মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক: রফিকুন নবী
সিটিজেন ডেস্ক

মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক: রফিকুন নবী
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ০১: ৪৩

দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা ও ভাস্কর্যে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনাকে গভীর উদ্বেগের বলে মন্তব্য করেছেন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী। তিনি বলেন, এসব ঘটনা শুধু ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড নয়, বরং এর মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে ফেলার একটি চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সোমবার (১৮ মে) বিকালে রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বজলুর রহমান স্মৃতিপদক ২০২৫’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রসঙ্গ টেনে রফিকুন নবী বলেন, মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকাতেও ভাস্কর্য ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব আবার তৈরি করা যাবে, কিন্তু যে কারণে ভাঙা হলো, সেটিই আমাদের ভাবিয়ে তোলে।
মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়ার মানসিকতা থেকেই এসব কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কখনো মুছে ফেলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন এই শিল্পী।
রফিকুন নবী বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি, সেই অভিজ্ঞতা ধারণ করি। সেই জায়গা থেকে সরে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে বেঁচে থাকাকে দায়িত্ব হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁদের প্রজন্মের কাছে আজও জীবন্ত।
তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে রফিকুন নবী বলেন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভিডিও, সাংবাদিকতা ও বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম এখনো এ ইতিহাসকে ধারণ করছে। “এসব দেখলে সাহস পাই,” বলেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংবাদিকতায় তিন সাংবাদিককে সম্মাননা
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার ‘বজলুর রহমান স্মৃতিপদক ২০২৫’ পেয়েছেন তিন সাংবাদিক। প্রিন্ট ও অনলাইন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন ডেইলি স্টারের প্রতিবেদক আহমাদ ইশতিয়াক। ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিভাগে সম্মাননা পেয়েছেন যমুনা টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আহমেদ রেজা এবং একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি পার্থ সনজয়।
স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক বজলুর রহমানের স্মরণে এই পদক প্রবর্তন করা হয়। ২০০৮ সালে তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী-র উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এ পুরস্কার চালু করে। এক দশকের বেশি সময় ধরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সেরা প্রতিবেদনের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের অর্থমূল্য এক লাখ টাকা, সঙ্গে রয়েছে ক্রেস্ট ও সনদ।
‘ইতিহাসের পতাকা এখন তরুণদের হাতে’
অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্যসচিব মফিদুল হক। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংবাদিকতার এই আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের সামনে ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্নও তুলে ধরে।
তিনি বলেন, যাঁদের জন্ম মুক্তিযুদ্ধের বহু বছর পরে, তাঁরাও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও গবেষণার মাধ্যমে ইতিহাসের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার প্রকাশ করছেন। এই মানবিকতা ও সংবেদনশীলতাই ভবিষ্যতের সাংবাদিকতাকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মফিদুল হক বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালে গণহত্যার শুরুতেই সংবাদপত্রের ওপর হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দেশের সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, বরং জাতির সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের অংশ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রহমান। তিনি বলেন, অনেক তরুণ এখনো মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য গণআন্দোলনের ইতিহাস আলাদা করে বুঝতে পারে না, যা জাতির জন্য উদ্বেগজনক।
তার মতে, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
সংবাদমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা এখনো রয়েছে
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্যের বিস্তার থাকলেও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য মানুষ এখনো সংবাদমাধ্যমের ওপর আস্থা রাখে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, এ বছর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আর্কাইভ ও গবেষণা উপকরণ সাংবাদিকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে তরুণ সাংবাদিকেরা উচ্চমানের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করতে পেরেছেন।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এক কোটি টাকার অনুদান
মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যাবিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম জোরদারে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর-কে এককালীন এক কোটি টাকার অনুদান দিয়েছে মীর আশরাফুল হক রিসার্চ ফান্ড।
