ঐতিহ্যবাহী জিপিওতে হচ্ছে সচিবালয়ের বহুতল ভবন

ঐতিহ্যবাহী জিপিওতে হচ্ছে সচিবালয়ের বহুতল ভবন
বিশেষ প্রতিনিধি

‘রানার ছুটেছে তাই ঝুম্ঝুম্ ঘণ্টা বাজছে রাতে,
রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে।
রানার! রানার!
কাজ নিয়েছে সে নতুন খবর আনার;’
সুকান্ত ভট্টাচার্যের সেই বিখ্যাত কবিতা ‘রানার’ হয়তো আজ আমরা ভুলতে বসেছি। সেই সঙ্গে ভুলতে বসেছি পোস্টম্যান, মানি অর্ডার, লণ্ঠন, বিউগল, তলোয়ার, বন্দুক, ডিমলাইট, ছুরি হাতে ছুটে চলা দুরন্ত এক মানুষের ছবি। যোগাযোগ, বিনোদনসহ নানা প্রয়োজনে মোবাইলে বুদ হয়ে থাকায় হারিয়ে গেছে আমাদের সেই চিরচেনা ডাক বিভাগের ঐতিহ্য। ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে টিকে আছে জিপিওর ঐতিহ্যবাহী ভবন আর পোস্টাল জাদুঘর। যেখানে সংরক্ষিত আছে ব্রিটিশ আমলের ডাক বিভাগের বেশিরভাগ নিদর্শন।
এবার হয়তো সেটুকুও টিকবে কিনা তা নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে। কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের জন্য কয়েকটি বহুতল ভবন করার চিন্তা করছে সরকার। গত বুধবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ৩০ মার্চ গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায়ও এ বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সেখানে সচিবালয়ের আয়তন বাড়াতে পুরোনো জিপিও ভবনের জায়গায় নির্মাণ করা হবে একাধিক বহুতল ভবন। এসব ভবনের সঙ্গে সচিবালয়ের সংযোগ স্থাপনে পূর্ব পাশের রাস্তার ওপর দিয়ে সংযোগ সেতু এবং নিচ দিয়ে পাতাল সড়ক তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সচিবালয়ের ভবন সম্প্রসারণের প্রাথমিক নকশা তৈরির কাজ চলছে।
জিপিওর প্রায় সাড়ে সাত একর জমিতে তিনটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। সেখানে ছয় থেকে আটটি মন্ত্রণালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। হাতে গোনা চারটি মন্ত্রণালয় ছাড়া সবই সচিবালয়ের ভেতরে। মাত্র ১৭ দশমিক ৫৩ একর জমিতে ১১টি ছোট-বড় ভবন ও ৬টি ক্যান্টিন রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, কর্মকর্তা, কর্মচারী, দর্শনার্থীসহ প্রায় ২৫ হাজার লোক প্রতিদিন সচিবালয়ে আসা-যাওয়া করেন এবং ৫ থেকে ৬ হাজার যানবাহন এখানে প্রবেশ করে। বাড়তি যানবাহনের চাপে প্রায়ই সচিবালয়ের ভেতরে তীব্র যানজট হচ্ছে। ইতোমধ্যে সচিবালয়ের পূর্বপাশে জিপিও দিকে গাড়ি ঢোকার ও বের হওয়ার জন্য একটি ফটক আছে।
এদিকে সচিবালয়ের জায়গা সংকট মেটাতে জিপিওর জায়গা ব্যবহার নিয়ে রয়েছে নানা মতপার্থক্য। দেশের ইতিহাসের অংশ জিপিও নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেখানে থাকা জাদুঘরসহ পুরোনো স্থাপনার ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যেখানে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের তৈলচিত্র শোভা পাচ্ছে। যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন ডাক বিভাগের সঙ্গে। এদের মধ্যে রয়েছে বিশিষ্ট নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্র, মহাকবি কায়কোবাদ, ডাকটিকিটের উদ্ভাবক স্যার রোনাল্ড হিল, মন্টেগোমাড়ি, সিভি রমন, হেনরি ভন স্টিফেন এবং শেখ শফিউর রহমান।
জিপিওর অংশে সচিবালয়ের স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালিকুজ্জামান চৌধুরী সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘জিপিওর জায়গায় কিছু স্থাপনার তৈরির বিষয়ে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে সভা হয়েছে। সেখানে ভূমিকম্প প্রতিরোধক স্থাপনা নির্মাণের চিন্তা করা হচ্ছে।’

