সংসদ নির্বাচন ও গণভোট কাল, অপেক্ষায় দেশ

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট কাল, অপেক্ষায় দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বহু প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই ঐতিহাসিক নির্বাচন সুন্দর, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে। এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯ আসনে একটানা ভোট গ্রহণ চলবে। একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ভোটের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনে মোট নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে ৬০টি। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত আছে। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল। ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী আছেন ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে ৫০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। মোট নারী প্রার্থী আছেন ৮১ জন।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন আর হিজড়া পরিচয়ে ভোটার আছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, এবার ভোটাররা সরাসরি ভোট দেবেন ৪২ হাজার ৬৫৯টি কেন্দ্রে। এছাড়া ২৯৯টি কেন্দ্রে পোস্টাল ভোট গণনা করা হবে। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৪২ হাজার ৯৫৮টি। সাধারণ ২১ হাজার ২৭৩ কেন্দ্র। ঝুঁকিপূর্ণ ২১ হাজার ৫০৬ কেন্দ্র। ২৯৯টি কেন্দ্রে পোস্টাল ভোটের গণনা হবে। প্রায় ৫০ শতাংশ কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচনে মোট ৪৫ হাজার ৩৩০ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগপ্রাপ্ত আছেন, যার মধ্যে ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক। তবে বিদেশি পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
তিনি আরও জানান, ভোটকেন্দ্রগুলোর পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৯৫৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা। এছাড়া থাকবেন ৪৩ হাজার ৭৮ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৬২ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ৫ লাখের বেশি পোলিং কর্মকর্তা।
নির্বাচনের নিরাপত্তায় সারা দেশে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ২ হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ড্রোন, বডি ওর্ন ক্যামেরা ও ব্যাপকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ইসি জানিয়েছে, ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভোট গণনা ও ফলাফল যেভাবে
জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের দুটি ব্যালট একই সঙ্গে গণনা করা হবে। কেন্দ্র পর্যায়ে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর তা রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, বেশিরভাগ আসনের ফলাফল মধ্যরাতের মধ্যে পাওয়া যাবে।
ভোট গণনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল বলেন, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই কেন্দ্রে গণনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রথমে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করা হবে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট একই সময়ে গণনা করা হবে। দুটি ভোটের ফলাফলও একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে। ভোটকেন্দ্রেই ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, বেশিরভাগ কেন্দ্রের ফলাফল ভোটের দিন মাঝরাতের মধ্যে চলে আসবে বলে তারা আশা করছেন। পরদিন সকালে সব ভোটকেন্দ্রের ফলাফল একীভূত করে ফরম-১৮–তে লিপিবদ্ধ করে প্রার্থী বা এজেন্টের উপস্থিতিতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা সই করবেন। এটার ভিত্তিতে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
ভোটের মাঠে আইনশৃঙ্খলা পরিবেশের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সানাউল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রথমবারের মতো এবার ইউএভি আনম্যানড এরিয়াল ভেহিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে। ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরো দেশেই এটা বিস্তৃত থাকবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওভারল্যাপ থাকবে। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
ভোটার ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটার, সমর্থক সবার প্রতি আহ্বান যে আমরা যেন এই সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখি। যেসব জায়গায় কিছুটা হলেও এখনো টেনশন বিরাজমান সেগুলো যেন আর কন্টিনিউ না করে। সুন্দর সৌহার্দপূর্ণ উৎসবমুখর পরিবেশে আমাদের অতি প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করি।’