এই তহবিল থেকে অর্জিত অর্থ গণহত্যা, মুক্তিযুদ্ধ ও শান্তি শিক্ষা–সংক্রান্ত গবেষণা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান প্রসারে ব্যয় করা হবে। তহবিল পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে জাদুঘরের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব জেনোসাইড অ্যান্ড জাস্টিস’।
অনুষ্ঠানে কানাডার সাসক্যাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মবিনুল হক মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলীর হাতে এক কোটি টাকার চেক তুলে দেন।
সোমবার (১৮ মে) বিকালে রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বজলুর রহমান স্মৃতিপদক ২০২৫’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রসঙ্গ টেনে রফিকুন নবী বলেন, মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকাতেও ভাস্কর্য ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব আবার তৈরি করা যাবে, কিন্তু যে কারণে ভাঙা হলো, সেটিই আমাদের ভাবিয়ে তোলে।
মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়ার মানসিকতা থেকেই এসব কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কখনো মুছে ফেলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন এই শিল্পী।
রফিকুন নবী বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি, সেই অভিজ্ঞতা ধারণ করি। সেই জায়গা থেকে সরে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে বেঁচে থাকাকে দায়িত্ব হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁদের প্রজন্মের কাছে আজও জীবন্ত।
তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে রফিকুন নবী বলেন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভিডিও, সাংবাদিকতা ও বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম এখনো এ ইতিহাসকে ধারণ করছে। “এসব দেখলে সাহস পাই,” বলেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংবাদিকতায় তিন সাংবাদিককে সম্মাননা
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার ‘বজলুর রহমান স্মৃতিপদক ২০২৫’ পেয়েছেন তিন সাংবাদিক। প্রিন্ট ও অনলাইন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন ডেইলি স্টারের প্রতিবেদক আহমাদ ইশতিয়াক। ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিভাগে সম্মাননা পেয়েছেন যমুনা টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আহমেদ রেজা এবং একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি পার্থ সনজয়।
স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক বজলুর রহমানের স্মরণে এই পদক প্রবর্তন করা হয়। ২০০৮ সালে তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী-র উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এ পুরস্কার চালু করে। এক দশকের বেশি সময় ধরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সেরা প্রতিবেদনের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের অর্থমূল্য এক লাখ টাকা, সঙ্গে রয়েছে ক্রেস্ট ও সনদ।
‘ইতিহাসের পতাকা এখন তরুণদের হাতে’
অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্যসচিব মফিদুল হক। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংবাদিকতার এই আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের সামনে ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্নও তুলে ধরে।
তিনি বলেন, যাঁদের জন্ম মুক্তিযুদ্ধের বহু বছর পরে, তাঁরাও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও গবেষণার মাধ্যমে ইতিহাসের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার প্রকাশ করছেন। এই মানবিকতা ও সংবেদনশীলতাই ভবিষ্যতের সাংবাদিকতাকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মফিদুল হক বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালে গণহত্যার শুরুতেই সংবাদপত্রের ওপর হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দেশের সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, বরং জাতির সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের অংশ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রহমান। তিনি বলেন, অনেক তরুণ এখনো মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য গণআন্দোলনের ইতিহাস আলাদা করে বুঝতে পারে না, যা জাতির জন্য উদ্বেগজনক।
তার মতে, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
সংবাদমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা এখনো রয়েছে
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্যের বিস্তার থাকলেও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য মানুষ এখনো সংবাদমাধ্যমের ওপর আস্থা রাখে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, এ বছর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আর্কাইভ ও গবেষণা উপকরণ সাংবাদিকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে তরুণ সাংবাদিকেরা উচ্চমানের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করতে পেরেছেন।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এক কোটি টাকার অনুদান
মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যাবিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম জোরদারে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর-কে এককালীন এক কোটি টাকার অনুদান দিয়েছে মীর আশরাফুল হক রিসার্চ ফান্ড।
এই তহবিল থেকে অর্জিত অর্থ গণহত্যা, মুক্তিযুদ্ধ ও শান্তি শিক্ষা–সংক্রান্ত গবেষণা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান প্রসারে ব্যয় করা হবে। তহবিল পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে জাদুঘরের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব জেনোসাইড অ্যান্ড জাস্টিস’।