‘রানার ছুটেছে তাই ঝুম্ঝুম্ ঘণ্টা বাজছে রাতে,
রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে।
রানার! রানার!
কাজ নিয়েছে সে নতুন খবর আনার;’
সুকান্ত ভট্টাচার্যের সেই বিখ্যাত কবিতা ‘রানার’ হয়তো আজ আমরা ভুলতে বসেছি। সেই সঙ্গে ভুলতে বসেছি পোস্টম্যান, মানি অর্ডার, লণ্ঠন, বিউগল, তলোয়ার, বন্দুক, ডিমলাইট, ছুরি হাতে ছুটে চলা দুরন্ত এক মানুষের ছবি। যোগাযোগ, বিনোদনসহ নানা প্রয়োজনে মোবাইলে বুদ হয়ে থাকায় হারিয়ে গেছে আমাদের সেই চিরচেনা ডাক বিভাগের ঐতিহ্য। ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে টিকে আছে জিপিওর ঐতিহ্যবাহী ভবন আর পোস্টাল জাদুঘর। যেখানে সংরক্ষিত আছে ব্রিটিশ আমলের ডাক বিভাগের বেশিরভাগ নিদর্শন।
এবার হয়তো সেটুকুও টিকবে কিনা তা নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে। কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের জন্য কয়েকটি বহুতল ভবন করার চিন্তা করছে সরকার। গত বুধবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ৩০ মার্চ গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায়ও এ বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সেখানে সচিবালয়ের আয়তন বাড়াতে পুরোনো জিপিও ভবনের জায়গায় নির্মাণ করা হবে একাধিক বহুতল ভবন। এসব ভবনের সঙ্গে সচিবালয়ের সংযোগ স্থাপনে পূর্ব পাশের রাস্তার ওপর দিয়ে সংযোগ সেতু এবং নিচ দিয়ে পাতাল সড়ক তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সচিবালয়ের ভবন সম্প্রসারণের প্রাথমিক নকশা তৈরির কাজ চলছে।
জিপিওর প্রায় সাড়ে সাত একর জমিতে তিনটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। সেখানে ছয় থেকে আটটি মন্ত্রণালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। হাতে গোনা চারটি মন্ত্রণালয় ছাড়া সবই সচিবালয়ের ভেতরে। মাত্র ১৭ দশমিক ৫৩ একর জমিতে ১১টি ছোট-বড় ভবন ও ৬টি ক্যান্টিন রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, কর্মকর্তা, কর্মচারী, দর্শনার্থীসহ প্রায় ২৫ হাজার লোক প্রতিদিন সচিবালয়ে আসা-যাওয়া করেন এবং ৫ থেকে ৬ হাজার যানবাহন এখানে প্রবেশ করে। বাড়তি যানবাহনের চাপে প্রায়ই সচিবালয়ের ভেতরে তীব্র যানজট হচ্ছে। ইতোমধ্যে সচিবালয়ের পূর্বপাশে জিপিও দিকে গাড়ি ঢোকার ও বের হওয়ার জন্য একটি ফটক আছে।
এদিকে সচিবালয়ের জায়গা সংকট মেটাতে জিপিওর জায়গা ব্যবহার নিয়ে রয়েছে নানা মতপার্থক্য। দেশের ইতিহাসের অংশ জিপিও নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেখানে থাকা জাদুঘরসহ পুরোনো স্থাপনার ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যেখানে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের তৈলচিত্র শোভা পাচ্ছে। যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন ডাক বিভাগের সঙ্গে। এদের মধ্যে রয়েছে বিশিষ্ট নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্র, মহাকবি কায়কোবাদ, ডাকটিকিটের উদ্ভাবক স্যার রোনাল্ড হিল, মন্টেগোমাড়ি, সিভি রমন, হেনরি ভন স্টিফেন এবং শেখ শফিউর রহমান।
জিপিওর অংশে সচিবালয়ের স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালিকুজ্জামান চৌধুরী সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘জিপিওর জায়গায় কিছু স্থাপনার তৈরির বিষয়ে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে সভা হয়েছে। সেখানে ভূমিকম্প প্রতিরোধক স্থাপনা নির্মাণের চিন্তা করা হচ্ছে।’

