শিরোনাম

নির্বাচনে যে সরকারই আসুক, যুক্তরাষ্ট্র কাজ করতে আগ্রহী: রাষ্ট্রদূত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্বাচনে যে সরকারই আসুক, যুক্তরাষ্ট্র কাজ করতে আগ্রহী: রাষ্ট্রদূত
নির্বাচন কমিশনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

বাংলাদেশের নাগরিকরা ভোটে যে সরকারকে নির্বাচিত করবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

বুধবার( ২৯ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কোনো পক্ষ নেয় না। নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবেন জনগণ, এবং কেবল বাংলাদেশের জনগণই। বাংলাদেশি জনগণ যাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবে, সেই সরকারের সঙ্গেই আমরা কাজ করতে প্রস্তুত।

রাষ্ট্রদূত বলেন, আমি এইমাত্র প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে একটি অত্যন্ত ভালো বৈঠক শেষ করেছি। সেখানে আমরা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেছি। অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবে যে নীতিমালা, প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে, সে বিষয়ে তিনি আমাকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহে যখন আমি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করি, তিনি আমাকে বলেন যে তিনি আশা করেন নির্বাচনের দিনটি হবে উৎসবমুখর। আমিও সেই আশা করি। আমি চাই, নির্বাচনের দিনটি হোক উৎসবমুখর, বাংলাদেশের জনগণ যেন অবাধে ভোট দিতে পারে এবং নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারে, এবং নির্বাচনটি যেন সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, মার্কিন সিনেটে আমার নিশ্চিতকরণ শুনানির সময় থেকেই আমি আসন্ন নির্বাচন নিয়ে খুবই আগ্রহী। আমি নির্বাচনটি নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী এবং এর ফলাফল দেখার জন্য অধীর অপেক্ষায় আছি।

তিনি আরও বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে তথ্যগুলো আমার সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন, সেগুলো নিয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট। আপনাদের সবার মতো আমিও ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের ফলাফল দেখার অপেক্ষায়।

আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বেলা পৌনে ১২টার দিকে এ বৈঠক শুরু হয়। মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধি দলে ছিলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা ডেভিড মু ও ফিরোজ আহমেদ। বৈঠকে সিইসির সঙ্গে ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দেওয়ার পর সিইসির সঙ্গে এটি প্রথম বৈঠক। তিনি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। গত ১২ জানুয়ারি তিনি ঢাকায় আসেন।

গত সেপ্টেম্বরে ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে ‘অ্যাম্বাসেডর এক্সট্রাঅর্ডিনারি অ্যান্ড প্লেনিপটেনশিয়ারি’ হিসেবে মনোনয়ন দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর গত মাসে মার্কিন সিনেটের অনুমোদন পান তিনি।

কূটনীতিক হিসেবে ক্রিস্টেনসেনের বাংলাদেশে আসা এবারই প্রথম নয়। চার বছর আগে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন তিনি।

/এফসি/