অনুষ্ঠানে কানাডার সাসক্যাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মবিনুল হক মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলীর হাতে এক কোটি টাকার চেক তুলে দেন।

দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা ও ভাস্কর্যে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনাকে গভীর উদ্বেগের বলে মন্তব্য করেছেন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী। তিনি বলেন, এসব ঘটনা শুধু ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড নয়, বরং এর মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে ফেলার একটি চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সোমবার (১৮ মে) বিকালে রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বজলুর রহমান স্মৃতিপদক ২০২৫’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রসঙ্গ টেনে রফিকুন নবী বলেন, মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকাতেও ভাস্কর্য ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব আবার তৈরি করা যাবে, কিন্তু যে কারণে ভাঙা হলো, সেটিই আমাদের ভাবিয়ে তোলে।
মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়ার মানসিকতা থেকেই এসব কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কখনো মুছে ফেলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন এই শিল্পী।
রফিকুন নবী বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি, সেই অভিজ্ঞতা ধারণ করি। সেই জায়গা থেকে সরে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে বেঁচে থাকাকে দায়িত্ব হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁদের প্রজন্মের কাছে আজও জীবন্ত।
তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে রফিকুন নবী বলেন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভিডিও, সাংবাদিকতা ও বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম এখনো এ ইতিহাসকে ধারণ করছে। “এসব দেখলে সাহস পাই,” বলেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংবাদিকতায় তিন সাংবাদিককে সম্মাননা
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার ‘বজলুর রহমান স্মৃতিপদক ২০২৫’ পেয়েছেন তিন সাংবাদিক। প্রিন্ট ও অনলাইন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন ডেইলি স্টারের প্রতিবেদক আহমাদ ইশতিয়াক। ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিভাগে সম্মাননা পেয়েছেন যমুনা টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আহমেদ রেজা এবং একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি পার্থ সনজয়।
স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক বজলুর রহমানের স্মরণে এই পদক প্রবর্তন করা হয়। ২০০৮ সালে তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী-র উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এ পুরস্কার চালু করে। এক দশকের বেশি সময় ধরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সেরা প্রতিবেদনের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের অর্থমূল্য এক লাখ টাকা, সঙ্গে রয়েছে ক্রেস্ট ও সনদ।
‘ইতিহাসের পতাকা এখন তরুণদের হাতে’
অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্যসচিব মফিদুল হক। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংবাদিকতার এই আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের সামনে ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্নও তুলে ধরে।
তিনি বলেন, যাঁদের জন্ম মুক্তিযুদ্ধের বহু বছর পরে, তাঁরাও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও গবেষণার মাধ্যমে ইতিহাসের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার প্রকাশ করছেন। এই মানবিকতা ও সংবেদনশীলতাই ভবিষ্যতের সাংবাদিকতাকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মফিদুল হক বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালে গণহত্যার শুরুতেই সংবাদপত্রের ওপর হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দেশের সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, বরং জাতির সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের অংশ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রহমান। তিনি বলেন, অনেক তরুণ এখনো মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য গণআন্দোলনের ইতিহাস আলাদা করে বুঝতে পারে না, যা জাতির জন্য উদ্বেগজনক।
তার মতে, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
সংবাদমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা এখনো রয়েছে
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্যের বিস্তার থাকলেও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য মানুষ এখনো সংবাদমাধ্যমের ওপর আস্থা রাখে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, এ বছর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আর্কাইভ ও গবেষণা উপকরণ সাংবাদিকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে তরুণ সাংবাদিকেরা উচ্চমানের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করতে পেরেছেন।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এক কোটি টাকার অনুদান
মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যাবিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম জোরদারে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর-কে এককালীন এক কোটি টাকার অনুদান দিয়েছে মীর আশরাফুল হক রিসার্চ ফান্ড।
এই তহবিল থেকে অর্জিত অর্থ গণহত্যা, মুক্তিযুদ্ধ ও শান্তি শিক্ষা–সংক্রান্ত গবেষণা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান প্রসারে ব্যয় করা হবে। তহবিল পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে জাদুঘরের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব জেনোসাইড অ্যান্ড জাস্টিস’।