ঐতিহ্যবাহী জিপিওতে হচ্ছে সচিবালয়ের বহুতল ভবন
বিশেষ প্রতিনিধি

‘রানার ছুটেছে তাই ঝুম্ঝুম্ ঘণ্টা বাজছে রাতে,
রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে।
রানার! রানার!
কাজ নিয়েছে সে নতুন খবর আনার;’
সুকান্ত ভট্টাচার্যের সেই বিখ্যাত কবিতা ‘রানার’ হয়তো আজ আমরা ভুলতে বসেছি। সেই সঙ্গে ভুলতে বসেছি পোস্টম্যান, মানি অর্ডার, লণ্ঠন, বিউগল, তলোয়ার, বন্দুক, ডিমলাইট, ছুরি হাতে ছুটে চলা দুরন্ত এক মানুষের ছবি। যোগাযোগ, বিনোদনসহ নানা প্রয়োজনে মোবাইলে বুদ হয়ে থাকায় হারিয়ে গেছে আমাদের সেই চিরচেনা ডাক বিভাগের ঐতিহ্য। ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে টিকে আছে জিপিওর ঐতিহ্যবাহী ভবন আর পোস্টাল জাদুঘর। যেখানে সংরক্ষিত আছে ব্রিটিশ আমলের ডাক বিভাগের বেশিরভাগ নিদর্শন।
এবার হয়তো সেটুকুও টিকবে কিনা তা নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে। কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের জন্য কয়েকটি বহুতল ভবন করার চিন্তা করছে সরকার। গত বুধবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ৩০ মার্চ গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায়ও এ বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সেখানে সচিবালয়ের আয়তন বাড়াতে পুরোনো জিপিও ভবনের জায়গায় নির্মাণ করা হবে একাধিক বহুতল ভবন। এসব ভবনের সঙ্গে সচিবালয়ের সংযোগ স্থাপনে পূর্ব পাশের রাস্তার ওপর দিয়ে সংযোগ সেতু এবং নিচ দিয়ে পাতাল সড়ক তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সচিবালয়ের ভবন সম্প্রসারণের প্রাথমিক নকশা তৈরির কাজ চলছে।
জিপিওর প্রায় সাড়ে সাত একর জমিতে তিনটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। সেখানে ছয় থেকে আটটি মন্ত্রণালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। হাতে গোনা চারটি মন্ত্রণালয় ছাড়া সবই সচিবালয়ের ভেতরে। মাত্র ১৭ দশমিক ৫৩ একর জমিতে ১১টি ছোট-বড় ভবন ও ৬টি ক্যান্টিন রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, কর্মকর্তা, কর্মচারী, দর্শনার্থীসহ প্রায় ২৫ হাজার লোক প্রতিদিন সচিবালয়ে আসা-যাওয়া করেন এবং ৫ থেকে ৬ হাজার যানবাহন এখানে প্রবেশ করে। বাড়তি যানবাহনের চাপে প্রায়ই সচিবালয়ের ভেতরে তীব্র যানজট হচ্ছে। ইতোমধ্যে সচিবালয়ের পূর্বপাশে জিপিও দিকে গাড়ি ঢোকার ও বের হওয়ার জন্য একটি ফটক আছে।
এদিকে সচিবালয়ের জায়গা সংকট মেটাতে জিপিওর জায়গা ব্যবহার নিয়ে রয়েছে নানা মতপার্থক্য। দেশের ইতিহাসের অংশ জিপিও নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেখানে থাকা জাদুঘরসহ পুরোনো স্থাপনার ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যেখানে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের তৈলচিত্র শোভা পাচ্ছে। যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন ডাক বিভাগের সঙ্গে। এদের মধ্যে রয়েছে বিশিষ্ট নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্র, মহাকবি কায়কোবাদ, ডাকটিকিটের উদ্ভাবক স্যার রোনাল্ড হিল, মন্টেগোমাড়ি, সিভি রমন, হেনরি ভন স্টিফেন এবং শেখ শফিউর রহমান।
জিপিওর অংশে সচিবালয়ের স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালিকুজ্জামান চৌধুরী সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘জিপিওর জায়গায় কিছু স্থাপনার তৈরির বিষয়ে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে সভা হয়েছে। সেখানে ভূমিকম্প প্রতিরোধক স্থাপনা নির্মাণের চিন্তা করা হচ্ছে।’




