শিরোনাম

২০ চীনা যুদ্ধবিমান কিনছে সরকার, ব্যয় ২৬ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ চীনা যুদ্ধবিমান কিনছে সরকার, ব্যয় ২৬ হাজার কোটি টাকা
জে-১০সিই মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান

চীন থেকে ২০টি জে-১০সিই মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কিনতে আলোচনার জন্য খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ। ২০২৭ সাল নাগাদ ৪.৫ প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমান কেনা, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য খরচসহ মোট ব্যয় হবে ২.২০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। এসব যুদ্ধবিমানের মূল্য ২০৩৫-২০৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে ১০টি বিমান ঘাটতি পূরণে (টিওঅ্যান্ডই) এবং বাকি ১০টি বিমান কেনা হবে বিমানবাহিনীর নতুন স্কোয়াড্রন গঠনের জন্য কেনা হবে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, চীন থেকে জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে সরকার।

নথি সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিমানবাহিনীর চিঠিতে যুদ্ধবিমানগুলোর ব্যয় এবং প্রশিক্ষণ-পরিবহন সরঞ্জামের খরচ সম্পর্কে জানানো হয়। প্রতিটি যুদ্ধবিমানের দাম ৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসেবে প্রতিটি বিমানের দাম পড়বে ৭৭১ কোটি টাকা। ২০টি বিমানের জন্য খরচ হবে ১২৫ কোটি ৬২ লাখ ডলার বা সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা। আর বিমান পরিচালনার প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় অপারেশন সরঞ্জামের জন্য খরচ হবে আরও ৮৮ লাখ ৮৩ হাজার ডলার। মোট ছয়টি খাতে এই অর্থ ব্যয় হবে।

প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে ৬টি জে-১০ চায় বাংলাদেশ। বাকি ১৪টি পরবর্তী সময় ধাপে ধাপে আসবে। যুদ্ধবিমান ছাড়াও অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, দূরপাল্লার রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম ও প্যাসিভ ডিফেন্স সিস্টেম কেনার কারিগরি মূল্যায়ন চলছে।

নথি সূত্রে জানা গেছে, জে-১০ এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার ক্রয়ে গঠিত কমিটি বৈঠকের মাধ্যমে খসড়া চুক্তিপত্র তৈরি করে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে পাঠিয়েছে। চুক্তি সাপেক্ষে বিমানবাহিনীর নতুন মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট ইউনিট গঠন করা হবে। এয়ার ওয়ারফেয়ার সেন্টার, ফিল্ড ইউনিট, বিমানবাহিনী ঘাঁটি পুনর্গঠন করা হবে। অ্যারোস্পেস গবেষণা ও উন্নয়ন কমপ্লেক্স স্থাপনের কিছু কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিমানবাহিনীর উড্ডয়ন ও পরিচালন কার্যক্রম সম্প্রসারণে বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিমানঘাঁটি স্থাপনে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে।

গত বছরের ৫ এপ্রিল অন্তর্বর্তী সরকার এই ক্রয় প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল। সরকারের যুক্তি ছিল, বাংলাদেশের যুদ্ধবিমানগুলো পুরোনো। আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় কার্যকর কি না, সন্দেহ রয়েছে।

চীনের বিমানবাহিনী জে-১০সি-এর ব্যবহ্রত যুদ্ধবিমানের রপ্তানি সংস্করণ হলো জে-১০ সিই। গত বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে এই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ফ্রান্সের তৈরি অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল পাকিস্তান। এরপরই বিমানটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা শুরু হয়।

/জেএইচ/