অনুষ্ঠানে কানাডার সাসক্যাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মবিনুল হক মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলীর হাতে এক কোটি টাকার চেক তুলে দেন।
সোমবার (১৮ মে) বিকালে রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বজলুর রহমান স্মৃতিপদক ২০২৫’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রসঙ্গ টেনে রফিকুন নবী বলেন, মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকাতেও ভাস্কর্য ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব আবার তৈরি করা যাবে, কিন্তু যে কারণে ভাঙা হলো, সেটিই আমাদের ভাবিয়ে তোলে।
মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়ার মানসিকতা থেকেই এসব কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কখনো মুছে ফেলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন এই শিল্পী।
রফিকুন নবী বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি, সেই অভিজ্ঞতা ধারণ করি। সেই জায়গা থেকে সরে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে বেঁচে থাকাকে দায়িত্ব হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁদের প্রজন্মের কাছে আজও জীবন্ত।
তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে রফিকুন নবী বলেন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভিডিও, সাংবাদিকতা ও বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম এখনো এ ইতিহাসকে ধারণ করছে। “এসব দেখলে সাহস পাই,” বলেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংবাদিকতায় তিন সাংবাদিককে সম্মাননা
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার ‘বজলুর রহমান স্মৃতিপদক ২০২৫’ পেয়েছেন তিন সাংবাদিক। প্রিন্ট ও অনলাইন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন ডেইলি স্টারের প্রতিবেদক আহমাদ ইশতিয়াক। ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিভাগে সম্মাননা পেয়েছেন যমুনা টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আহমেদ রেজা এবং একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি পার্থ সনজয়।
স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক বজলুর রহমানের স্মরণে এই পদক প্রবর্তন করা হয়। ২০০৮ সালে তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী-র উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এ পুরস্কার চালু করে। এক দশকের বেশি সময় ধরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সেরা প্রতিবেদনের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের অর্থমূল্য এক লাখ টাকা, সঙ্গে রয়েছে ক্রেস্ট ও সনদ।
‘ইতিহাসের পতাকা এখন তরুণদের হাতে’
অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্যসচিব মফিদুল হক। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংবাদিকতার এই আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের সামনে ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্নও তুলে ধরে।
তিনি বলেন, যাঁদের জন্ম মুক্তিযুদ্ধের বহু বছর পরে, তাঁরাও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও গবেষণার মাধ্যমে ইতিহাসের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার প্রকাশ করছেন। এই মানবিকতা ও সংবেদনশীলতাই ভবিষ্যতের সাংবাদিকতাকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মফিদুল হক বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালে গণহত্যার শুরুতেই সংবাদপত্রের ওপর হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দেশের সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, বরং জাতির সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের অংশ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রহমান। তিনি বলেন, অনেক তরুণ এখনো মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য গণআন্দোলনের ইতিহাস আলাদা করে বুঝতে পারে না, যা জাতির জন্য উদ্বেগজনক।
তার মতে, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
সংবাদমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা এখনো রয়েছে
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্যের বিস্তার থাকলেও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য মানুষ এখনো সংবাদমাধ্যমের ওপর আস্থা রাখে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, এ বছর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আর্কাইভ ও গবেষণা উপকরণ সাংবাদিকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে তরুণ সাংবাদিকেরা উচ্চমানের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করতে পেরেছেন।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এক কোটি টাকার অনুদান
মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যাবিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম জোরদারে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর-কে এককালীন এক কোটি টাকার অনুদান দিয়েছে মীর আশরাফুল হক রিসার্চ ফান্ড।
এই তহবিল থেকে অর্জিত অর্থ গণহত্যা, মুক্তিযুদ্ধ ও শান্তি শিক্ষা–সংক্রান্ত গবেষণা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান প্রসারে ব্যয় করা হবে। তহবিল পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে জাদুঘরের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব জেনোসাইড অ্যান্ড জাস্টিস’।
অনুষ্ঠানে কানাডার সাসক্যাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মবিনুল হক মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলীর হাতে এক কোটি টাকার চেক তুলে দেন।

মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক: রফিকুন নবী
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ০১: ৪৩

দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা ও ভাস্কর্যে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনাকে গভীর উদ্বেগের বলে মন্তব্য করেছেন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী। তিনি বলেন, এসব ঘটনা শুধু ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড নয়, বরং এর মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে ফেলার একটি চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সোমবার (১৮ মে) বিকালে রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বজলুর রহমান স্মৃতিপদক ২০২৫’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রসঙ্গ টেনে রফিকুন নবী বলেন, মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকাতেও ভাস্কর্য ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব আবার তৈরি করা যাবে, কিন্তু যে কারণে ভাঙা হলো, সেটিই আমাদের ভাবিয়ে তোলে।
মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়ার মানসিকতা থেকেই এসব কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কখনো মুছে ফেলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন এই শিল্পী।
রফিকুন নবী বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি, সেই অভিজ্ঞতা ধারণ করি। সেই জায়গা থেকে সরে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে বেঁচে থাকাকে দায়িত্ব হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁদের প্রজন্মের কাছে আজও জীবন্ত।
তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে রফিকুন নবী বলেন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভিডিও, সাংবাদিকতা ও বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম এখনো এ ইতিহাসকে ধারণ করছে। “এসব দেখলে সাহস পাই,” বলেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংবাদিকতায় তিন সাংবাদিককে সম্মাননা
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার ‘বজলুর রহমান স্মৃতিপদক ২০২৫’ পেয়েছেন তিন সাংবাদিক। প্রিন্ট ও অনলাইন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন ডেইলি স্টারের প্রতিবেদক আহমাদ ইশতিয়াক। ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিভাগে সম্মাননা পেয়েছেন যমুনা টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আহমেদ রেজা এবং একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি পার্থ সনজয়।
স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক বজলুর রহমানের স্মরণে এই পদক প্রবর্তন করা হয়। ২০০৮ সালে তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী-র উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এ পুরস্কার চালু করে। এক দশকের বেশি সময় ধরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সেরা প্রতিবেদনের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের অর্থমূল্য এক লাখ টাকা, সঙ্গে রয়েছে ক্রেস্ট ও সনদ।
‘ইতিহাসের পতাকা এখন তরুণদের হাতে’
অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্যসচিব মফিদুল হক। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংবাদিকতার এই আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের সামনে ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্নও তুলে ধরে।
তিনি বলেন, যাঁদের জন্ম মুক্তিযুদ্ধের বহু বছর পরে, তাঁরাও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও গবেষণার মাধ্যমে ইতিহাসের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার প্রকাশ করছেন। এই মানবিকতা ও সংবেদনশীলতাই ভবিষ্যতের সাংবাদিকতাকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মফিদুল হক বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালে গণহত্যার শুরুতেই সংবাদপত্রের ওপর হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দেশের সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, বরং জাতির সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের অংশ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রহমান। তিনি বলেন, অনেক তরুণ এখনো মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য গণআন্দোলনের ইতিহাস আলাদা করে বুঝতে পারে না, যা জাতির জন্য উদ্বেগজনক।
তার মতে, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
সংবাদমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা এখনো রয়েছে
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্যের বিস্তার থাকলেও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য মানুষ এখনো সংবাদমাধ্যমের ওপর আস্থা রাখে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, এ বছর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আর্কাইভ ও গবেষণা উপকরণ সাংবাদিকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে তরুণ সাংবাদিকেরা উচ্চমানের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করতে পেরেছেন।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এক কোটি টাকার অনুদান
মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যাবিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম জোরদারে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর-কে এককালীন এক কোটি টাকার অনুদান দিয়েছে মীর আশরাফুল হক রিসার্চ ফান্ড।
এই তহবিল থেকে অর্জিত অর্থ গণহত্যা, মুক্তিযুদ্ধ ও শান্তি শিক্ষা–সংক্রান্ত গবেষণা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান প্রসারে ব্যয় করা হবে। তহবিল পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে জাদুঘরের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব জেনোসাইড অ্যান্ড জাস্টিস’।
