শিরোনাম

শেখ হাসিনার কী কী সম্পদ আছে, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি কার নামে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেখ হাসিনার কী কী সম্পদ আছে, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি কার নামে
শেখ হাসিনা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জেরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরু হয়। শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ডও হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়ার পরও বিষয়টি ঝুলে আছে। কারণ, এখনো ঠিক হয়নি কোন সংস্থা তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করবে এবং কোন প্রক্রিয়াতেই বা করবে। আর বাজেয়াপ্ত করা সেই সম্পদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারকে কীভাবে দেওয়া হবে, সেটাও এখনো নির্ধারণ হয়নি। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, তা ঠিক করতে কাজ চলছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আইনে অথবা বিধিতে কোনো সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টি উল্লেখ আছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধানও আছে। কিন্তু কী প্রক্রিয়ায় সেটা হবে, সেটা আছে সাধারণ আইনে।’ এ বিষয়ে তিনি শুনানিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের সামনে উপস্থাপন করেছিলেন, যেন একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে তাঁর ‘রেট্রোস্পেকটিভ ইফেক্ট’ হয়ে যাবে, অর্থাৎ আগে দেওয়া রায় অনুযায়ী সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা যাবে। চিফ প্রসিকিউটরের মতে, সেটিতে আইনগত কোনো সমস্যা নেই।

টুঙ্গিপাড়ায় শেখ হাসিনাদের বাড়ি
টুঙ্গিপাড়ায় শেখ হাসিনাদের বাড়ি

সম্পদ বাজেয়াপ্তের বিষয়টি আবার সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা কৌতূহল জাগতেই পারে–শেখ হাসিনার নামে আসলে কী কী সম্পদ আছে? এর মধ্যে কী কী বাজেয়াপ্ত করা যাবে? ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে বেশ কয়েকবার হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। এ কারণে আরেকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই বাড়িটির মালিকানা কি শেখ হাসিনার নামে?

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে শেখ হাসিনা (গোপালগঞ্জ-৩) হলফনামা জমা দিয়েছিলেন। সেখান থেকে তার ঘোষিত সম্পদের তথ্য জানা যায়। হলফনামায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজের নামে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছিলেন। তখন তিনি নিজের হাতে থাকা নগদ অর্থ দেখিয়েছিলেন সাড়ে ২৮ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা টাকার পরিমাণ ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ। ছিল ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ৫৫ লাখ টাকার এফডিআর।

শেখ হাসিনা হলফনামায় তিনটি গাড়ি দেখিয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি উপহারের। সেটির দাম দেখাননি। বাকি দুটির দাম দেখিয়েছিলেন সাড়ে ৪৭ লাখ টাকা। সোনা ও অন্যান্য গয়নার দাম দেখিয়েছিলেন ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। নিজের আসবাবের দাম ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। শেখ হাসিনা নিজের নামে থাকা কৃষিজমির পরিমাণ দেখিয়েছিলেন ১৫ দশমিক ৩ বিঘা, যা টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, গাজীপুর ও রংপুরে।

গাজীপুর শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে মৌচাকের তেলিরচালা এলাকায় বাংলাদেশ স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পূর্ব পাশে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ঘেঁষে রয়েছে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের একটি বাগানবাড়ি।

স্থানীয় ভূমি কার্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৭০ সালের দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এ জমি লিখে দিয়েছিলেন। উত্তরাধিকারসূত্রে জমির মালিক হয়েছেন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। পরে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা জমির কিছু অংশ সন্তানদের লিখে দেন। সেই সূত্রে মালিক হন শেখ হাসিনার সন্তান সজীব ওয়াজেদ ও সায়মা ওয়াজেদ এবং শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক। নথিপত্রে জমির পরিমাণ ৯ বিঘা।

হলফনামা অনুযায়ী, ঢাকার পূর্বাচলে একটি প্লট রয়েছে শেখ হাসিনার নামে, যার দাম ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তার এবং তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ, ছোট বোন শেখ রেহানা, রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে এই পরিবারের ছয়জন মোট ৬০ কাঠা জমি পেয়েছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে এসব প্লট বরাদ্দের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা চলছে।

হলফনামায় শেখ হাসিনা তিনতলা ভবনসহ ৬ দশমিক ১০ শতক জমি নিজের নামে দেখিয়েছেন। এই জমি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে কয়েকবার ভাঙচুর করা হয়
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে কয়েকবার ভাঙচুর করা হয়

এবার আসা যাক ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ির বিষয়ে। ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটির মালিকানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের হাতে রয়েছে। শেখ হাসিনার বাসভবন ধানমন্ডির সুধা সদনের মালিকানা রয়েছে সজীব ওয়াজেদ ও সায়মা ওয়াজেদের নামে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাদের দুজনের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

/আরএ/