বহু প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই ঐতিহাসিক নির্বাচন সুন্দর, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে। এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯ আসনে একটানা ভোট গ্রহণ চলবে। একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ভোটের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনে মোট নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে ৬০টি। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত আছে। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল। ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী আছেন ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে ৫০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। মোট নারী প্রার্থী আছেন ৮১ জন।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন আর হিজড়া পরিচয়ে ভোটার আছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, এবার ভোটাররা সরাসরি ভোট দেবেন ৪২ হাজার ৬৫৯টি কেন্দ্রে। এছাড়া ২৯৯টি কেন্দ্রে পোস্টাল ভোট গণনা করা হবে। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৪২ হাজার ৯৫৮টি। সাধারণ ২১ হাজার ২৭৩ কেন্দ্র। ঝুঁকিপূর্ণ ২১ হাজার ৫০৬ কেন্দ্র। ২৯৯টি কেন্দ্রে পোস্টাল ভোটের গণনা হবে। প্রায় ৫০ শতাংশ কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচনে মোট ৪৫ হাজার ৩৩০ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগপ্রাপ্ত আছেন, যার মধ্যে ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক। তবে বিদেশি পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
তিনি আরও জানান, ভোটকেন্দ্রগুলোর পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৯৫৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা। এছাড়া থাকবেন ৪৩ হাজার ৭৮ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৬২ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ৫ লাখের বেশি পোলিং কর্মকর্তা।
নির্বাচনের নিরাপত্তায় সারা দেশে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ২ হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ড্রোন, বডি ওর্ন ক্যামেরা ও ব্যাপকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ইসি জানিয়েছে, ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভোট গণনা ও ফলাফল যেভাবে
জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের দুটি ব্যালট একই সঙ্গে গণনা করা হবে। কেন্দ্র পর্যায়ে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর তা রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, বেশিরভাগ আসনের ফলাফল মধ্যরাতের মধ্যে পাওয়া যাবে।
ভোট গণনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল বলেন, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই কেন্দ্রে গণনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রথমে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করা হবে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট একই সময়ে গণনা করা হবে। দুটি ভোটের ফলাফলও একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে। ভোটকেন্দ্রেই ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, বেশিরভাগ কেন্দ্রের ফলাফল ভোটের দিন মাঝরাতের মধ্যে চলে আসবে বলে তারা আশা করছেন। পরদিন সকালে সব ভোটকেন্দ্রের ফলাফল একীভূত করে ফরম-১৮–তে লিপিবদ্ধ করে প্রার্থী বা এজেন্টের উপস্থিতিতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা সই করবেন। এটার ভিত্তিতে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
ভোটের মাঠে আইনশৃঙ্খলা পরিবেশের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সানাউল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রথমবারের মতো এবার ইউএভি আনম্যানড এরিয়াল ভেহিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে। ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরো দেশেই এটা বিস্তৃত থাকবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওভারল্যাপ থাকবে। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
ভোটার ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটার, সমর্থক সবার প্রতি আহ্বান যে আমরা যেন এই সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখি। যেসব জায়গায় কিছুটা হলেও এখনো টেনশন বিরাজমান সেগুলো যেন আর কন্টিনিউ না করে। সুন্দর সৌহার্দপূর্ণ উৎসবমুখর পরিবেশে আমাদের অতি প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করি।’

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট কাল, অপেক্ষায় দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বহু প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই ঐতিহাসিক নির্বাচন সুন্দর, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে। এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯ আসনে একটানা ভোট গ্রহণ চলবে। একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ভোটের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনে মোট নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে ৬০টি। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত আছে। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল। ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী আছেন ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে ৫০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। মোট নারী প্রার্থী আছেন ৮১ জন।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন আর হিজড়া পরিচয়ে ভোটার আছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, এবার ভোটাররা সরাসরি ভোট দেবেন ৪২ হাজার ৬৫৯টি কেন্দ্রে। এছাড়া ২৯৯টি কেন্দ্রে পোস্টাল ভোট গণনা করা হবে। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৪২ হাজার ৯৫৮টি। সাধারণ ২১ হাজার ২৭৩ কেন্দ্র। ঝুঁকিপূর্ণ ২১ হাজার ৫০৬ কেন্দ্র। ২৯৯টি কেন্দ্রে পোস্টাল ভোটের গণনা হবে। প্রায় ৫০ শতাংশ কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচনে মোট ৪৫ হাজার ৩৩০ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগপ্রাপ্ত আছেন, যার মধ্যে ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক। তবে বিদেশি পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
তিনি আরও জানান, ভোটকেন্দ্রগুলোর পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৯৫৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা। এছাড়া থাকবেন ৪৩ হাজার ৭৮ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৬২ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ৫ লাখের বেশি পোলিং কর্মকর্তা।
নির্বাচনের নিরাপত্তায় সারা দেশে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ২ হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ড্রোন, বডি ওর্ন ক্যামেরা ও ব্যাপকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ইসি জানিয়েছে, ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভোট গণনা ও ফলাফল যেভাবে
জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের দুটি ব্যালট একই সঙ্গে গণনা করা হবে। কেন্দ্র পর্যায়ে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর তা রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, বেশিরভাগ আসনের ফলাফল মধ্যরাতের মধ্যে পাওয়া যাবে।
ভোট গণনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল বলেন, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই কেন্দ্রে গণনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রথমে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করা হবে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট একই সময়ে গণনা করা হবে। দুটি ভোটের ফলাফলও একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে। ভোটকেন্দ্রেই ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, বেশিরভাগ কেন্দ্রের ফলাফল ভোটের দিন মাঝরাতের মধ্যে চলে আসবে বলে তারা আশা করছেন। পরদিন সকালে সব ভোটকেন্দ্রের ফলাফল একীভূত করে ফরম-১৮–তে লিপিবদ্ধ করে প্রার্থী বা এজেন্টের উপস্থিতিতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা সই করবেন। এটার ভিত্তিতে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
ভোটের মাঠে আইনশৃঙ্খলা পরিবেশের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সানাউল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রথমবারের মতো এবার ইউএভি আনম্যানড এরিয়াল ভেহিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে। ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরো দেশেই এটা বিস্তৃত থাকবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওভারল্যাপ থাকবে। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
ভোটার ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটার, সমর্থক সবার প্রতি আহ্বান যে আমরা যেন এই সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখি। যেসব জায়গায় কিছুটা হলেও এখনো টেনশন বিরাজমান সেগুলো যেন আর কন্টিনিউ না করে। সুন্দর সৌহার্দপূর্ণ উৎসবমুখর পরিবেশে আমাদের অতি প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করি।’