অনুষ্ঠানে কানাডার সাসক্যাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মবিনুল হক মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলীর হাতে এক কোটি টাকার চেক তুলে দেন।
সোমবার (১৮ মে) বিকালে রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বজলুর রহমান স্মৃতিপদক ২০২৫’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রসঙ্গ টেনে রফিকুন নবী বলেন, মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকাতেও ভাস্কর্য ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব আবার তৈরি করা যাবে, কিন্তু যে কারণে ভাঙা হলো, সেটিই আমাদের ভাবিয়ে তোলে।
মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়ার মানসিকতা থেকেই এসব কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কখনো মুছে ফেলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন এই শিল্পী।
রফিকুন নবী বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি, সেই অভিজ্ঞতা ধারণ করি। সেই জায়গা থেকে সরে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে বেঁচে থাকাকে দায়িত্ব হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁদের প্রজন্মের কাছে আজও জীবন্ত।
তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে রফিকুন নবী বলেন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভিডিও, সাংবাদিকতা ও বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম এখনো এ ইতিহাসকে ধারণ করছে। “এসব দেখলে সাহস পাই,” বলেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংবাদিকতায় তিন সাংবাদিককে সম্মাননা
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার ‘বজলুর রহমান স্মৃতিপদক ২০২৫’ পেয়েছেন তিন সাংবাদিক। প্রিন্ট ও অনলাইন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন ডেইলি স্টারের প্রতিবেদক আহমাদ ইশতিয়াক। ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিভাগে সম্মাননা পেয়েছেন যমুনা টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আহমেদ রেজা এবং একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি পার্থ সনজয়।
স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক বজলুর রহমানের স্মরণে এই পদক প্রবর্তন করা হয়। ২০০৮ সালে তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী-র উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এ পুরস্কার চালু করে। এক দশকের বেশি সময় ধরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সেরা প্রতিবেদনের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের অর্থমূল্য এক লাখ টাকা, সঙ্গে রয়েছে ক্রেস্ট ও সনদ।
‘ইতিহাসের পতাকা এখন তরুণদের হাতে’
অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্যসচিব মফিদুল হক। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংবাদিকতার এই আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের সামনে ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্নও তুলে ধরে।
তিনি বলেন, যাঁদের জন্ম মুক্তিযুদ্ধের বহু বছর পরে, তাঁরাও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও গবেষণার মাধ্যমে ইতিহাসের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার প্রকাশ করছেন। এই মানবিকতা ও সংবেদনশীলতাই ভবিষ্যতের সাংবাদিকতাকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মফিদুল হক বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালে গণহত্যার শুরুতেই সংবাদপত্রের ওপর হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দেশের সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, বরং জাতির সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের অংশ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রহমান। তিনি বলেন, অনেক তরুণ এখনো মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য গণআন্দোলনের ইতিহাস আলাদা করে বুঝতে পারে না, যা জাতির জন্য উদ্বেগজনক।
তার মতে, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
সংবাদমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা এখনো রয়েছে
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্যের বিস্তার থাকলেও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য মানুষ এখনো সংবাদমাধ্যমের ওপর আস্থা রাখে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, এ বছর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আর্কাইভ ও গবেষণা উপকরণ সাংবাদিকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে তরুণ সাংবাদিকেরা উচ্চমানের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করতে পেরেছেন।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এক কোটি টাকার অনুদান
মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যাবিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম জোরদারে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর-কে এককালীন এক কোটি টাকার অনুদান দিয়েছে মীর আশরাফুল হক রিসার্চ ফান্ড।
এই তহবিল থেকে অর্জিত অর্থ গণহত্যা, মুক্তিযুদ্ধ ও শান্তি শিক্ষা–সংক্রান্ত গবেষণা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান প্রসারে ব্যয় করা হবে। তহবিল পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে জাদুঘরের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব জেনোসাইড অ্যান্ড জাস্টিস’।
অনুষ্ঠানে কানাডার সাসক্যাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মবিনুল হক মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলীর হাতে এক কোটি টাকার চেক তুলে দেন।
/এমআর/




