শিরোনাম

বন্যা ও পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৫৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যা ও পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৫৬
বন্যায় প্লাবিত বাড়িঘর

অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে দেশের সাত জেলায় এখন পর্যন্ত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৯ জন। সেইসঙ্গে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন মানুষ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকাল ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে বন্যাকবলিত জেলার সংখ্যা ৭টি। এগুলো হলো খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।

এসব জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারে। জেলাটিতে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৫ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

আহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন। এছাড়া কক্সবাজারে একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বন্যাকবলিত মানুষের জন্য বর্তমানে ৩২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে। সেখানে ১০ হাজার ৮৫৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

জেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলা এখনো আংশিক জলাবদ্ধ রয়েছে। এছাড়া কক্সবাজারের ১০টি, বান্দরবানের ৭টি, রাঙামাটির ৯টি, খাগড়াছড়ির ৯টি, মৌলভীবাজারের ৩টি এবং হবিগঞ্জের ৩টি উপজেলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। বন্যাদুর্গতদের মধ্যে চাল, নগদ অর্থ, শুকনো খাবার, ঢেউটিন ও গৃহনির্মাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও বিভিন্ন জেলায় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে গত ৭ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বন্যাকবলিত সাত জেলার জন্য মোট ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এসব জেলার জন্য ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া দেশের বাকি ৫৭ জেলার জন্য সাধারণ বরাদ্দ হিসেবে আরও ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ও ৫ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৬৪ জেলার জন্য মোট ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

/জেএইচ/