শিরোনাম

জাতীয় পর্যায়ে সেরা ক্রীড়াবিদরা বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ পাবে: প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় পর্যায়ে সেরা ক্রীড়াবিদরা বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ পাবে: প্রতিমন্ত্রী
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকসহ অন্যরা

বর্তমান প্রজন্মকে মুঠোফোনের আসক্তি এবং মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই মন্তব্য করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, প্রতিটি বাবা-মা চান তাদের সন্তান সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে উঠুক, আর সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। জাতীয় পর্যায় এবং বিভিন্ন ইভেন্ট থেকে যেসব ক্রীড়াবিদ অসাধারণ নৈপুণ্য দেখাবে, তাদের চিহ্নিত করে বিকেএসপিতে ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে। তাদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার যাবতীয় দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মিরপুরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সুইমিং কমপ্লেক্সে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে প্রতিভা অন্বেষণমূলক মেগা ইভেন্ট ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। মিরপুরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সুইমিং কমপ্লেক্সে এক উৎসবমুখর পরিবেশে সাঁতার প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই জাতীয় পর্বের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। এছাড়াও অতিরিক্ত সচিব আমেনা বেগম, অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খান ও সুইমিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে গত ২ মে সিলেট থেকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছিল। উপজেলা ও জেলা পর্যায় পেরিয়ে সফলভাবে বিভাগীয় ধাপ শেষ করে এখন জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

খেলার মাধ্যমে দল-মত নির্বিশেষে পুরো জাতিকে এক সুতোয় গাঁথা যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের জার্সিতে মাঠে নামলে সবাই কেবল বাংলাদেশি পরিচয়ে পরিচিত হন। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, এই উদ্দীপনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের ফুটবলসহ অন্যান্য খেলাগুলোকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৮টি ইভেন্ট দিয়ে খেলা শুরু হলেও এতে নতুন করে ভলিবল ও টেবিল টেনিস যুক্ত হয়ে মোট ইভেন্টের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১০টিতে। প্রথম আসর শেষ হওয়ার আগেই পহেলা জুলাই থেকে দ্বিতীয় আসরের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন কোনো বিভাগীয় শহর থেকে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি সাপেক্ষে দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। এছাড়া, দেশের ৪ হাজার ৫৮৯টি ইউনিয়ন ও ৫০৩টি উপজেলা পর্যায় থেকে দল গঠন করে এই প্রতিযোগিতা বছরব্যাপী চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

জানা গেছে, আগামী ২৭ জুলাই বিকাল ৪ টায় আর্মি স্টেডিয়ামে এই প্রতিযোগিতার বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানে সেরা ক্রীড়াবিদদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

/এফআর/