুলে ধরেছিলেন। পরবর্তীতে সেটিকে একটি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের কারণে তখন পূর্ববাংলা আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত না হয়ে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

তিনি আরও বলেন, বিহার, সিন্ধু, নোয়াখালী ও কলকাতাসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছিল। সেই সময়ের নেতৃত্বের মধ্যে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ছিলেন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের প্রধান নেতা ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।

নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমির সভাপতি আব্দুল জব্বার বলেন, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর রাজনৈতিক ভূমিকা, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা এবং উপমহাদেশের তৎকালীন পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সঠিক ইতিহাসচর্চা বাড়াতে হবে। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে বাদ দিয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ইতিহাস পূর্ণাঙ্গভাবে আলোচনা করা সম্ভব নয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বুঝতে হলে জিন্নাহর অবদান ও তৎকালীন বাস্তবতাকে নতুন প্রজন্মের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে।

/এফআর/