শিরোনাম

২০ হাজার টাকায় দেশে ফিরতে পারবেন সৌদি প্রবাসীরা

২০ হাজার টাকায় দেশে ফিরতে পারবেন সৌদি প্রবাসীরা
ছবি: প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সাশ্রয়ী ভাড়ায় দেশে যাতায়াতের সুযোগ নিশ্চিত করতে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। সৌদি আরব ও বাংলাদেশ রুটে একমুখী টিকিটের ভাড়া মাত্র ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগ প্রবাসী কর্মীদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সাক্ষাৎকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করবে।

এর ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১০০ কোটিরও বেশি টাকা অতিরিক্ত আয় করতে পারবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় সৌদি আরব ও বাংলাদেশ মিলিয়ে মোট ৮০ হাজার টিকিট বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন প্রবাসী কর্মীরা উপকৃত হবেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা আর্থিকভাবে উল্লেখযোগ্য লাভের মুখ দেখবে।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে হজ ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে আগে একমুখী যাত্রীশূন্য ফ্লাইট পরিচালনার যে চর্চা ছিল, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এর ফলে বিমানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১০০ কোটিরও বেশি টাকা অতিরিক্ত আয় অর্জনের বাস্তব সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন উপদেষ্টা জানান, এই বিশেষ ব্যবস্থায় মদিনা-ঢাকা ও জেদ্দা-ঢাকা রুটে একমুখী সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৫০০ টাকা। যেখানে মদিনা-ঢাকা-মদিনা (রিটার্ন টিকিটসহ) সর্বনিম্ন ভাড়া ৪২ হাজার টাকা এবং জেদ্দা-ঢাকা-জেদ্দা রুটে সর্বনিম্ন ভাড়া ৪০ হাজার টাকা।

বাংলাদেশে ফেরার ক্ষেত্রে এই বিশেষ ভাড়া কার্যকর থাকবে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল থেকে ২৫ মে পর্যন্ত। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে ফেরার ক্ষেত্রে কার্যকর থাকবে এ বছরের ৩০ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত।

এই উদ্যোগকে প্রবাসীবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পদক্ষেপটি গ্রহণের জন‍্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনযাত্রা আরও সহজ করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।

তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে দেখা গেছে প্রবাসীদের সুবিধা বিবেচনায় অনেক ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হলেও সঠিক পরিচর্যার অভাবে কিছুদিন পর তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাই খেয়াল রাখতে হবে এই উদ্যোগটি যেন শতভাগ কার্যকর থাকে।’

/জেএইচ/